Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: প্রতিপক্ষ যখন কেরালা ব্লাস্টার্স তখন মোহনবাগানের সাহাল আব্দুল সামাদকে ঘিরে যে উত্তেজনা অনেকটাই বেশি থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। আর সেই ম্যাচের আগের বিকেলে ক্লাব তাঁবুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হলেন তিনিই। সাধারণত, কোচই আগে আসেন সাংবাদিক সম্মেলনে কিন্তু কলকাতায় জ্যামে আটকে কোচ সময় মতো পৌঁছতে না পারায় প্রথমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন সাহালই। মুখে হাসিটা একইরকম রেখে চেষ্টা করে গেলেন সব প্রশ্নকে বিতর্ক ছাড়াই জবাব দিতে। আর সামনে যখন তিনি তখন, ঘুরে ফিরেই উড়ে এল তাঁর প্রাক্তন দল প্রসঙ্গ, যারা এখন তাঁর প্রতিপক্ষ।

কেরালা এফসি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, এঁড়িয়েই গেলেন তিনি। বললেন, ‘‘কেরালা সম্পর্কে আমার কাছে কোনও উত্তর নেই। আমি জানি না সেখানে কি হচ্ছে। তবে এটা ঠিক তারা আমাদের একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা দেবে।’’ তবে তাতে তাদের দলগত পারফর্মেন্সের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। বলছিলেন, ‘‘এটা আমাদের কাছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। যেখান থেকে আমরা তিন পয়েন্ট তুলে নিতেই নামব। আমাদের এখনও এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে উন্নতি প্রয়োজন। আমরা প্রতিনিয়ত তার উপর কাজ করছি। মোহনবাগানের মতো বড় দলের প্লেয়াররা একে অপরের ঘাঁড়ে নিঃশ্বাস ফেলে। তাই বিশ্রামের সময় নেই।’’

যেহেতু তিনি প্রাক্তন কেরালা ফুটবলার সে কারণে কোচ মোলিনা তাঁর কাছে সেই দল সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছেন কি ‌না প্রসঙ্গে সাহাল বলেন, ‘‘এখনও পর্য‌ন্ত কিছু জানতে চাননি। আর তার প্রয়োজনও নেই। কোচেরা সব কিছু খবর রাখেন। সব দল সম্পর্কে খবর থাকে তাদের কাছে।’’ তবে কেরালার পর মোহনবাগান, দুই দলেরই সাপোর্টার বেস খুবই শক্তিশালী। সেখানে কিন্তু ঘুরিয়ে নিজের পছন্দ বেছে নিলেন তিনি।

বলেন, ‘‘কেরালায় শুধু কেরালা এফসিরই সর্মথক সবাই। আর এখানে সমর্থক দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। যখ‌ন পুরো গ্যালারি আপনার সমর্থক তখন অনুভূতিটাই আলাদা। আশা করি আপনারা বুঝতে পারছেন আমি কী বলতে চাইছি।’’ তবে সমর্থক থাকলেই চাপ থাকবে। আর সেই চাপ উপভোগ করেন সাহাল।

বলছিলেন, ‘‘আমি খেলার মাঠে চাপ উপভোগ করি। বড় ক্লাবে রিল্যাক্স করার সময় নেই। এখানে সারাক্ষণ কেউ না কেউ ঘাঁড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা সব সময়ই চলতে থাকে। সবাই সবাইকে পিছন থেকে ঠেলছে।’’

এদিকে তিনি যে পুরো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না সেটা মেনে নিয়েছেন। এটাও মেনে নিয়েছেন, যে কোনও ফুটবলারই ৯০ মিনিট খেলতে চাইবেন কিন্তু কেন সুযোগ পাচ্ছে না কেউ সেটা তাঁকেই আবিষ্কার করতে হবে। সাহাল বলেন, ‘‘আমি তো ৯০ কেন ৯৫ মিনিট খেলতে চাই। কিন্তু আমি যখন বাইরে বসে থাকি তখন আমি ভাবি কোথায় ভুল হচ্ছে, অনুশীলনেও। তার পর নিজেকে শুধরে নিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করি। তবে কোচ জানেন তার প্লেয়ারদের সব কিছু, তাই আলাদা করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। প্লেয়াররা তাঁদের ১০০ শতাংশ ম্যাচ এবং অনুশীলনে দেয়।’’

দলের ডিফেন্ডারদের নিয়েও উচ্ছ্বসিত সাহাল। পর পর ক্লিনশিট রাখতে পারা মোহনবাগানের সামনে শীর্ষে টিকে থাকাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বলছিলেন, ‘‘কোচ সব সময়ই বলেন, গোল খেয়ো না। বিশেষ করে এমন লম্বা লিগে আমরা যত কম গোল হজম করব তত সুবিধে। এবং আমাদের ডিফেন্ডাররা অসাধারণ খেলছে। গোলও করছে।’’ তাই হয়তো ঘরের মাঠে প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী সাহাল। গ্রেগের অবর্তমানে তাঁকেই হয়তো দেখা যাবে প্রথম একাদশে। তবে সেই বিষয়ে সাবধানী এই ফুটবলার। যা বলবেন মাঠে নেমে ফুটবল পায়েই।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *