সুচরিতা সেন চৌধুরী: ওড়িশা এফসিকে নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলবে মোহনবাগান তা আগে থেকেই জানা ছিল। কারণ এই ওড়িশা এফসিরই প্রাক্তন কোচ সার্জিও লোবেরার হাত ধরে আইএসএল মরসুমের শুরু থেকেই সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছে মোহনবাগান। অন্যদিকে মহমেডান ছাড়া যদি খুব খারাপ অবস্থায় থেকে থাকে কোনও দল সেটা হল ওড়িশা। মহমেডানে নেই কোনও বিদেশি আর ওড়িশা দলে সাকুল্যে একজন। সবাই ছেড়ে গেলেও থেকে গিয়েছেন দেলগাডো। দুই দলেই স্বদেশী কোচ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে যে ওড়িশা আদৌ আইএসএল খেলবে কিনা। সব মিলে ঘরের মাঠে মোহনবাগানের জন্য জয়ের তালিকায় আরও একটি ম্যাচ জুড়ে নেওয়ার সব থেকে সহজ সুযোগ ছিল এই ম্যাচ। যাতে সফল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
দলের এই জয়ে স্বভাবতই খুশি মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা। বলছিলেন, “আমি উচ্ছ্বসিত। খুব ভালো ম্যাচ খেলেছি। বড় জয় এসেছে। আমাদের খুশি হওয়ারই কথা।” তবে এই ৫ গোল করার মধ্যেই পর পর দুই ম্যাচেই গোল হজমও করতে হয়েছে তাঁর দলকে, সেটা কতটা চিন্তার জানতে চাইলে তিনি কিন্তু রীতিমতো উড়িয়েই দিলেন। বলছিলেন, “মাঝে মাঝে খেলায় ঝুঁকি নিতে হয় আর তখনই গোল হজম করতে হতে পারে, এটা খেলার অংশ। আমরা ঝুঁকি না নিলে হয়তো ২-০ গোলে জিততাম। আমরা ঝুঁকি নিয়েছি তাই বেশি গোল করেছি। এটাই আমার দর্শন।”
অন্যদিকে ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির শাস্তির কারণে শুক্রবার ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমে জরিমানার পাশাপাশি খালি গ্যালারিতে খেলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য মোহনবাগান ক্লাবের অনুরোধে সেই শাস্তি কমিয়ে আধা গ্যালারির অনুমতি দেওয়া হয়। ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই সমর্থকদের টিকিট দেওয়া হ। তার মধ্যে সাধারণ গ্যালারির ১৪ হাজার টিকিট ফ্রি দেওয়া হয় সমর্থকদের জন্য। প্রায় ৩০ হাজার সমর্থক এদিন মোহনবাগানের জয় দেখল। এদিন যাঁরা মাঠে এলেন তাঁরা দেখলেন তাঁদের প্রিয় দলের পর পর গোল। প্রথমার্ধেই চার গোল, তার মধ্যে হ্যাটট্রিক জেমি ম্যাকলারেনের, এক গোল আলবার্তো রডরিগেজের।
বড় জয়ের মধ্যেও কিছু কাটা তো থেকেই যায় ঠিক যেভাবে প্রথমার্ধের খেলা দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া গেল না, আর সেটা মেনেও নিলেন কোচ। বলছিলেন, “অনেক জায়গাতেই উন্নতি করার আছে। নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। প্রথমার্ধে ৪-১ করেছি, আরও অনেক সুযোগ তৈরি করেছি কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল হয়েছে। এটা বদলাতে হবে। আমরা অনেক বেশি দৌঁড়েছি, যার দরকার ছিল না। তবে আমি ছেলেদের খেলায় খুশি। ওরা প্রতিদিন উন্নতি করার চেষ্টা করে।”
তবে যে গতিতে প্রথমার্ধ শেষ করেছিল মোহনবাগান, সেটা কেন দ্বিতীয়ার্ধে উবে গেল সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন। শুরুতে বার কয়েক আক্রমণে উঠল ঠিকই, প্রতিপক্ষের গোলের সামনে ঘোরাফেরাও করল কিন্তু গোল হল না। বরং একটা সময় ওড়িশাকে দেখা গেল মোহনবাগানের রক্ষণকে অল্প সময়ের জন্য হলেও চাপে ফেলতে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে একগুচ্ছ পরিবর্তন করলেন লোবেরা। অময় রানাওয়াদে, মনবীর সিং, সাহাল, দীপক টাংরিদের নামিয়ে খেলার গতি ফেরাতে চাইলেন কিন্তু প্রথমার্ধে হুহু করে দৌঁড়ানো দলটা দ্বিতীয়ার্ধে থমকে গেল অদ্ভুতভাবে। সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে, জানিয়ে দিলেন কোচ।
ভাগ্যিস শেষবেলায় আবার জ্বলে উঠলেন জেমি, যার ফলে দলের পঞ্চম আর নিজের চতুর্থ গোল করে এর আগের ম্যাচের ফলেরই অ্যাকশন রিপ্লে দেখা গেল এই ম্যাচে। মহমেডানের বিরুদ্ধে ৫-১ গোলে জয়ের পর ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধেও ৫-১ গোলে জয়ের ধারা ধরে রাখল মোহনবাগান। নামের পাশে এক ম্যাচে চার আর চার ম্যাচে সাত গোল লিখে নেওয়া জেমি ম্যাকলারেন কৃতিত্ব দিচ্ছেন মোহনবাগানের ভারতীয় জাতীয় দলের ফুটবলারদের। বলছিলেন, ‘‘সব সময় চার গোল হয় না। তবে হ্যাঁ আমি নিশ্চই একটা লক্ষ্য স্থির করেছি, প্রতি ম্যাচে গোল করার। পরের ম্যাচে দুই গোল করতে চাইব।’’ এই ম্যাচে প্রথম গোলকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
