অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় পর্যায়ের টিকিট বিক্রি নিয়ে ৫০ লাখের ওপর আবেদন জমা পড়েছে, টিকিটের চড়া দাম স্বত্ত্বেও। আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম নিয়ে ইতিমধ্যেই সব দেশের ফুটবল ভক্তদের মধ্যে একটা অসন্তোষও দানা বেঁধেছে। তবে ফিফার তরফে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের ড্র ও সূচী তৈরি হওয়ার পর সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের খেলা দেখার জন্য টিকিটির অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ২০০ দেশের মানুষ টিকিট পেতে আগ্রহী যে কোনও মূল্যে। সেটা বুঝেই ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের সর্বশেষ দামের তালিকা প্রকাশ করেছে।
সেই তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে লিগ পর্যায়ের খেলায় টিকিটের দাম বিভিন্ন ক্যাটিগরিতে ১৮০ ডলার থেকে ৭০০ ডলার। ফাইনালের সবচেয়ে কম মূল্যের টিকিটের দাম ৪১৮৫ ডলার। সর্বোচ্চ ৮৬৮০ ডলার। এখন ভারতীয় মুদ্রায় ১ ডলারের মূল্য ৯০ টাকার থেকে কিছুটা বেশি। সুতরাং ভারতীয় মুদ্রায় টিকিটের মূল্য কতটা বুঝে নিতে নিশ্চয়ই অসুবিধা হচ্ছে না। ইংল্যান্ড সাপোর্টার্স ট্রাভেল ক্লাবকে একটি তথ্য দিয়েছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, যদি কোনও ফুটবলপ্রেমী ফাইনাল পর্যন্ত নিজের দলের সব ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করে টিকিট কেনে, তাহলে তাঁকে ৭০০০ ডলার খরচ করতে হবে।
এই ধরনের চড়া দামের টিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্যান অর্গানাইজেশন ফুটবল সাপোর্টাস ইওরোপ। তারা ফিফাকে বিশ্বকাপের টিকিটের দামে রাশ টানার জন্য বলেছে সারা বিশ্বের সমর্থকদের কথা ভেবে। তাদের মতে, এই চড়া দামের টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা সমর্থকদের প্রতি ঘোরতর অবিচার। ৭ বছর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনের দাবি জানানোর সময় আমেরিকার কর্তাদের কাছে এমনই তুলে ধরা হয়েছিল, লিগ পর্যায়ের ম্যাচের জন্য একটি টিকিটের দাম ২১ ডলারের কাছাকাছি পড়বে। কিন্তু বর্তমান দামের সঙ্গে তার আকাশপাতাল ফারাক। দেখা যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপে ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গেলউড স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের সঙ্গে আমেরিকার প্রথম ম্যাচ দেখার জন্য একজন দর্শককে ২৭০০ ডলার দিয়ে টিকিট কিনতে হতে পারে। অথচ শেষবার ১৯৯৪য়ে আমেরিকায় যেবার বিশ্বকাপ হয়েছিল, সেবার টিকিটের মূল্য ছিল ২৫ ডলার থেকে ৪৭৫ ডলার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও টিকিটের মূল্য ছিল ৭০ ডলার থেকে ১৬০০ ডলার। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মেক্সিকোর ওপেনিং ম্যাচের টিকিটের দাম উঠেছে ২৩৫৫ ডলার। কানাডার ওপেনিং ম্যাচের টিকিটের মূল্য ২১৭০ ডলার।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার অন্যতম কারণ, সারা বিশ্বজুড়ে টিকিটের বিপুল চাহিদা প্রত্যক্ষ করে ফিফা ডায়নামিক প্রাইসিং পদ্ধতি চালু করায়। অর্থাৎ চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টিকিটের দাম। তৃতীয় পর্যায়ের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি থেকে। তার আগে ফুটবলভক্তরা নিজেদের পছন্দমতো ম্যাচ ও ক্যাটিগরির টিকিট বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। একইসঙ্গে টিকিটের সংখ্যাও জানাতে হচ্ছে। তবে তারপরও নিজেদের পছন্দমতো টিকিট পাবে, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। যাঁরা ভাগ্যবান, তাঁরা ফেব্রুয়ারিতে মেলের মাধ্যমে টিকিট প্রাপ্তির কথা জানতে পারবেন। একইসঙ্গে টিকিটের মূল্য তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।
ফিফা জানিয়েছে, লিগ পর্বে ২৭ জুন মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় কলম্বিয়া ও পর্তুগালের মধ্যে ম্যাচের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মূল আকর্যণ অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্ডো। এছাড়া যে ম্যাচগুলিতে টিকেটের চাহিদা তুঙ্গে, সেগুলি হল ব্রাজিল বনাম মরক্কো(নিউ জার্সি), মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া( গুয়াদালজারা), ইকুয়েডার বনাম জার্মানি( নিউ জার্সি), স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল ( মায়ামি)।
বিভিন্ন দেশের ফুটবলভক্তদের বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া দাম নিয়ে অসন্তোষে ফিফার প্রতিক্রিয়া, ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা। ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিভিন্ন দিক থেকে যে রেভিনিউ আসে, তা ২১১ টি ফিফা অন্তর্ভুক্ত দেশের ফুটবলের উন্নয়নের পেছনেই খরচ করা হয়ে থাকে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
