অলস্পোর্ট ডেস্ক: একজন এআইএফএফের প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল। অন্যজন বর্তমান সভাপতি কল্যান চৌবে। প্রফুল প্যাটেলের দীর্ঘসময় ধরে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির পদ আঁকড়ে থাকা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত ব্যাপারটা আদালতে গড়ালে, তিনি সরে দাঁড়ান। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন হলে সভাপতি পদে আসেন কল্যান। তাতেও যে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিশেষ কোনও কল্যান হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না। বরং মহিলা ফুটবলে ভারতীয় দলের নজরকাড়া সাফল্য এলেও বাকি বিষয়ে বিশেষ করে ভারতীয় পুরুষ দলের পারফরমেন্স ঘিরে হতাশাজনক ফল ও সাম্প্রতিক আইএসএল আয়োজন ঘিরে অনিশ্চয়তা কল্যানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রফুল যখন ফেডারেশন সভাপতি পদে ফেরার লক্ষ্যে স্পোর্টস বিল ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যর প্রশংসায় সোচ্চার, তখন নিদের পদ বাঁচাতে একই পথে হেঁটেছেন কল্যান।
উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল ও বর্তমান সভাপতি কল্যান চৌবে লোকসভা ও রাজ্যসভায় জাতীয় ক্রীড়া বিল( ন্যাশানাল স্পোর্টস গভর্নেন্স বিল) ও অ্যান্টি ডোপিং সংশোধনী বিল পাসকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবল উচ্ছ্বাস দেখিয়ে। দু’জনেই কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, বহু প্রতীক্ষিত স্পোর্টস বিল দুই সদনে পেশ করতে ও পাস করাতে যে উদ্যোগ ক্রীড়ামন্ত্রী নিয়েছেন, তা এককথায় অসাধারন। এই স্পোর্টস বিল ভারতীয় খেলাধুলোর ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর ক্ষেত্রে এই বিলের গুরুত্ব অপরীসিম। বিভিন্ন ক্রীড়াসংস্থার পরিচালন ব্যবস্থা থেকে একাধিক ভাগাভাগি ও বিবাদের জেরে প্রকৃত স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে অনেক আইনি জট পাকিয়ে আছে। সেগুলো এবার মিটবে। আদালতের রায়ের জন্য বছরের পর বছর আর তাকিয়ে থাকতে হবে না। সময় ও অর্থ, দুটোরই অপচয় বন্ধ হবে। বরং সেই অর্থ খেলাধুলোর উন্নতিতে ব্যয় করতে পারবে ক্রীড়াসংস্থাগুলো। এছাড়া, এই বিলের কারণে বিভিন্ন ক্রীড়াসংস্থায় অ্যাথলিটদের বেশি করে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বাড়তি সুযোগ পাবে। বিশেষ করে মহিলা খেলোয়াড়দের।
স্পোর্টস বিলে সব সংস্থাকে শুধুমাত্র ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও প্যারালিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এক ছাতার তলায়আনার সিদ্ধান্তকেও সকলে একবাক্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কমনওয়েলথ গেমস ও ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের বিডের ক্ষেত্রেও এই ক্রীড়া বিলের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকবে বলেও মনে করেছেন সকলে।
বিলের একটা অংশে বিভিন্ন সংস্থার পদাধিকারীদের বয়সের সীমায় অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বয়সের সীমাটা ৭০ থেকে ৭৫ করা হয়েছে। এটা প্রফুল প্যাটেলের মতো কর্তাদের জন্য সুখবর। তাঁর সামনে ফেডারেশন সভাপতি পদে নির্বাচন লড়ার সুযোগ এসে গেল নতুন করে। বর্তমান সভাপতি কল্যানের যা নড়বড়ে অবস্থা, তাতে প্রফুল লড়াইয়ের ময়দানে নামলে কল্যানের বিদায় ঘটা বেজে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। ঘরে বাইরে কল্যান অপ্রিয় হয়ে গেছেন প্রশাসনিক অদক্ষতার জন্য। সভাপতি পদে অরবিন্দ মেননের নির্বাচনে লড়ার কথাও শোনা গেছে। তবে দীর্ঘসময় ধরে ফুটবল প্রশাসনে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা ও সফলভাবে ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ঘণিষ্ঠ প্রফুলের পাল্লা ভারি থাকবে, সভাপতি পদে নির্বাচনে লড়লে।
প্রফুল প্যাটেল যদি ক্ষমতায় ফিরতে পারেন, তাহলে কুলিং অফের নিয়মে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়া আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্তর সামনে ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার দরজা খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দেখা যাক, শেষপর্যন্ত জল কোনদিকে গড়ায়। আপাতত সকলের নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। দেশের শীর্ষ আদালতের দেওয়া সংশোধিত সংবিধানের ওপর চুড়ান্ত রায় ঘোষণার। যার ভিত্তিতে ফেডারেশনের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
