অলস্পোর্ট ডেস্ক: একটা সাফল্যের পিছনে যেমন অনেক অনেক অধ্যাবসায় থাকে তেমনি থাকে তা ঘিরে একরাশ স্বপ্ন। স্বপ্ন এগিয়ে যাওয়ার, আরও উচ্চ মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। জেলা থেকে রাজ্য হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু একটা সাফল্য যখন পরের রাস্তা প্রশস্ত করে না তখন হতাশা গ্ৰাস করে। আরও হতাশা গ্ৰাস করে যখন সেই কেন-র উত্তর পাওয়া যায় না। ঠিক এমনটাই ঘটেছে সদ্য জাতীয় গেমসের মঞ্চ থেকে সোনা জিতে আসা জিমন্যাস্টের সঙ্গে। তিনি প্রণতি দাস। বাংলার প্রতিষ্ঠিত জিমন্যাস্ট। তবে আসন্ন বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তাঁর।
বৃহস্পতিবার কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় গেমসের কৃতিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে সেই ক্ষোভই উগড়ে দিলেন প্রণতি। তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। বৃষ্টি ভেজা ময়দানে এদিন বাংলার এই প্রজন্মের তারকা ক্রীড়াবিদদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চে তখন বাংলার ক্রীড়া প্রশাসকরা রীতিমতো আলো করে বসে। কে নেই সেই তালিকায় আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দোপাধ্যায়, সচিব অনির্বাণ দত্ত, সহসভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, বিওএ সচিব জহর দাস, কোষাধ্যক্ষ কমল মৈত্র। ছিলেন আরও অনেক ক্রীড়া প্রশাসক। সবাইকে উত্তরীয় ও মেমেন্টো দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। সঙ্গে প্রণতি দাসকে সেরা অ্যাথলিটের পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশেষ সম্মান জানানো হয় জাতীয় গেমসে বাংলার শেফ দ্যা মিশন বিশ্বরূপ দে-কে।
তবে এদিনের মঞ্চ থেকে উঠে এল বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রের একাধিক সমস্যার কথা। জাতীয় গেমসে খেলতে যাওয়া থেকে কিটস না পাওয়া, উঠে এল সেই সব বিষয়। তবে কেন যোগাসনের প্রতিযোগীরা খেলতে যাওয়ার আগে জার্সি পাননি সেটা এদিন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই জার্সি জিতে আসার পর পাবেন তাঁরা। তবে এদিন সব থেকে বড় বিতর্ক তুলে দিয়ে গেলেন জিমন্যাস্ট প্রণতি দাস। জাতীয় গেমসে এত ভাল পারফরমেন্সের পরও বিশ্বকাপগামী ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি তাঁর।

প্রণতি বলছিলেন, “কাল যখন চিঠিটা দেখলাম যেখানে আমার নাম নেই, অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এবার ভাবতে পারিনি বাদ পড়ব। জাতীয় গেমসে এত ভাল পারফর্ম করার পরও। সুযোগ পাওয়ার জন্য যা দরকার ছিল তাতে আমার থাকার কথা। কিন্তু আমি নেই।” এর সঙ্গে তিনি এও বলেন, “আমি যতদিন এই খেলায় থাকব, আমার এই লড়াই চলবে। আগেও আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। অন্যায়ভাবে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছি কিন্তু আমি তা নিয়ে কখনও মুখ খুলিনি। এবার এই কারণে বিষয়টি নিয়ে বলছি কারণ পরবর্তী প্রজন্ম যেন এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।”
জাতীয় গেমসে বাংলার শেফ দ্যা মিশন ছিলেন বিশ্বরূপ দে। অনুষ্ঠানে পৌঁছেই তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি বলেন, “জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। সভাপতিকে বলেছি চিঠি দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে। এটা তো হতে পারে না। বাংলার সঙ্গে এটা অন্যায়।” ইতিমধ্যেই বিওএ-র তরফে চিঠি দিয়ে প্রণতি দাসের বাদ যাওয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনও উত্তর আসেনি।
প্রণতি জাতীয় গেমসে জিমন্যাস্টিক্সে টিম ইভেন্টে সোনাজয়ের পরে আনইভেন বারসে বাংলাকে সোনা এনে দিয়েছিলেন। জয়নগরের মেয়ে প্রণতি স্কোর করেন ১০.৩০০। তার আগে আর্টিস্টিক অলরাউন্ড ইভেন্টে রুপো জিতেছিলেন প্রণতি। সোনা জিতেছিলেন ওড়িশার হয়ে নামা বাংলার অলিম্পিয়ান প্রণতি নায়েক। এই প্রণতি বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে বাংলার প্রণতি পাননি। যে ইভেন্টে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল সেখানে এমন একজন সুযোগ পেয়েছেন যে জাতীয় গেমসে সেই ইভেন্টে অংশ নেননি। আর এটা থেকেই তিনি মনে করছেন তিনি রাজনীতির শিকার।
৫ মার্চ ভারতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের বিশ্বকাপ খেলতে বাকু উড়ে যাওয়ার কথা। হাতে মোটেও সময় নেই। প্রণতির আশঙ্কা, যদি সুযোগও আসে তাহলেও কি তিনি সব নিয়ম মিটিয়ে সেখানে পৌছতে পারবেন?
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
