Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ খেতাব ধরে রাখতে পারল না গতবারের সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বাংলা ফুটবল দল। আসামের ঢাকুয়াখানার মাঠে মঙ্গলবার কোয়ার্টারফাইনালে সার্ভিসেসের কাছে টাইব্রেকারে ২-‌৩ গোলে হেরে সন্তোষে বাংলার অভিযান শেষ হযে গেল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে খেলার ফল ছিল গোলশূণ্য। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১২০ মিনিটেও খেলায় কোনও নিষ্পত্তি না হওয়ায়, টাইব্রেকারে যায়।

লিগ পর্যায়ে জয়ের হ্যাটট্রিকের পর শেষ দুটি ম্যাচে আটকে গিয়েছিল বাংলা দল। তবে হারেনি সঞ্জয় সেনের দল। ২টি ম্যাচই ড্র হয়। কোয়ার্টারফাইনালে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নামার আগে নিজের দলের ফুটবলারদের বাস যাত্রার ও গোটা রাত জেগে হোটেলে ফেরার ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন বাংলার কোচ সঞ্জয় সেন। একইসঙ্গে চিন্তিত ছিলেন অল্পসময়ের ব্যবধানে একদিন অন্তর ৮০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ম্যাচ খেলতে যাওয়া ও আসার ধকল সামলে তাঁর ফুটবলাররা কতটা ভাল ফুটবল খেলতে পারবেন নকআউট পর্যায়ে। আসামের সঙ্গে শেষ ম্যাচ খেলার পর তিন ঘন্টার পথ পেরোতে লেগেছিল ১২ ঘন্টা। বিকেল ৫টায় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে পরদিন ভোর ৫টায় হোটেলে ফিরেছিলেন বাংলার ফুটবলাররা। এই সময়টা পা মুড়ে বাসেই কাটাতে হয়েছিল সারারাত। মেলেনি কোনও খাবার ও জল।

সম্ভবত এসব কারণে ফোকাস কিছুটা হলেও নড়ে যেতে পারে বাংলার ফুটবলারদের। অন্তত সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে খেলা দেখে তাই মনে হয়েছে। নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৪ গোলে জেতার পর থেকে বাংলা দলের আক্রমণভাগের ঝাঁজ থাকলেও লক্ষ্যভেদের দুর্বলতা বাকি ৪ ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল। এদিন তারই খেসারত দিতে হল। সার্ভিসেস ম্যাচে বাংলা গোলের মুখ বিশেষ খুলতে পারেনি। তার মধ্যেই প্রথমার্ধে আকাশ হেমব্রম হেডে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নরহরির দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা সফল হয়নি। বরং সার্ভিসেসের দুটি প্রচেষ্টা গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে বাংলাকে লড়াইয়ে রেখে দেন চাকু মান্ডি, জুয়েলরা। বাংলার গোলকিপার সোমনাথ দত্ত পতন বাঁচান সেভের মাধ্যমে।

দু’‌দলই বাড়তি ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ১২০ মিনিট শেষ হওয়ার মিনিট খানেক আগে গোলকিপার বদল করেন বাংলার কোচ সঞ্জয় সেন। সোমনাথের জায়গায় নামান গৌরব শ’‌কে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরিতে। তাঁর এই স্ট্র‌্যাটেজি ভুল ছিল না। কারণ গৌরব দুটি সেভ করে বাংলাকে টাইব্রেকারে লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাকে ডোবালেন পেনাল্টি শুটাররা। সার্ভিসেসের ফুটবলার প্রথম শট গোলে পাঠান। বাংলার চাকু মান্ডি প্রথম শট নিয়ে বাইরে মারেন। সার্ভিসেসের দ্বিতীয় শট সেভ করেন গৌরব। বাংলার করণ রাইয়ের নেওয়া দ্বিতীয় শট রোখেন সার্ভিসেস গোলকিপার। এরপর সার্ভিসেসের ফুটবলার তৃতীয় শটে গোল করতে ভুল করেননি। বাংলার শ্যামল বেসরাও তৃতীয় শটে গোল পান। সার্ভিসেসের ফুটবলার চতুর্থ শট নিলে গোলকিপার গৌরব সেভ করে বাংলার পক্ষে আশা জাগান। সেটা আরও জোরালো হয় রবি হাঁসদা চতুর্থ শটে গোল করলে। সেসময় টাইব্রেকারে ফল ছিল ২-‌২। সার্ভিসেসের ফুটবলার নার্ভ ধরে রেখে পঞ্চম শট গোলে পাঠাতে ভুল করেননি। সার্ভিসেস এগিয়ে যায় ৩-‌২ গোলে। বাংলার পঞ্চম শট নেওয়া বাকি ছিল। অর্থাৎ পঞ্চম শটে গোল করতে পারলে খেলার ফল দাঁড়াত ৩-‌৩। ম্যাচ গড়াত সাডেনডেথে। কিন্তু সেই চাপটা নিতে ব্যর্থ হলেন বাংলার নরহরি শ্রেষ্ঠা। তাঁর নেওয়া আলতো শট অনায়াসে ধরে দলকে সেমিফাইনালে তুলে দিলেন সার্ভিসেস গোলকিপার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *