Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
ভিনেশ ফোগত

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এশিয়ান গেমস ট্রায়াল থেকে ছাড় পাওয়া দুই কুস্তিগির ভিনেশ ফোগত এবং বজরং পুনিয়া-র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন বাকি কুস্তিগিররা। তাঁরা ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। সোমবার শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন ভিনেশ ও বজরং। তাঁরা জানিয়েছেন, তরুণ কুস্তিগিররা তাদের যেভাবে আদালতে টেনে নিয়ে গিয়েছিল তাতে তাঁরা কষ্ট পেয়েছেন। অন্যদিকে একই সঙ্গে জুনিয়র গ্র্যাপলারদের তাঁদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে দেখে তাঁরা খুশি। আইওএ অ্যাড-হক প্যানেল হ্যাংঝৌ গেমসের জন্য ১৮টি বিভাগে ট্রায়ালের ব্যবস্থা করেছিল কিন্তু বজরং (৬৫ কেজি) এবং ভিনেশ (৫৩ কেজি) তাঁদের বিভাগে সরাসরি ছাড়পত্র পেয়ে যান। তার পরই শুরু হয় প্রতিবাদ। জুনিয়র কুস্তিগির অন্তিম পাংঘল এবং সুজিত কালকাল দিল্লি হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিলে যেন ছাড়টি বাতিল করা হয় কিন্তু তাদের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

বজরং এবং ভিনেশ দু’জনেই প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে রয়েছেন। যে কারণে তাঁরা তাঁদেের এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ব্য়বহার করেছেন। লাইভ করে তাঁরা তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন।

“আমরা বিচারের বিরুদ্ধে নই। আমি অন্তিমকে দোষ দিতে পারি না। সে ভুল নয়। সে তার অধিকারের জন্য লড়াই করছে এবং আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছি। সে খুব ছোট, সে বুঝতে পারছে না আমরা ভুল নই,” বলেছেন ভিনেশ।

“আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে, শক্তিশালীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা আমাদের মাথায় সব দায়িত্ব তুলে নিয়েছি সেই সময় কেউ এগিয়ে আসেনি। ও বলেছে যে ও প্রতারিত হয়েছে, কিন্তু আমি কী (কমনওয়েলথ গেমস ট্রায়ালের সময়) প্রতারণা করেছি? যদি এটি করা হয়ে থাকে তবে এটি ব্রজভূষণ করেছিলেন বা করিয়েছিলেন। আমার কাজ ছিল কুস্তি করা, এবং আমি তা করেছি,’’ বলেন ভিনেশ ফোগত।

“যদি সে প্রতারিত হয়েছে বলে মনে হয় তবে তার সেই সময় আদালতে যাওয়া উচিত ছিল। খারাপ লাগছে। কিন্তু আমি আনন্দিত যে বাচ্চারা কথা বলা শুরু করেছে, তারা এখন সাহস সংগ্রহ করছে। এটি কুস্তির জন্য ইতিবাচক,” বলেছেন দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদক বিজয়ী ভিনেশ।

বজরং বলেছেন যে তাঁরা বিচারের পরে এবং পিটিশনে দিল্লি হাইকোর্টের আদেশের সিদ্ধান্তের পরেই এই বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। “এটা বলা হয়েছিল যে ৩-৪ জন কুস্তিগির আছে যারা ভিনেশকে হারাতে পারে কিন্তু প্রিয় অন্তিম, ভিনেশ হারেনি (এখনও) এবং হারবে না।”

“অন্তিম, তুমি বলেছিলে তুমি প্রথম ভারতীয় যিনি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন কিন্তু ভিনেশই একমাত্র মহিলা কুস্তিগির যিনি দু’টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদক জিতেছেন। আপনি আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন,” তিনি বলেন।

ভিনেশ বলেছিলেন যে তাঁরা বিচারকে ভয় পায় না। “আমরা কুস্তির জন্য ২০ বছর দিয়েছি। ও বলছে আমি অনুশীলন করিনি কারণ আমি প্রতিবাদের জায়গায় ছিলাম। আমরা এখনও ক্ষুধার্ত। আমরা যখন আমাদের কেরিয়ারের শীর্ষে ছিলাম তখন আমরা সবকিছুকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছিলাম। এই ট্রায়ালের জন্য তারা যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যদি তারা ধর্নায় তার কিছুটা করতে তাহলে ব্রিজভূষণ আজ বাইরে থাকত না এবং আমরা সবাই কুস্তির প্রতিযোগিতায় নামতাম।’’

তিনি বলেন, “আমরা ট্রায়াল থেকে পালিয়ে যাইনি, আমরা শুধু প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সময় চেয়েছিলাম। আমাদের ট্রায়াল নিন, আমরা দেশ থেকে পালিয়ে যাইনি। কেউ জিতেছে, কেউ হেরেছে কিন্তু আমাদের প্রশিক্ষণের জন্য এক মাসেরও সময় দেওয়া যাবে না? ২০ বছর হয়ে গিয়েছে আমি এই খেলায় আছি। দু’বার আমি অলিম্পিক থেকে পদক ছাড়াই ফিরে এসেছি। আমার মা এবং আমি অলিম্পিকে জেতার স্বপ্ন দেখেছি। কেন আমি ছেড়ে দেব।’’

“তরুণদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তারা যদি বলে আমরা কিছুই করিনি, এটা ভুল। এটা কষ্টের। আমরা পদক জিতে অবদান রেখেছি কিন্তু খেলা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যারা নিজেদেরকে কুস্তির ভগবান বলে, তারা নারীদের সম্মান করতে জানে না,” আরও বলেন তিনি।

বজরং বলেন, “সব কুস্তিগিররা একসঙ্গে বসতে পারে। আপনি আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিন এবং আমরা আপনার উত্তর দেব। যদি আমরা ভুল প্রমাণিত হই, আমরা কুস্তি ছেড়ে দেব।” এর সঙ্গে তাঁরা লন্ডন অলিম্পিক পদক জয়ী যোগেশ্বর দত্তকে বিদায়ী ডাব্লুএফআই প্রধান ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পাশে থাকার জন্য নিন্দা করেছেন, যিনি মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *