Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ইরানের ওপর আমেরিকার বিধ্বংসী হানায় গোটা আবর দুনিয়া জুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরু হতে ১০০ দিনের সামান্য বেশি বাকি। এইমুহূর্তে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইরান ও আশেপাশের দেশগুলিতে, তাতে বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষে বলা শক্ত, ইরানের ওপর আমেরিকার বোমা বর্ষণের পর আদৌ ইরান আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কিনা। ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা কোথায় এই অবস্থায়?‌

ইরানের ফুটবল কর্তা মেহদি তাজের বক্তব্য, ‘‌ একটা বিষয় খুব পরিষ্কার, এই ধরনের আক্রমণের পর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে আমি অন্তত খুব একটা আশাবাদী নই।’‌ ইজরায়েলি ও আমেরিকার যৌথ হানায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লা খোমেইনির প্রাণহানিতে পরিস্থিতি ঘোরালো আকার নিয়েছে। আরব দুনিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে যুদ্ধের পরিবেশে।

বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপের প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৫ জুন ক্যালেফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে। ২১ জুন প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। ২৬ জুন ইরান খেলবে মিশরের বিরুদ্ধে। ইরান যদি শেষপর্যন্ত বিশবকাপের ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে ফিফাকে বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে সূচী নিয়ে। এমনিতেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই আমেরিকায় ইরানের দর্শক ও সমর্থকদের প্রবেশাধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ ছিলেনই ইরানের মানুষ।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এব্যাপারে এখনও মুখ খোলেননি। তিনি গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। যদি ইরান সত্যি সত্যি বিশ্বকাপ বয়কট করে , তাহলে তাঁকে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করতে হবে সূচী নিয়ে। পরিবর্ত দল নিয়েও। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে, ফিফার জেনারেল সেক্রেটারি মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রমের কথায়। ইনফান্তিনোর সঙ্গে ২০২৬ সাল থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করা গ্রাফস্ট্রম মন্তব্য করেছেন, ‘‌ আমরা নিজেদের মধ্যে একটা আলোচনা সেরেছি। বিশদভাবে এখনই তা নিয়ে বলার সময় হয়নি। তবে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। ওয়াশিংটনে চুড়ান্ত ড্র হয়েছিল। যেখানে সব দলই অংশ নিয়েছিল ইরান সমেত। তবে পরিস্থিতি আপাতত বদল হয়েছে। আমারদের একটাই লক্ষ্য এমন একটা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বকাপ, যেখানে সব দল নির্ভয়ে অংশগ্রহণ করবে। আমরা বিশ্বকাপের তিনটি আয়োজক দেশের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখে চলেছি। সবার নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে।’‌

যদি ইরান শেষপর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে, ফিফার হাতে ক্ষমতা আছে তাদের বদলি দলকে নেওয়ার। সেক্ষেত্রে ইরানের পরিবর্ত হিসেবে প্লেঅফ কোয়ালিফাইম রাউন্ডের রানার্স দলকে সরাসরি খেলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অথবা এই কনফেডারেশনের ক্রমতালিকায় সবচেয়ে ওপর থাকা দল, যারা মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অন্তর্ভূক্তি করে নেওয়া যেতে পারে। এতে একসঙ্গে তিনটি সমস্যার সমাধানের রাস্তা খোলা আছে ফিফার সামনে। এশিয়ান গ্রুপে ইরাকের কাছে প্লেঅফে হারা র‌্যাঙ্কিংয়ে ইরানের ঠিক পিছনে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ এসে যাবে। এছাড়া ফিফার সামনে ইরানের জায়গায় ইরাককে নেওয়ার সুযোগ আছে, যারা ইন্টার কনফেডারেশন প্লেঅফে হেরে যায়। বলিভিয়া ও সুরিনামের মধ্যে প্লেঅফ সেমিফাইনাল ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে ইরাক। মেক্সিকোর গুয়াদালউপেতে ৩১ মার্চ। এই ম্যাচের বিজয়ী দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার কথা।

যদি সময় থাকে ইরানের পরিবর্ত নেওয়ার সম্ভব না হয়, তাহলে গ্রুপ জি-‌তে বেলজিয়াম, মিশর, নিউজিল্যাডকে রেখেই বিশ্বকাপ চালি রাখবে ফিফা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *