Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিস্ফোরক মেজাজে রয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। বিশেষ করে দল যখন ভালো পারফর্ম করছে এবং প্রথমবারের মতো লিগ টেবলের শীর্ষে রয়েছে তখন মরসুম শেষ হওয়ার আগেই পরের মরসুমে আর না থাকার বার্তা দিয়ে রেখেছেন তিনি। তা দলের পারফর্মেন্সের উপর প্রভাব ফেলবে না তাও নিশ্চিত করে বলেছেন অস্কার। তবে প্রথমে ক্লাব কর্তা ও পরে ক্লাবের প্রাক্তনদের রীতিমতো অপমানসূচক শব্দে ভূষিত করে অস্কার কী প্রমাণ করতে চাইছেন সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে প্রাক্তনদের ভূমিকা বেশ জোড়াল, বিশেষ করে ক্লাবের অন্যতম কর্তার কাছের প্রাক্তনদের তো বটেই। যা কখনও কখনও কোচদের সমস্যায় ফেলে বৈকি। কিন্তু নিজে সরে যাওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেওয়ার পরও যখন ক্লাবের প্রাক্তনদের একহাত নেন তখন ধরে নিতে হবে অনেকদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে চলে যাওয়ার আগে। জানিয়ে যেতে চাইছেন সবটাই। যা শুনে বিস্ফোরক সন্দীপ নন্দী, রহিম নবিরা।

রহিম নবি তো পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিলেন, ‘‘আমরা ক্লাবকে ক’টা ট্রফি দিয়েছি ও জানে? ও ক’টা ট্রফি দিয়েছে এই দু’বছরে? আগে ট্রফি দিক তার পর কথা বলবে। আমরা ক্লাবের ভালো চাই, ক্লাব ট্রফি পাচ্ছে না, আমরা বলব না? যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খেতে রাজি আছি আমি। আগে তো সাফল্য চাই, তার পর তো কথা বলবে।’’ এর সঙ্গে তিনি আরও জুড়ে দেন, ‘‘আমাদের বিরুদ্ধে যা বলেছে তার প্রতিবাদ অফিশিয়ালদের করা উচিত। সব প্লেয়ারদের করা উচিত।’’

অস্কার ব্রুজোঁর বিরুদ্ধে আরও কড়া বার্তা দিলেন তাঁরই প্রাক্তন সহকারী সন্দীপ নন্দী। তিনি সরাসরি অস্কারকে বিকৃত মস্তিষ্কের লোক বলে অভিহিত করলেন। তাঁদেরকে কখনও ‘ব্রোকার’ কখনও ‘ক্যান্সার’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন অস্কার। তা শুনে সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘‘ও দেখছি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হয়ে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ছেড়ে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে যোগ দিতে বলুন। বিশ্ব ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাবে। ও বিকৃত মস্তিষ্কের লোক। ও নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করে না। কারও সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না।’’

সন্দীপ বলছিলেন, ‘‘এক জন কোচের দায়িত্ব কি শুধু দলকে চ্যাম্পিয়ন করানো? একজন কোচের দায়িত্ব ফুটবলার থেকে সাপোর্ট স্টাফ সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা। ও তো কারও সঙ্গেই ভালো ব্যবহার করে না। আমি মেনে নিলাম আমার সঙ্গে সমস্যা হয়েছে। ওর কোচিংয়ের কোনও যোগ্যতা নেই। আমি অনেক ভালো ভালো দেশি, বিদেশি কোচ দেখেছি, ওকে আমি কোচ বলেই মনে করি না। ও চ্যাম্পিয়ন হলেও আমি ওকে কোচ বলে মনে করব না। এটা কোনও আইএসএল হচ্ছে, যেখানের সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস করতে হবে।’’

সন্দীপ নন্দীর সুরেই সুর মেলালেন রহিম নবিও। ইস্টবেঙ্গলের কোচকে কৃতিত্ব দিতে নারাজ তিনি যখন দল লিগ টেবলের শীর্ষে রয়েছে। নবি বলছিলেন, ‘‘কোচের আবার কী কৃতিত্ব রয়েছে, দলটা ভালো হয়েছে, ওরাই খেলছে। কোচ তো অন্য বিষয় নিয়ে বেশি ভাবছে। একটা ভালো কোচ কখনও মরসুমের মাঝখানে দল ছাড়ার কথা বলে দিতে পারে কখনও।’’ সন্দীপ বলছিলেন, ‘‘আমি তো সামনে থেকে দেখেছি, ওর ফুটবল ছাড়া বাকি সব নিয়েই আগ্রহ বেশি, কে কী লিখছে, কে কালো কাপড়ের পিছন থেকে প্র্যাকটিস দেখছে ও মাঠ থেকে এই সব লক্ষ্য করে।’’

সন্দীপ আরও বলছিলেন, ‘‘ভালো কোচ হতে হলে সমালোচনা মেনে নিতে হবে। আমি কখনও কোচিং করিনি এই দল এই আইএসএল-এ আমাকে দিলে আমিও চ্যাম্পিয়ন করে দেব। সাফল্য কোথায়? মেনে নিলাম ডুরান্ড কাপের সময় টিম সেভাবে তৈরি হয়ে উঠতে পারেনি। আইএফএ শিল্ডে মেনে নিলাম আমার জন্য হেরেছে, সুপার কাপে কী হল?’’এই পরিস্থিতিতে সন্দীপ নন্দী সুপার কাপের আগে তাঁর সঙ্গে অস্কারের দুর্ব্যবহারের কথার স্মৃতি আবার যেন ফিরে দেখলেন। বলছিলেন, ‘‘আইএফএ শিল্ড ফাইনালের পর আমি দায় নিয়েছিলাম। তার পরও সুপার কাপের আগে আমার সঙ্গে যে ব্যবহারটা করল সেটা আমি কী করে ভুলে যাব। সবার সামনে আমাকে অপমান করেছে, প্লেয়ারদের সামনে।’’

বোঝাই যাচ্ছে এই কোচকে চাইছে না ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনরা। যদিও তাঁর বিদায়ের আগাম ঘোষণা তিনি নিজেই করে দিয়েছেন এক সপ্তাহ আগে। তাই মরসুম শেষ হলেই আবার লাল-হলুদের কোচের চেয়ারে নতুন মুখ দেখার অপেক্ষায় সমর্থককূল।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *