অলস্পোর্ট ডেস্ক: বৃহস্পতিবার আইএসএলে অংশগ্রহণকারী ক্লাবের প্রতিনিধিদের আলোচনায় ডেকেছেন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষে ডেপুটি সেক্রেটারি সত্যনারায়ণ। আইএসএলের আয়োজন ঘিরে অচল অবস্থা কাটানোর আশায়। মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট(এমআরএ) ইস্যুতে এআইএফএফ ও এফএসডিএলের মধ্যে সম্মানজনক সমঝোতা না হওয়ায় আইএসএল শুরুর দিন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত রয়েছে। সেই জট কীভাবে ছাড়ানো সম্ভব, তার সমাধান সূত্র খুঁজতে দিল্লিতে ক্লাবের সিইওদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছেন সত্যনারায়ণ।
জুলাই মাসের শেষে আলোচনায় বসে জট কাটানোর জন্য চিঠি দিয়েছিল আইএসএলের ৮ ক্লাব। শুরুতে সেই ৮ ক্লাবের কাছেই দিল্লির বৈঠকে হাজির থাকার বার্তা পাঠিয়েছিল ফেডারেশন। সেই তালিকায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান, মু্ম্বই এফসি, চেন্নাইন এফসি ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এখনও পর্যন্ত মোহনবাগান এসজি ছাড়া বাকিরাও দিল্লির বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। মোহনবাগানের যুক্তি, তারা তো কোনও ডাকই পায়নি, কোনও চিঠিও নয়। সুতরাং অযাচিতভাবে যাওয়া কি ঠিক হবে? তবে পরে সে ভাবনায় কিছুটা বদল হয়েছে। মোহনবাগানের কোনও প্রতিনিধি বৈঠকে সশরীরে হাজির না থাকলেও ভিডিও কলে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। ইস্টবেঙ্গলেরও সে পথে হাঁটার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি ডাকা না হলেও ভিডিও কলের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দিতে পারেন এফএসডিএলের প্রতিনিধি, ক্লাবের কর্তাদের মনোভাব বুঝতে।
এদিকে, আলোচনায় বসার আগের দিন ওড়িশা, বেঙ্গালুরুর পর চেন্নাইন এফসিও একই পথে হাঁটল। আইএসএলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তারাও ক্লাবের সব কাজকর্ম আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে চেন্নাইন দলের সঙ্গে জড়িত ফুটবলার, পরিচালন সমিতির প্রতিনিধি ও কর্মীদের ভবিষ্যত ঘিরে অন্ধকার নেমে এল। একে একে ক্লাবগুলো যেভাবে নিজেদের ক্লাবের কাজকর্ম স্থগিত করে দিচ্ছে, তাতে ভারতীয় ফুটবল মুখ থুবড়ে পড়লে বলার কিছু থাকবে না। দিল্লি বৈঠকের আগে চেন্নাইয়ের সিদ্ধান্তে ফেডারেশনের ওপর চাপ বাড়বে বই কমবে না।
এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত একাংশ যখন ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবের অক্ষমতার দিকে আঙুল তুলেছে, তখন একাংশ দায়ি করছেন এফএসডিএলের ভারতীয় ফুটবলে তুঘলকি মনোভাবকে। সমস্যাটা ঘোরালো হয়, সাজি প্রভাকরণকে সচিব পদ থেকে ফেডারেশন বরখাস্ত করার পর থেকেই । তার প্রতিবাদে আদালতের দারস্থ হন সাজি। সেই মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত সচিব পদটা ফাঁকাই পড়ে আছে। তারপর থেকে ফেডারেশনের আভ্যন্তরীণ ডামাডোল অব্যাহত। সভাপতি কল্যানের একের পর এক সিদ্ধান্তে জটিলতা বেড়েছে , বই কমেনি। এবার যখন আইএসএল ঘিরে এত অনিশ্চয়তা, তখন দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে দায়সারা বক্তব্য পেশ করে দায়িত্ব সেরেছেন কল্যান। ক্লাব প্রতিনিধিদের ঝড়ের মুখে পড়বেন, এই আশঙ্কায় বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যদি কল্যান গরহাজির থাকেন, তাহলে খুব একটা অবাক হওয়ার কিছু নেই।
এসবের মাঝে ফেডারেশনকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ি করে ক্লাবগুলোর কাছে একটা বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় বসে আছে এফএসডিএল। তাদের একটাই কথা, সময়ে তাদের শর্ত মেনে নিলে আইএসএলের আয়োজন সম্ভব হত। এখন আর সেটা সম্ভব নয়। কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায় না বেরুনো পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবল প্রশাসন থেকে পরিচালন, সবকিছু ঘিরেই একটা ধোঁয়াশা রয়েছে। সেই ধোঁয়াশা কাটুক, তারপর না হয়, নতুন করে নড়েচড়ে বসা যাবে।
হায়রে হতভাগ্য ভারতীয় ফুটবল!আদালতের বজ্র আঁটুনির ফাঁস ছাড়িয়ে নিয়মের বেড়াজাল টপকে, নয়া সংশোধিত সংবিধান আর নেতৃত্বের হাত বদলে কবে বল মাঠে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার। নাই বা এফএসডিএলের হাত ধরে আইএসএল হল, ফেডারেশনের নিজস্ব প্রচেষ্টায় জাঁকজমক কমিয়ে সেটা হলেই বা মন্দ কী? একের পর এক ক্লাবের কাজকর্ম বন্ধ হওয়ায় যে পরিবারগুলো দুর্দশার মুখে পড়েছে, তাদের অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলবে। ভারতীয় ফুটবলের থমকে যাওয়া স্রোতে আবার গতি আসবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
