অলস্পোর্ট ডেস্ক: ২০২২ সালেই বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে সর্বোচ্চ সাফল্যের সঙ্গে বিদায় নিতে পারতেন লিওনেল মেসি; কিন্তু তিনি ফিরে এসেছেন এবং ছ’টি বিশ্বকাপে খেলা প্রথম খেলোয়াড় হওয়ার পথে হাঁটতে চলেছেন। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার দ্বারপ্রান্তে থাকা এই অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড চার বছর আগেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, কাতার বিশ্বকাপই হবে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। সেই উপসাগরীয় দেশটিতে তিনি তাঁর অনন্য জাদুকরী নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন এবং সাতটি গোল করে দলকে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে দেন—যার মধ্যে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালে করা দু’টি গোলও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সেই জয়ের পর মেসি বলেছিলেন, ‘‘স্বাভাবিকভাবেই, আমি এটার মাধ্যমেই আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চেয়েছিলাম। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার।’’ মনে হয়েছিল এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সাফল্য। তবে বিশ্বের এই সেরা ফরোয়ার্ড—যিনি এই মাসের শেষের দিকে ৩৯ বছরে পা দেবেন—স্বীকার করেছিলেন যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তিনি আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান। শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের আকর্ষণ উপেক্ষা করতে না পেরে তিনি খেলা চালিয়ে যান এবং গত মাসে লিওনেল স্কালোনির ২৬ সদস্যের দলে জায়গা করে নেন।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে থাকা আর্জেন্টিনা দলের মূল ভরসা এখনও সেই মেসিই, তিনিই মসিহা আর্জেন্টিনার।
গত সপ্তাহে আলাবামায় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে প্রীতি ম্যাচ জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, ‘‘শুরু থেকেই আমি এটা উপভোগ করছি। আমি খুশি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং বরাবরের মতোই উচ্ছ্বসিত।’’
কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট পর্যন্ত তিনি খেলবেন কি না, সে বিষয়ে বার্সেলোনার এই প্রাক্তন তারকা আগে কিছুটা অস্পষ্ট বা সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আগের বিশ্বকাপে আমি যা বলেছিলাম, তার কারণে কিছুটা সংশয় ছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের কারণে আমার মনে হয়েছিল যে আবার খেলাটা আমার জন্য কঠিন হবে।’’
‘‘কিন্তু আমি ভালো বোধ করতে শুরু করি এবং যেমনটা বলেছিলাম, দিন-প্রতি-দিন পরিস্থিতি অনুযায়ী এগোতে থাকি। খেলার সুযোগ পেয়েছি, নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছি, মাঠে সময় কাটিয়েছি এবং ফিট অনুভব করেছি—সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে,’’ যোগ করেন তিনি।
প্যারিস সেন্ট-জার্মেইতে হতাশাজনক দুই মরসুম কাটানোর পর ২০২৩ সালে ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মেসি নিঃসন্দেহে আর আগের মতো সেই ছন্দে নেই। মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার অর্থ হলো, তিনি এখন আর প্রতি সপ্তাহে ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না। তবে তিনি তাঁর মতো করেই দারুণ ছন্দে রয়েছেন; গত বছর দলকে এমএলএস কাপ জেতানোর পর ২০২৬ সালে ১৬টি ম্যাচে ১৩টি গোল করেছেন।
গত মাসে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে মায়ামির ৬-৪ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার কারণে মাঠ ছাড়ার পর এই আর্জেন্টাইন তারকার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০ মিনিটের জন্য মাঠে নেমে তিনি সেই শঙ্কা দূর করেন এবং মাঠে নামার অল্প সময়ের মধ্যেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন।
আটবারের ব্যালন ডি’ওর জয়ী এই তারকা গত বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার হয়ে আরও শিরোপা জিতেছেন; যার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জয়। দক্ষিণ আমেরিকান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি এবং যতদিন পারব, ততদিন খেলে যাব।’’
২০০৬ সালে জার্মানিতে কিশোর বয়সে মেসি প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে নিয়ে যান, যেখানে অতিরিক্ত সময়ে তারা জার্মানির কাছে পরাজিত হয়েছিল।
মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে তাঁর। যদি তিনি খেলেন, তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়ার পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি।
ক্যারিয়ারজুড়ে মেসির প্রধান ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোও তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছেন। সতীর্থ জুলিয়ান আলভারেজ ফিফা ডট কম-কে বলেছেন, ‘‘বয়সের কথা বিবেচনা করলে আমরা সবাই ভালোভাবেই জানি যে এটি লিও-র শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তবে দিনশেষে সিদ্ধান্তটা তাঁরই।’’
‘‘এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বিশেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে—শুধু আমাদের জন্য (সতীর্থ ও আর্জেন্টাইন জনগণ) নয়, বরং যারা তাঁকে দেখেন ও অনুসরণ করেন তাদের সবার জন্যই; কারণ তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। বিশ্বজুড়ে তিনি বিশাল প্রভাব ফেলেছেন।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
