সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: রাত পোহালেই কলিঙ্গ সুপার কাপ খেলতে মাঠে নেমে পড়বে দেশের অন্যতম সেরা ফুটবল দলগুলো। আই লিগ ও আইএসএল মিলিয়ে এক কথায ভারতীয ফুটবলের সেরাদের লড়াই দেখা যাবে এই টুর্নামেন্টে। ইস্টবেঙ্গল বনাম হাযদরাবাদ এফসি ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের সুপার কাপ। সম্প্রতি ভারতীয় খেলার মূল আকর্ষণের জায়গা হয়ে ওঠা ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামেই বসতে চলেছে এই সুপার কাপের আসর। ইতিমধ্যেই সব দল পৌঁছে গিয়েছে ভেন্যুতে। ভুবনেশ্বরের খেলার মাঠ থেকে অনুশীলনের মাঠ, সব যে প্লেয়ার থেকে কোচ সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তা কোচের কথাতেই স্পষ্ট।
ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করল ভুবনেশ্বর সপ্তম ব্যাটেলিয়নের মাঠে। সবার শেষে মাঠে নামলেন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। নামতে নামতই তাঁর গলায় শোনা গেল মাঠের প্রশংসা। তিনি বলছিলেন, “দারুণ পিচ অনুশীলন করার জন্য।” একটা কথা বার বার উঠে আসে এই ভুবনেশ্বরের ক্রীড়া পরিকাঠামো দেখলে, আর তা হল বাকিরা কবে এভাবে ভাববে?
সুপার কাপের নতুন নিয়মে দেখা গেল ম্যাচের আগে সশরীরের সাংবাদিক সম্মেলন করবেন না কোচ ও প্লেয়ারররা। সেই প্রেস কনফারেন্স হবে জুম কলে। তাই মাঠেও অনুশীলনের আগে সহকারি কোচকে কথা বলার জন্য এগিয়ে দিলেন কুয়াদ্রাত। তবে ছুটি কাটিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল কোচ। আর কোচ যখন দারুণ মুডে তখন প্লেয়ারদেরও পাওয়া গেল একই মেজাজে। অনুশীলনের শুরুতে দলকে দূর থেকে মাপছিলেন কুয়াদ্রাত। মাঝে মাঝে নিজের ছন্দেই বল নিয়েও জাগলিং করছিলেন।
অনুশীলনের শুরুতে ছোট্ট পেপ টক দলের জন্য। মাঠের মাঝখানে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে এক কথায় টিম বিন্ডিংকে আরও শক্তিশালী করা। তার মধ্যেই বার কয়েক শোনা গেল হাসির শব্দও। আইএসএল-এ খুব ভাল জায়গায় না থাকলেও খুব খারাপও নেই ইস্টবেঙ্গল। কোচকে বার বার বলতে শোনা গিয়েছে, “আমরা উন্নতি করছি।” বিশেষ করে যেভাবে ডুরান্ড কাপে দারুণ খেলে শেষ বেলার হারের মুখ দেখতে হয়েছিল তার পর মনে করা হয়েছিল আইএসএল-এ আরও ভাল জায়গায় থাকবে দল। কিন্তু তেমনটা হয়নি। এখন কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের পাখির চোখ এই সুপার কাপ।

দলের সহকারি কোচ দেলগাদো বলছিলেন, “এটা একদম একটা আলাদা খেলা। তাই সেখানে সব দলই শক্তিশালী। আমরা এই টুনামেন্ট খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই। যেভাবে ডুরান্ড বা অন্য টুর্নামেন্টে খেলেছি সেটাই খেলতে চাই।” তাঁর মতে, সুপার কাপের মতো টুর্নামেন্টে খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছে পুরো দল। কয়েকদিনের ছুটি কাটিয়ে দু’দিন আগেই মাঠে ফিরেছে গোটা দল।
এই টুর্নামেন্টেই আবার মুখোমুখি হতে হবে মোহনবাগানের। দেলগাদো মেনে নিচ্ছেন, লড়াইটা সহজ হবে না। তিনি বলছিলেন, “আমরা আমাদের ক্ষমতা এতদিন দেখিয়েছি যে আমরা সব দলকেই হারাতে পারি। তবে এখানে আমাদের গ্রুপে সব দলই শক্তিশালী, আমাদের জন্য নক-আউটে যাওয়া সহজ হবে না। তবে আমরা তো অবশ্যই চেষ্টা করব সেখানে পৌঁছতে।”
দলে তেমন কোনও চোট আঘাতের সমস্যা নেই। একমাত্র মন্দার রাও দেশাই চোট সারিয়ে দলে ফিরতে পারেননি। বাকি পুরো দলকেই ইস্টবেঙ্গল হাতে পাচ্ছে জাতীয় দলের প্লেয়ার ছাড়া। সেদিক থেকে দেখতে গেলে গ্রুপে ভাল জায়গায় রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তবুও প্রথম ম্যাচে নামার আগে দুর্বল হায়দরাবাদ এফসিকেও সমীহ করছে ইস্টবেঙ্গলের সহকারি কোচ। তাই সমর্থকদের উদ্দেশে দূরে বসেও সমর্থনের দাাবি ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
