অলস্পোর্ট ডেস্ক: শুরুতেই অজয় ছেত্রীর চোটে ম্যাচ শুরু হতে কিছুটা দেড়ি হলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মুখ নিজেদের দিকে ঘোরাতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর আইএসএল-এ নর্থইস্টের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যেতে হল। এদিন ঘরের মাঠে প্রথম থেকেই লাল-হলুদকে চাপে রেখেছিল হোমটিম। যার ফল তিন মিনিটেই প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন টমি জুরিক। নেস্টের অ্যালবিয়াচে পাস থেকে বক্সের ডানদিকের কোণা দিয়ে টমির ডান পায়ের জোড়াল শট চলে যায় গোলে। এর পর থেকে ম্যাচের রাশ পুরোটাই চলে যায় নর্থইস্টের হাতে। সেখান থেকে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর সেটা সম্ভব হয়নি কলকাতার দলের পক্ষে।
তিন মিনিটে গোল করে গিয়ে যাওয়ার পর ১০ মিনিটের মাথায় আবার গোলের সুযোগ চলে এসেছিল নর্থইস্টের সামনে। সেই টমি জুরিকের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। তবে ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময় নষ্ট করেনি হোম টিম। এবার গোলের কারিগর ছিলেন প্রথম গোলের রূপকার নেস্টর আলবিয়াচ। রেডিম রিয়াংয়ের পাস থেকে নেস্টরের বাঁ পায়ের শট চলে যায় গোলে। ১৫ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে আরও চাপে ফেলে দেয় নর্থইস্ট।
এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখে পর আইএসএল ম্যাচ আর খেতে পারবেন না অধিনায়ক ক্লেটন সিলভা। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণে দাপট দেখাতে থাকে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ৩১ মিনিটে প্রথম গোলের আধা সুযোগ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্সের বাইরের থেকে শট একদম গোলমুখেই ছিল কিন্তু গোলকিপারের হাতে তা আটকে যায়। সুযোগ তৈরি করেছিলেন ক্লেটন সিলভাও। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেই।
শেষ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল গোলের মুখ খুলতে সক্ষম হয় ৫২ মিনিটে। ক্লেটন সিলভার থেকে পাওয়া একটা থ্রু বল ধরে বক্সের ডান দিকের কোণা থেকে নন্ধা কুমারের ডান পায়ের শট চলে যায় নর্থইস্ট গোলে। ২-১ করে কিছুটা স্বস্তি আসে লাল-হলুদে। ব্যবধান কমলে আবার আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় নর্থইস্ট। এদিন ইস্টবেঙ্গল তার দুই নবাগত বিদেশিকে নামিয়ে দিয়েছিলেন খেলতে। ৬১ মিনিটে সায়নের পরিবর্তে ফেলিসিও ব্রাউন ও ৭৫ মিনিটে অজয় ছেত্রীর পরিবর্তে ভিক্টর ভাজকুয়েজকে নামিয়ে দেন কার্লেস কুয়াদ্রাত।
এর মধ্যেই অবশ্য ৩-১ করে ফেলেছে নর্থইস্ট। দলের হয়ে তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলেন টমি জুরিক। ৬৫ মিনিটে দীনেশ সিংয়ের পাস ধরে বকসের বাইরে থেকেই তাঁর ডান পায়ের জোড়াল শট চলে যায় গোলে। এর পরও পর পর গোলের সুযোগ তৈরি করে নর্থইস্ট। ৮১ মিনিটে আরও একবার ব্যবধান কমিয়ে আশা জাগায় ইস্টবেঙ্গলের নবাগত বিদেশি ফেলিসিও ব্রাউন। ক্লেটনের গোলমুখি শট আটকে দিলে ফিরে আসা বলে হেড করে কাজ শেষ করেন তিনি। কিন্তু তাতে পয়েন্ট নিয়ে ফেরা হল না ইস্টবেঙ্গলের। আট মিনিটের অতিরিক্ত সময়ও কাজে লাগল না।
