Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’, চন্দ্রবিন্দুর গানের এই লাইনটা মনে হয় একশো শতাংশ প্রযোজ্য সোমবারের ইস্টবেঙ্গলের জন্য। আইএসএল ২০২৩-২৪-এ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর একটা দুরন্ত শুরু। একটা জয়, দুটো ড্র আর তিনটে হার নিয়ে আইএসএল ২০২৩-২৪-এর সাত নম্বর ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল এফসি। শুরু থেকেই দাপট দেখাল লাল-হলুদ ব্রিগেড। একদিন আগেই ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত বলে দিয়েছিলেন এই ম্যাচে তাঁদের জিততেই হবে এবং দলও তৈরি। এক কথায় যেমন বলা তেমন কাজ। অতীতে একাধিকবার দেখা গিয়েছে এগিয়ে থেকেও শেষবেলায় হার বা ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তাঁর দল। এদিনও প্রথমার্ধে দুটো অসাধারণ গোল করে এগিয়ে গেলেও সমর্থকদের মধ্যে সেই পুরনো ধুকপুকানিটা ছিলই। তবে প্রথমার্ধে যেখানে শেষ করেছিল এদিনের ইস্টবেঙ্গল যেন সেখান থেকেই শুরু করল দ্বিতীয়ার্ধ। প্রথমার্ধের দুই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে এল আরও তিন গোল। জোড়া গোল করলেন অধিনায়ক ক্লেটন সিলভা ও নন্ধা কুমার।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপাতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। শুরুতে কিছুটা চাপ দেয় নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডও। তবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি তারা। একাধিকবার গোলের সামনে পৌঁছে গিয়েও কখনও নিজেদের ভুলে আবার কখনও ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ বা শেষরক্ষণে আটকে গেল উত্তর-পূর্ব ভারতের এই দল। এদিন অবশ্য তারা ইস্টবেঙ্গলের থেকে এগিয়েই শুরু করেছিল। লিগ তালিকার ছয় নম্বরে ছিল তারা। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল নেমেছিল নয় নম্বরে থেকে। এই জয়ের সঙ্গেই উঠে এল সাত নম্বরে।

এদিন ম্যাচের প্রতিটি গোলই ছিল দেখার মতো। ১৪ মিনিটে বাঁ দিক থেকে পিভি বিষ্ণুর মাপা পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে বোরহা হেরেরার বাঁ পায়ের জোড়াল শট আটকানোর সুযোগই পাননি প্রতিপক্ষ গোলকিপার। ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যেই আবার গোল। এবার গোলের কারিগর ক্লেটন সিলভা। মাঝ মাঠ থেকে ৫-৬টি পাস খেলে বক্সের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্রেসপো। সেই বলেই তাঁর ছোট্ট একটা ব্যাকহিল থেকে মন্দারের পাস ক্লেটনের মাথার হালকা টোকায় জরিয়ে যায় জালে। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে যেন নতুন করে অক্সিজেন পেল দলটা। যার প্রভাব দেখা গেল দ্বিতীয়ার্ধে।

ড্রেসিংরুম থেকে কোন ভোকাল টনিক নিয়ে নেমেছিলেন ইস্টবেঙ্গল প্লেয়াররা তা তাঁরাই বলতে পারবেন তবে দলে বেশ কিছু পরিবর্তন করেও ছন্দ হারাল না ইস্টবেঙ্গল। আইএসএল-এর এই মরসুমে এই প্রথম। এর মধ্যে প্রথমার্ধের শেষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হল হরমনজ্যোত খাবরাকে। তবে কোনও ভাবেই হাল ছাড়েনি ইস্টবেঙ্গল। ডু অর ডাই মানসিকতাটা প্লেয়ারদের মধ্যে স্বযত্নে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন কোচ কুয়াদ্রাত।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খেল দেখাল মহেশ সিং ও নন্ধ কুমার জুটি। সঙ্গে বাড়তি পাওনা ক্লিটনের দ্বিতীয় গোল। মরসুমের পঞ্চম গোল পেলেন তিনি। ৬২ মিনিটে ডান দিক থেকে মহেশের পাস বক্সের ভিতর থেকেই জালে জড়ালেন নন্ধা। ৬৬ মিনিটে সেই নন্ধা কুমারের পাস থেকে ক্লিটনের ফিনিশ। তার অনেক আগেই ম্যাচ চলে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের দখলে, ম্যাচ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল নর্থ-ইস্ট। তার মধ্যেই নন্ধা কুমারের দ্বিতীয় গোল সেটাও সেই মহেশের পাস থেকে। ৮১ মিনিটে। ৫-০ গোলে জয়ের ইতিহাসটা ততক্ষণে তৈরি করে ফেলেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। যার জেরে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি পেয়েও তা গোলে রুপান্তরিত করতে পারল না নর্থ-ইস্ট।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন গিল, হরমনজ্যোত খাবরা (মহম্মদ রাকিপ), লাল চুংনুঙ্গা, হিজাজি মেহের, মন্দার রাও দেশাই, সল ক্রেসপো, বোরহা হেরেরা (পার্দো লুকাস), সৌভিক চক্রবর্তী, পিভি বিষ্ণু (নন্ধা কুমার), নাওরেম মহশ (সিভেইরো তোরো), ক্লেটন সিলভা

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *