মুনাল চট্টোপাধ্যায়: মাঝে দীর্ঘসময়ের খরা কাটিয়ে সন্তোষ ট্রফিতে বাংলাকে গতবার চ্যাম্পিয়ন করেন কোচ সঞ্জয় সেন। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাসের তরফ থেকে আইএফএর কাছে সুপারিশ ছিল, চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখার দায়িত্বটা যেন সঞ্জয় সেনকেই দেওয়া হয়। আইএফএর কোচিং কমিটি তাতেই অবশ্য শেষপর্যন্ত সিলমোহর দেয়। গতবার বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করায় সঞ্জয় সেনের ওপর এরাজ্যের ফুটবলপ্রেমী মানুয়ের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। এটাকে চাপ মনে করছেন না বাংলার অন্যতম সফল কোচ। কিন্তু কাজটা যে নিঃসন্দেহে কঠিন, সেটা মানছেন। বিশেষ করে খেতাব ধরে রাখাটা। কারণ সবদলই চাইবে চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে বাড়তি উদ্যম নিয়ে ঝাঁপাতে।
সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা ফুটবল দলের অভিযান শুরু ২১ জানুয়ারি। খেলা আসামের ধাকুয়াখানা ও শিলাপাথারে। বলতে গেলে একবারে অচেনা পরিবেশে খেলা। সঞ্জয় সেন এমন জায়গার নাম আগে শোনেননি। তবে তা নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর যাবতীয় ফোকাস নাগাল্যন্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে। বললেন, ‘ নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ১৮ জানুয়ারি খেলার কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে চাই। ওইদিন পরিবেশ ও মাঠ সম্পর্কে ধারনা তৈরি করে পরের দু’দিন অনুশীলন সারার পরিকল্পনা রয়েছে নাগাল্যান্ড ম্যাচের জন্য। মাঠ কেমন, আবহাওয়া কেমন, এসব নিয়ে আগে থেকে ভেবে টেনশন বাড়ানোর কোনও মানে হয় না। গতবার প্রবল গরমে দুপুর ২টোর সময় ম্যাচ খেলতে হয়েছিল। চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল দল। তাই ওগুলো কোনও ব্যাপার নয়। আসল হল লড়াইয়ের মানসিকতা। একইসঙ্গে সেরা খেলাটা তুলে ধরা।’
নাগাল্যান্ড, আসাম, তামিলনাড়ু, রাজস্থানের মতো দল গ্রুপে আছে। এদের টপকে সেমিফাইনালে ওঠা কি খুব কঠিন? সঞ্জয় সেনের মতে, ‘ কোনও প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখা ভুল হবে। কারণ কারা ভেতরে ভেতরে কতটা তৈরি, সেটা ওদের খেলতে না দেখলে বোঝা যাবে না। আমাদের প্রথম ম্যাচ নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ওরা মনিপুর, মিজোরামের মতো দল, যারা ভারতীয় ফুটবলের মূল সাপ্লাই লাইন, তাদের হারিয়ে মূল পর্বে উঠেছে। তাই না খেলার আগে নাগাল্যান্ডের মধ্যে কী চমক লুকিয়ে আছে বলা মুশকিল। তবে নাগাল্যান্ড ম্যাচটা হয়ে গেলে বাকি দলগুলোর খেলা দেখার মাধ্যমে ওদের শক্তি ও দুর্বলতা জেনে যাব। সেইমতো কৌশল ঠিক করব। তামিলনাড়ু দলে আইএসএল খেলা ফুটবলার থাকবে বলে জেনেছি। কেরল ও সার্ভিসেস মোটেই সহজ দল নয় অন্যদিকে।’
এখনও পর্যন্ত ৪টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন কোচ সঞ্জয় সেন। জানালেন, ‘ ফুটবলারদের মধ্যে ভাল খেলার চেষ্টা আছে। জয়ের খিদে আছে। গতবারের দল ৪জন ফুটবলার এবারও আছে। তাদের অন্যতম রবি হাঁসদা। বাকিরা নতুন হলেও বেশ প্রতিভাবান। আশাবাদী। ওরা ভাল লড়াই দেবে। আপাতত যে ২৭ জন ফুটবলার আছে হাতে। তারা সকলেই উনিশ বিশ। তবে ২২ জনের বেশি তো নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মঙ্গলবার ইস্টবেঙ্গল সিনিয়র দলের বিরুদ্ধে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আমার ফুটবলাররা। সেদিন বা তার আগেই সন্তোষ ট্রফির ফুটবলারের নাম নথিভুক্ত করা নিয়ম মেনে ২২জনের নাম আইএফএর কর্তাদের জানিয়ে দেব।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
