Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আইএসএল ২০২৩-২৪

সুচরিতা সে চৌধুরী: এদিন মোহনবাগানের হয়ে তিনটি গোল এল তিন জনের পা থেকে ঠিকই কিন্তু সব গোলের পিছনে নাম লেখা থাকল এক জনেরই। তিনি মনভীর সিং । অ্যাসিস্টে হ্যাটট্রিক করে ফেললেন তিনি। ম্যাচের সাত মিনিটেই ডানদিক থেকে মনভীর সিংয়ের একটা অসাধারণ দৌঁড় আর মাপা পাসেই গোলের মুখ খুলে ফেলেছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। এই ম্যাচ জিতলেই লিগ টেবিলের দু’নম্বরে উঠে আসবে মোহনবাগান। কোচ অ্যান্তনিও লোপেজ হাবাসের লক্ষ্য টেবিলের শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করা যা আগে কখনও পারেনি মোহনবাগান। এই অবস্থায় দলের নবাগত কোচের প্রাথমিক লক্ষ্য হল লিগের এক নম্বর জায়গা। সেখান থেকেই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়াইয়ে নামবে মোহনবাগান। যেমন চাওয়া তেমনই কাজ। ৩-০ গোলে জিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল মোহনবাগান।

শুক্রবার ঘরের মাঠে জামশেদপুর এফসির মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান। এদিন ১৬তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। লিগ টেবিলের এক নম্বরে রয়েছে ওড়িশা এফসি। বৃহস্পতিবারই তাদের ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গল এফসিকে হারিয়ে ১৭ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের এক নম্বর জায়গাটা ধরে রেখেছে ওড়িশা। মোহনবাগান পাঁচ পয়েন্ট পিছনে থেকে এদিন খেলতে নেমেছিল। জিতে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চলে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিলেন হাবাস। সেই লক্ষ্যে সফল মোহনবাগান।

গোলের ব্যবধান ১-০ থেকে ২-০ হল ৬৮ মিনিটে। বার কয়েক এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যাতে সমতায় ফিরে এগিয়েও যেতে পারত জামশেদপুর এফসি। কিন্তু ফিনিশিংয়ের সমস্যায় ভুগল খালিদ জামিলের দল। ম্যাচ শুরুর সাত মিনিটের মধ্যেই ডানদিক থেকে মনভীর সিংয়ের বল নিয়ে দুরন্ত দৌঁড়ের পর বক্সের মধ্যে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোসকে। যেখান থেকে গোল না করতে পারাটাই অপরাধ। ভুল করেননি তিনি। এর পর প্রথমার্ধেই বেশ কয়েকবার গোলের মুখ খুলে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল জামশেদপুরের সামন।

২০ মিনিটে জামশেদপুরের ইমরান খানের জোড়াল শট বাঁচিয়ে দেন মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। ৩৫ মিনিটে আবার ড্যানিয়েল চিমার সেই একই দুরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। জামশেদপুর গোল না পেলেও বার কয়েক মোহনবাগান রক্ষণের ফাঁক ফোকরগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা নিশ্চিত বেশ কিছু সুযোগ নষ্টের পর শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় গোল পেল মোহনবাগান। এবার গোল এল জেসন কামিংসের পা থেকে।

৬৮ মিনিটে মনভীরের সঙ্গে খেলে উঠে গিয়েছিলেন কামিংস। ফাইনাল পাসটা বাড়িয়েছিলেন মনভীরই। দুটো গোলের ক্ষেত্রেই ফাইনাল পাস মনভীরের। সেই পাস ধরে দারুণ ফিনিশিং কামিংসের। বহুদিন পর গ্যালারি থেকে আবার জেসন কামিংসের নামের জয়ধ্বনী শোনা গেল। এদিন তাঁর নামের পাশে জোড়া গোল লেখা হতে পারত। এর ঠিক চার মিনিট আগেই কামিংসের শট পোস্টে লেগে ফেরে।

প্রথমার্ধের শেষে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। শেষের দিকে নেমে মোহনবাগানের হয়ে ৩-০ করেন আর্মান্দো সাদিকু। ম্যাচের বয়স তখন ৮০। এবারও গোলের জন্য মাপা বলটা বাড়িয়েছিলেন সেই মনভীর সিং। সব ঠিক থাকলে কম করে পাঁচ গোল করতে পারত মোহনবাগান। টিশার্ট বদলেও লাভ হল না খালিদ জামিলের।

মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, শুভাশিস বোস, হেক্টর ইউয়েস্তে, আনোয়ার আলি, জনি কাউকো (আর্মান্দো সাদিকু), লিস্টন কোলাসো (আশিস রাই), অভিষেক সূর্যবংশী, দীপক টাংরি (অনিরপদ্ধ থাপা), দিমিত্রি পেত্রাতোস (কিয়ান নাসিরি), জেসন কামিংস (লালরিনলিয়ানা হামতে), মনভীর সিং

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *