সুচরিতা সেন চৌধুরী, মন্দারমণি: জ্যোতির্ময়ী শিকদার নামটাকে কোনও একটা ভূমিকা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। গত ৩০ বছরে তাঁকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন রূপে। কখনও তিনি সফল ক্রীড়াবিদ তো কখনও রাজনীতিবিদ। মাঝে একটা দীর্ঘ অন্তরালে থাকা তার পর আবার ফিরে আসা খেলাধুলার মূলস্রোতে। এসেই অবশ্য বড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেলেন তিনি। কেন বাংলা থেকে উঠছে না সফল অ্যাথলিটরা?
পরিবারের ইচ্ছে এবং অ্যাথলিট তৈরি করার ব্যবস্থা যে দুই-ই প্রয়োজন তাই স্পষ্ট করে বলে গেলেন তিনি। বলছিলেন, “পরিবারকে চাইতে হবে ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করবে কিনা। তাঁর সঙ্গে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা অনুশীলনের। আমাদের রাজ্যে ৪০০ মিটারের ক’টা ট্র্যাক আছে? সারিতে, যুবভারতীতে ঢুকতে দেওয়খ হয় না। শুধু ক্লাবগুলোকে টাকা দিলেই কি আর সফল অ্যাথলিট তৈরি করা যায়?”
কিন্তু এতদিন কিছুটা যেন ছিটকেই গেছিলেন মূলস্রোত থেকে। বলছিলেন, “আসলে মেয়েদের যা হয়। বিয়ে, সংসার, সন্তান সামলাতে গিয়ে কিছুটা ছিটকে পড়তে হয়। আমারও ছেলে মানুষ করতে গিয়ে কিছুটা অন্তরালে চলে যেতে হয়েছিল। ছেলে এখন বড় হয়েছে এমবিএ পড়ছে তাই আমি আবার কাজে ফিরেছি।”
খেলা থেকে অনেকদিন আগেই অবসর নিয়েছেন তবে খেলার বাইরে থাকেননি। তাই ফিরেছেন। এবার তিনি যোগ দিয়েছেন অ্যাথলেটিক ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ায়। এই বাংলা তাঁকে কখনও ব্যবহার করেনি, সেই ক্ষোভটাও হালকা করে উঠে এল জ্যোতির্ময়ীর কথায়। বলছিলেন, “অনেকদিন এই জগতের বাইরে থাকার পর অ্যাথলেটিক ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দিয়েছি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে। কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। দেশ থেকে অনেক ভালো অ্যাথলিট উঠছে। নীরজ অলিম্পিকে পর পর দু’বার পদক পেয়েছে। অনেক বেশি অ্যাথলিট অংশ নিচ্ছে।”
তবে বাংলা থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে অ্যাথলিটরা। সাফল্য তো নেই-ই। সরস্বতী, জ্যোতির্ময়ী, সোমবার পর কিছুদিনের জন্য আশার আলো দেখিয়েছিলেন স্বপ্না বর্মন, তিনিও হারিয়ে গিয়েছেন। বাংলার অ্যাথলেটিক্সের এই দুরবস্থা যে জ্যোতির্ময়ীকে হতাশ করবে সেটাই স্বাভাবিক। বলছিলেন, “কী করে বলব। বাংলা তো আমাকে কোনও সুযোগই দিল না। হাতে কলম না থাকলে কি আর কাজ করা যায়? আর সে কারণেই আমাকে দেখতেও পায় না এখানকার মানুষরা,” একটা হালকা ক্ষোভ যেন বেরিয়ে এল মনের অন্দর থেকে।
কে জ্যোতির্ময়ী শিকদার তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে বর্তমান প্রজন্মের তিনি একজন প্রেরণা তো বটেই। ১৯৯৫ সালের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৮০০ মিটার দৌঁড়ে জয়। ১৯৯৮ সালের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৮০০ মিটার এবং ১৫০০ মিটার দৌঁড়ে ব্রোঞ্জ পদক এবং ১৯৯৮ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসের উভয় ইভেন্টেই সোনা জয়। তিনি ১৯৯৫ সালে অর্জুন পুরস্কার এবং ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি পদ্মশ্রীও পান।
সেই জ্যোতির্ময়ীকেই পাওয়া গেল মন্দারমণির আমার ট্রি রিসর্টের স্পোর্টস মিউজিয়াম উদ্বোধনে। আর সামনে যখন তিনি তখন বাংলার অ্যাথলেটিক্স নিয়ে কথা হবে না তাই তো হয় না।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
