অলস্পোর্ট ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত উইম্বলডন ফাইনালে হারের বদলা নিয়েই নিলেন নোভাক জকোভিচ। কালোর্স আলকারাজকে এক ইঞ্চিও জায়গায় ছাড়লেন না ২৩ বারের গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী এই সার্বিয়ান তারকা। সিনসিনাটি ওপেন-এর ফাইনালে প্রায় চার ঘন্টা লড়াইয়ের পর জয় তুলে নেন জকোভিচ। ম্যাচের ফল ৫-৭, ৭-৬ (৯-৭), ৭-৬ (৭-৪)।
বিশ্বসেরা দুই টেনিস তারকার মধ্যে টানটান লড়াই চলে প্রথম সেটে। দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই প্রচন্ড গরমের অসুস্থ বোধ করেন জকোভিচ। কোর্টের মধ্যেই তাঁকে ডাক্তার দেখেন। এর পর সুস্থ বোধ করলে খেলায় ফিরে আসেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় তিন ঘণ্টা ৪৪ মিনিটে। দ্বিতীয় সেটের শুরুতে ৪-২-এ এগিয়ে ছিলেন আলকারাজ। কিন্তু আলকারাজের একটু ভুলের সুযোগ নেন জকোভিচ। গেম ৪-৪ করে ট্রাইব্রেকারে পৌঁছায় সেট। সেখানে দ্বিতীয় সেট হারেন আলকারাজ।
জকোভিচ বলেন, ‘‘আমি সত্যিই জানি না কী বলব। আমার জীবনে সবচেয়ে কঠিনতম ম্যাচ ছিল এটি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। কখনও আমি এগিয়ে যাচ্ছিলাম তো কখনও আলকারাজ। সবমিলিয়ে এটা আমার কাছে কঠিনতম এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচ ছিল।’’
বিশ্বসেরা দুই তারকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আলকারাজ এদিন হেরে যাওয়ার পর বলেন, ‘‘আমি খুব গর্বিত। আমি জানি না কেন আমি কাঁদছি কারণ আমি শেষ পর্যন্ত খেলেছিলাম। সর্বকালের সেরাকে আমি হারিয়েছি। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে কোর্ট ছেড়েছি। সত্যিই এটা খুব শক্ত ম্যাচ ছিল। নোভাক প্রতি পাঁচ, ছয়, সাত বলে ফিরে এসেছেন। এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত দৌঁড়ে আসা খুবই কঠিন। আমি খুব ভালভাবে খেলেছি। নোভাকের খেলার ধরন বুঝে খেলা সত্যিই কঠিন।’’
তৃতীয় সেটেও টান টান লড়াই চলে। সপ্তম গেমে আলকারাজের সার্ভিস ভেঙে এগিয়ে যান জকোভিচ। কোনও মতেই হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেন না আলকারাজ। পরের গেমে জকোভিচের সার্ভিস ভাঙেন আলকারাজ। ৫-৫ করেন তিনি। টাইব্রেকারে গড়ায় তৃতীয় সেটও। সেখানে আলকারাজের আনফোর্সড এররের সুবিধা নেন জকোভিচ।
ম্যাচ জিতে জকোভিচ বলেন, ‘‘কালোর্স সত্যিই অসাধারণ একজন প্লেয়ার। ওর প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। খুব কম বয়সেই ও সাফল্য অর্জন করেছে। আমার কেরিয়ারের সব থেকে কঠিন প্রতিপক্ষ আলকারাজ। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা লড়েছি। এক বারের জন্যও আলকারাজ হাল ছাড়েনি। তবে এই দিনটা আমার ছিল।’’
এদিকে কোকো গফ রবিবার তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপা জিতে নেন। তিনি ক্যারোলিনা মুচোভাকে ৬-৩, ৬-৪-এ হারিয়ে মহিলাদের সিঙ্গলসে সিনসিনাটি ওপেন জিতে নেন। প্রথম ফরাসি হিসেবে খেতাব জিততে ১৯ বছর বয়সী আমেরিকান দু’ঘণ্টারও কম সময় নেন। জয়ের পর গফ বলেন, ‘‘এটি আমার কাছে অবিশ্বাস্য জয়। বিশেষ করে ইউরোপের পর। তার পর অনেক রাত আমি শুধু কেঁদেছি আর চেষ্টা করেছি সমস্যার সমাধান করার।’’ যার ফল শেষ পর্যন্ত পেলেন তিনি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
