Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী, জামশেদপুর: এখানে ইতিহাস কথা বলে। না, সে মুঘল আমল বা ব্রিটিশ রাজের ইতিহাস নয়, এই ইতিহাস ভারতীয় খেলার, ভারতীয় ফুটবলের। জেআরডি টাটা কমপ্লেক্স থেকে টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি, চোখে পড়বে এই পুরো শহর জুড়ে খেলার পরিবেশ। কোথাও পায়ে চাকা বেঁধে বাচ্চারা বল নিয়ে গোলের জন্য লড়াই করছে, কেউ আবার বাস্কেটে ছুঁড়ে দিতে চাইছে বল, একটু এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে তীর ধনুক হাতে লক্ষ্য নির্ধারিত করছে ছেলে-মেয়েরা। ফুটবল থেকে আর্চারি, ব্যাডমিন্টন থেকে ক্রিকেট, ভারতীয় খেলার সব উপকরণ নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একইভাবে কাজ করে চলেছে জেআরডি টাটা ক্রীড়া পরিকাঠামো।

ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে গত কয়েক দশক ধরে ওতপ্রোতভাবে জরিয়ে গিয়েছে এই নাম, টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি। সালটা ১৯৮৭, যখন জামশেদপুরের বুকে এই বিশাল ফুটবল পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল। জামশেদজি নুসসেরওয়ানজি টাটা কেবল এশিয়ার প্রথম সমন্বিত ইস্পাত কারখানারই স্বপ্ন দেখেননি, বরং তিনি জামশেদপুরের মতো একটি আদর্শ শহরেরও পরিকল্পনা করেছিলেন। আর সেই শহরই একটা সময় হয়ে উঠেছিল খেলার শহর, যা আজও একইরকমভাবে সেই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। ধরে রেখেছে খেলার প্রতিভা অন্বেষণের সেই পুরনো ধারাও।

আর তার মধ্যে অন্যতম টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি। যা এক সময় ভারতীয় ফুটবলের আতুরঘর হিসেবেই পরিচিত ছিল। পরিচিত ছিল ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার অন্যতম কারিগর হিসেবে। মূল রাস্তা থেকে গেট পেরিয়ে টিএফএ-এর ভিতরে ঢুকলেই সামনে চোখে পড়বে বিশাল সবুজ মাঠ। তখন সেখানে অনুশীলনে ব্যস্ত মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কিন্তু গত ৩৯ বছর ধরে এই মাঠ থেকেই যে উঠে এসেছে ভারতীয় ফুটবলের সেরা সেরা তারকারা। কে নেই সেই তালিকায়, দীপেন্দু বিশ্বাস, শঙ্করলাল চক্রবর্তী, দীপক মণ্ডল থেকে রহিম নবি, রবিন সিং, রাজু গায়কোয়াড়ের মতো নাম এক সময় দাঁপিয়ে খেলেছে ভারতীয় ফুটবলের জার্সি থেকে ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের সঙ্গে। এখন সেই সাপ্লাই লাইনে অনেকটাই মন্দা। তার মানে এই নয় যে কাজ করছে না টিএফএ। আসলে অনেকটাই বদলে গিয়েছে ফুটবলের ইকো সিস্টেম। এমনটাই বলছিলেন টাটা স্পোর্টসের দায়িত্বে থাকা মুকুল চৌধরী।

বলছিলেন, ‘‘ফুটবলের ইকো সিস্টেম বদলে গিয়েছে। অনেক নতুন নিয়ম এসেছে। বয়সভিত্তির নিয়মও বদলেছে। এই অ্যাকাডেমি যখন শুরু হয়েছিল তখন সেটাই ভারতীয় ফুটবলের প্রথম এত বড় পরিকাঠামো নিয়ে তৈরি হওয়া অ্যাকাডেমি। তাই সব প্রতিভাই এখান থেকে বেরতো। তবে এখন চার হাজার অ্যাকাডেমি রয়েছে দেশ জুড়ে। এর পাশাপাশি সব ক্লাবেরও ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম রয়েছে। তাই প্রতিভা ভাগ হয়ে গিয়েছে।’’ তবে তিনি এটাই জানিয়ে দিচ্ছেন, এখনও টিএফএ থেকে তারকা বের হয়, তাঁরা খেলে বিভিন্ন ক্লাবে, ভারতীয় ফুটবলে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি বলেন, ‘‘এখন ক্লাবগুলো যেমন এখান থেকে প্লেয়ার নেয় তেমনি এজেন্টরাও যোগাযোগ করে। এই প্রজন্মের প্লেয়ারদের মধ্যে নিখিল বাড়লা, মহম্মদ সানানের মতো প্লেয়ার রয়েছে টিএফএ-এর।’’

মাঠের গন্ডি পেরিয়ে টিএফএ অ্যাকাডেমি বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢোকার মুখেই বাঁ দিকে দেখা যাবে সেই ফলক, যেখানে লেখা রয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভারতীয় ফুটবলের আতুরঘরের উদ্বোধন করেছিলেন স্বয়ং রুশি মোদী। বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুকতেই বাঁ দিকে রয়েছে, অ্যাকাডেমির সাফল্যের খতিয়ান, কী কী টুর্নামেন্টে খেলে সাফল্য পেয়েছে তারা। ডানদিকে সাজানো ট্রফি, আর তার উপরই জ্বল জ্বল করছে তিনটি মুখ, পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনি গোস্বামী ও অরুণ ঘোষ। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত অ্যাকাডেমির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলেন চুনী গোস্বামী। এর পর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সেই দায়িত্ব পালন করেন পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় ও ১৯৯৭ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ছিলেন অরুণ ঘোষ। এই তিন নামই বড় পরিচয় এই অ্যাকাডেমির ঐতিহ্যের।

অ্যাকাডেমি বিল্ডিংয়ের এই অংশ পেরিয়ে গেলে রয়েছে প্লেয়ারদের থাকার জায়গা। এখন ৬০ জন রয়েছে অ্যাকাডেমিতে। তার মধ্যে রয়েছে অনূর্ধ্ব-১৩, ১৬ ও ১৮ বয়স বিভাগে। এই অ্যাকাডেমির সব থেকে বড় দিক হল ফুটবলের পাশাপাশি এখানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাও করে প্রথাগতভাবেই। ২৫ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে গত ৩৯ বছর ধরে হয়ে চলেছে ফুটবলের পূজা, ফুটবলের উৎসব, ফুটবলেরই আরম্বরসহ আয়োজন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *