অলস্পোর্ট ডেস্ক: জোর বেঁচে গেল সেনেগাল ফুটবল দল। আর্থিক জরিমানা, তাদের দলের কোচ ও গন্ডগোলে জড়িত ফুটবলারদের নির্বাসনের শাস্তিতেই রেহাই পেল। একটা সময় পর্যন্ত মরক্কোর তীব্র চাপে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেনেগালের ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলাই না আটকে যায়। শেষপর্যন্ত তেমন কিছু না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সেনেগাল। আফ্রিকান ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য আফ্রিকান নেশনস কাপ ফাইনালে গন্ডগোলে জড়ানোর জন্য মরক্কোর কয়েকজন ফুটবলারকে নির্বাসন দিয়েছে। একইসঙ্গে মরক্কোরও আর্থিক জরিমানা হয়েছে। দু’দলকে করা মোট জরিমানার পরিমান ১ মিলিয়ান ডলার।
সম্প্রতি আফ্রিকান নেশনস কাপ ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচে পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে শেষদিকে নিজের ফুটবলারদের নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। একমাত্র সেনেগালের কিংবদন্তী ফুটবলার সাদিও মানে মাঠেই ছিলেন। পরে তিনি সাজঘরে গিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে ফুটবলারদের মাঠে ফেরত আনেন। ২০ মিনিট পর খেলা শুরু হলে মরক্কো পেনাল্টিতে গোল করার সুযোগটা নষ্ট করে। ম্যাচ অতিরিক্ত সময় গড়ালে সেনেগাল গোল করে কাপ জেতে। কিন্তু পেনাল্টি দেওয়ার সময় থেকে খেলা শুরু হওয়া ও পরবর্তী সময় ম্যাচ চলাকালীন মাঠের মাঝে শুধু ফুটবলাররাই বাক বিতন্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন এমন নয়, এর জের গিয়ে পড়েছিল রাবাতের মাঠে দর্শক গ্যালারিতে। দু’দল সমর্থক, এমনকি মিডিয়ার মধ্যেও তুমুল ঝামেলা বেধেছিল। এমনকি, মরক্কোর এক বল বয়কে দেখা যায় সেনেগালের গোলকিপার এডুয়ার্ড মেন্ডির তোয়ালে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে, যাতে সেনেগালের গোলকিপারের মনঃসংযোগ নষ্ট হয়। এই বল বয়ের আচরণের কারণে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলারের ওপর বাড়তি ২ লাখ ডলার জরিমানা করেছে আফ্রিকার ফুটবল গভর্নিং বডি।
এই ঘটনার জন্য আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) মূলত দায়ি করেছে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াওকে। তাঁকে আফ্রিকার ৫টি ম্যাচের জন্য নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনকে ৬ লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। সেনেগালের ফুটবলার ইলিমান এনডিয়ে ও ইসলামিয়া সারকে আফ্রিকার ২টি ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে।
মরক্কোর জরিমানার পরিমানও বেশ বড়রকমের। ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মরক্কোকে দিতে হচ্ছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার। মরক্কোর নামী ফুটবলার আসরাফ হাকিমিকে আফ্রিকার ২টি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ইসমাইল সাইবারির ৩ ম্যাচের নির্বাসন ছাড়াও অখেলোয়াড়োচিত আচরণের জন্য ১ লাখ ডলার জরিমানা হয়েছে।
ফুটবল ফাইনালকে কেন্দ্র করে গন্ডগোল দু’দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে বসেছিল। সেটা সামাল দিতে সেনেগাল ও মরক্কোর রাষ্ট্রপ্রধানরা সক্রিয় ভূমিকা নেন। দু’দেশের সমর্থক ও নাগরিকদের মাথা ঠান্ডা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফাইনালের অপ্রিয় ঘটনার পর মরক্কো সফরে গিয়ে সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসুমানে শনকো বলেছেন, যেটা ঘটে গেছে, সেটা যত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া যায়, তত ভাল। ওটা একটা আবেগের সাময়িক রিঅ্যাকশন হিসেবেই যেন ধরেন সকলে। কোনও রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ যেন তৈরি না হয় দু’দেশের মাঝে।’
এত কতটা মরক্কোর মন গলবে বলা শক্ত। কারণ একে তো তাদের ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে, উপরন্তু ফাইনালের গন্ডগোলকে সামনে রেখে স্পেন এখন থেকেই ফিফার কাছে ২০৩০য়ের বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। এনিয়ে পর্তুগাল চুপ করে থাকলেও মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় হাসান টু স্টেডিয়ামে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ইচ্ছা ও উদ্যোগে জল ঢেলে দিতে তৈরি স্পেন। তারা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছে, যারা একটা আফ্রিকান নেশনস কাপের ফাইনাল নির্বিঘ্নে আয়োজন করতে পারে না, তাদের বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করতে দিলে ভুল করবে ফিফা। বরং ওই ফাইনালটা বার্সিলোনা বা মাদ্রিদের মাঠে হওয়া উচিত।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
