অলস্পোর্ট ডেস্ক: রবিবার ঘরের মাঠে চেন্নাইন এফসি-র কাছে হারের ফলে যে লিগ-শিল্ড জয়ের রাস্তা আরও কঠিন হয়ে গেল, তা স্বীকার করে নিল সবুজ-মেরুন শিবির। চলতি লিগে তাদের আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি, যার মধ্যে একটি শীর্ষে থাকা মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে। এই তিনটি ম্যাচেই না জিততে পারলে মোহনবাগানের লিগ-শিল্ড জয় অধরাই থেকে যাবে।
রবিবার ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সামনে সে কথা স্বীকার করে নিয়ে দলের সহকারী কোচ মানুয়েল পেরেজ বলেন, “অবশ্যই শিল্ড জয়ের রাস্তা আমাদের আরও কঠিন হল। আর তিনটে ম্যাচ বাকি আছে আমাদের। এই তিন ম্যাচে আমরা নয় পয়েন্ট পেলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। গতকাল পর্যন্ত আমাদের দশ পয়েন্ট দরকার ছিল। আজ নয় পয়েন্ট দরকার। তার মধ্যে তিন পয়েন্ট মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেও পেতে হবে। রাস্তাটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়”।
এ দিন বিরতিতে এক গোলে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও জয়ের হাসি মুখে নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেন না আরমান্দো সাদিকুরা। ম্যাচের শেষ ২৫ মিনিটের মধ্যে তিন-তিনটি গোল করে তাদের লিগশিল্ড জয়ের স্বপ্নে বড়সড় আঘাত হানে বাংলার এক ঝাঁক ফুটবলারকে নিয়ে গড়া ওয়েন কোইলের দল চেন্নাইন এফসি। প্রথমার্ধে দাপুটে ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলা থেকে ক্রমশ হারিয়ে যায় মোহনবাগান এবং ম্যাচের শেষ ২৫ মিনিটে তিন গোল খেয়ে ২-৩-এ ম্যাচ হারে।
কেন দ্বিতীয়ার্ধে এমন অবনতি ঘটল দলের খেলায়, তার কারণ যে খুঁজে পাচ্ছেন না, তা স্বীকার করে নিয়ে পেরেজ বলেন, “কারণটা আমার জানা নেই। জানলে তো সেই অনুযায়ীই পদক্ষেপ করতাম। ওদের (চেন্নাইন) আজ তিন পয়েন্ট খুবই জরুরি ছিল। সেই মতোই ওরা খেলেছে। তিন পয়েন্ট আমাদেরও দরকার ছিল। কিন্তু আমরা সে ভাবে খেলতে পারিনি। প্রথমার্ধে একটা ভাল গোল পাই। একাধিক সুযোগ হাতছাড়াও হয়। কিন্তু তারপর থেকে আর ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না”।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এই ম্যাচ বিশ্লেষণ করা কঠিন। প্রথমার্ধে আমরা ভালই খেলেছি। কিন্তু তার পরে অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওরা আক্রমণ শুরু করে। আমরা তখন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি। এটাই আমাদের পক্ষে ভাল হয়নি। কাউকো, টাঙরিকে পরিবর্তন করতে হয়। তবে এটা অজুহাতের সময় নয়। আমাদের ম্যাচটা আবার দেখতে হবে। বুঝতে হবে কোথায় কোথায় গোলমাল হয়েছে। তার পরে সেই অনুযায়ী পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে”।
নতুন বছরে টানা আটটি ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর নবম ম্যাচে হারতে হল তাদের। এই আটটি ম্যাচে দলের সঙ্গে মাঠে ছিলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। কিন্তু এই ম্যাচেই অসুস্থতার জন্য তিনি দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। রবিবার শারীরিক ভাবে এতটাই দুর্বল ছিলেন তিনি যে, হোটেল ছেড়ে বেরোতেই পারেননি। এই খবর দিয়ে তাঁর সহকারী বলেন, “কোচ গত দু’দিন ধরেই জ্বরে ভুগছেন, শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি। তিনি এতটাই দুর্বল যে, আজ হোটেল থেকে দলের সঙ্গে মাঠেও আসতে পারেননি। তাঁকে হোটেলে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার। আশা করি, উনি মঙ্গলবার মাঠে ফিরতে পারবেন। উনি আমাদের দলের নেতা। এই সময়ে ওঁকে দলের দরকার”।
স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করে পেট্রাটস সমতা আনলেও জয়সূচক গোলের খোঁজে পুরো দলই প্রতিপক্ষের এলাকায় উঠে যাওয়ায় অদ্ভুত ভাবে শেষ গোলটি খেতে হয় বিশাল কয়েথকে। মাঝমাঠ থেকে আয়ূষ অধিকারীর পাস নিয়ে যখন মোহনবাগানের বক্সে ঢুকে পড়েন ইরফান ইয়াডওয়ার্ড, তখন গোলে ছিলেন না বিশাল। তখন তিনি বক্সের বাইরে। একা আনোয়ার আলি তাঁকে সামলাতে পারেননি। ছোট্ট টোকায় গোলে বল ঠেলে দেন ইরফান।
এই গোল প্রসঙ্গে পেরেজ বলেন, “শেষ দিকে দলের ছেলেরা ম্যাচটা জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। সেই জন্যই সবাই মিলে উঠে যায়। শেষে যে গোলটা হয়, তার আগে থ্রোইন থেকে থাপাকে দেয় কিয়ান, থাপা দেয় মনবীরকে। কিন্তু বল আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ও তখনই মাঝমাঠ থেকে ওরা পাস বাড়ায়, যা থেকে গোল হয়ে যায়। আমরা ওই সময়ে আক্রমণে উঠছিলাম, সেই সময় হঠাৎ গোলটা হয়। ফুটবলে এ রকম হয়”।
এই হারের পরে এখন দলের সব বিভাগেই উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন সবুজ-মেরুন বাহিনীর সহকারী কোচ। বলেন, “আমাদের সব জায়গাতেই উন্নতি করতে হবে। দল হিসেবে আমাদের উন্নতি করতে হবে। কোনও একটা কি দুটো বিষয়ের কথা বলা কঠিন। আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে, তার পরে সংশোধন করতে হবে। হারের দায়টা পুরো দলেরই, পুরো দলকেই উন্নতি করতে হবে”।
এ দিন ৬৫ মিনিটের মাথায় রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে জেসন কামিংসকে নামাতে গিয়েও নামাতে পারেনি মোহনবাগান। তার কারণ জানতে চাইলে পেরেজ জানান, “তখন জেসনকে নামিয়ে আরমান্দোকে তোলার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু ঠিক সেই সময় জনি বলল, সে বসতে চায়। তাই তখন জেসনকে নামাতে পারিনি। সেই সময় আমরা জিতছিলাম। জেসনকে নামিয়ে সেই জয়টা নিশ্চিত করারই পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু জনি বসতে চাওয়ায় আমাদের নতুন করে পরিকল্পনা তৈরি করতে হয় এবং ওকে আরও কিছুক্ষণ মাঠে রাখতে হয়। পরে ওর বদলে জেসনকে নামাই”। ততক্ষণে অবশ্য আরও দু’টি গোল করে তাদের পিছনে ফেলে দেয় চেন্নাইন এফসি।
(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
