অলস্পোর্ট ডেস্ক: পরপর দুই ম্যাচে হার ও তার পরের ম্যাচে ড্র করার ফলে প্লে অফের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে যে অপেক্ষা ক্রমশ দীর্ঘায়িত হয়েছে কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি-র, মঙ্গলবার ওডিশা বনাম পাঞ্জাব এফসি-র ম্যাচের ফলের পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায় বুধবার চাপমুক্ত হয়েই মাঠে নামবে তারা। প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল এফসি, যারা এখন প্লে অফের দৌড়ে সবার পিছনে।
গত মাসে ফিরতি ডার্বিতে হার একেই ইস্টবেঙ্গলকে কোণঠাসা করে দিয়েছিল। তার ওপর রবিবার কলকাতায় চেন্নাইন এফসি-র জয় তাদের আরও পিছনে ফেলে দিয়েছে। ফলে তাদের প্লে অফের রাস্তা এখন বেশ কঠিন। এই কঠিন রাস্তা পেরিয়ে সেরা ছয়ে পৌঁছতে গেলে শুধু যে সব ম্যাচে তাদের জিততে হবে, তা নয়, তাদের ওপরে থাকা দলগুলিকেও পয়েন্ট খোয়াতে হবে। এত কিছু একসঙ্গে পাওয়া যে বেশ কঠিন, তা বুঝতেই পারছে লাল-হলুদ বাহিনী। তাই এখন আর তাদের কিছু হারানোর নেই। বরং যা কিছু আছে, তার সবটাই পাওয়ার। কিন্তু এই ম্যাচে হার মানে তাদের প্লে অফের সম্ভাবনা কার্যত শেষ। সে কথা মাথায় রেখেই মাঠে নামতে হবে ক্লেটন সিলভাদের।
শেষ পর্যন্ত কতটা কী পাবে তারা, সেটাই প্রশ্ন। বুধবার কোচির মাঠে সেই পাওয়ার লড়াইয়েই নামবে কার্লস কুয়াদ্রাতের দল। তবে হেড কোচকে ছাড়াই। কারণ, ডার্বিতে কার্ড দেখায় এই ম্যাচে তিনি সাসপেনশনের আওতায়। তাই দলের সঙ্গে ডাগ আউটে বসতে পারবেন না। এই পরিস্থিতির মধ্যে যিনি দলকে সবচেয়ে বেশি উজ্জীবিত করতে পারতেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, সেই প্রধান কোচই যদি দলের সঙ্গে না থাকতে পারেন, তা হলে কাজটা আরও কঠিন হওয়াই স্বাভাবিক।
কোচিতে গিয়ে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে খেলা যে কতটা কঠিন, তা আগেও হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। গত বছর নিজেদের মাঠে লাল-হলুদ বাহিনীকে ৩-১-এ হারিয়েছিল ব্লাস্টার্স। কলকাতায় অবশ্য ১-০-য় জিতে সেই হারের বদলা নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। এ বারের আইএসএলে কিন্তু হোম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল কেরালার দলের কাছে ১-২-এ হেরেছে। এ বার প্রীতম কোটালদের ঘরের মাঠে নেমে তাদের হারানোর চ্যালেঞ্জ বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে তাদের জন্য।
যদিও ইন্ডিয়ান সুপার লিগে কখন কোন ম্যাচে কারা জিতবে, তার কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। দু’দিন আগেই কলকাতায় এসে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হারিয়ে দিয়ে গিয়েছে লিগ টেবলের একেবারে নীচের দিকে থাকা চেন্নাইন এফসি। তার আগে ওডিশা এফসি-কেও হারিয়েছে তারা। ফেব্রুয়ারিতে এই কেরালা ব্লাস্টার্সই ঘরের মাঠে পাঞ্জাব এফসি-র কাছে ১-৩-এ হেরেছে। আসলে কলিঙ্গ সুপার কাপের পর থেকেই দুঃসময় ঘনিয়ে এসেছে ব্লাস্টার্সের আকাশে। পরপর তিনটি ম্যাচে ওডিশা এফসি, পাঞ্জাব এফসি ও চেন্নাইন এফসি-র কাছে হেরে প্লে অফের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে যায় তারা।
ঘরের মাঠে এফসি গোয়াকে হারালেও বেঙ্গালুরুতে গিয়ে ফের হার শুরু হয় তাদের। মোহনবাগান এসজি-ও কোচিতে গিয়ে তাদের ৪-৩-এ হারিয়ে আসে। জামশেদপুরেও ১-১ ড্র করে তারা। অর্থাৎ, খুব একটা ভাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে না ইভান ভুকোমানোভিচের দল। এই অবস্থায় তাদের চাপে ফেলতে পারলে ভাল ফল পেতে পারে ইস্টবেঙ্গল।
কিন্তু লাল-হলুদ শিবিরে সমস্যা তো একটা নয়, একাধিক। একেই কোচ নেই। তার ওপর দলের সর্বোচ্চ ভারতীয় গোলদাতা নন্দকুমার শেকরকেও পাবে না ইস্টবেঙ্গল শিবির। অস্ত্রোপচারের ফলে তিনি লিগ থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সল ক্রেসপোও পুরোপুরি সুস্থ নন। তিনিও এই ম্যাচে অনিশ্চিত। এই অবস্থায় ইস্টবেঙ্গল কী ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফের লড়াই শুরু করতে পারে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রিজার্ভ দলের দুই তরুণ ফুটবলার মহীতোষ রায় ও শ্যামল বেসরাকে দলে নিয়েছে লাল-হলুদ শিবির।
গোল করার লোক বলতে পড়ে রইলেন ক্লেটন সিলভা ও নাওরেম মহেশ সিং। বাকিরা কেউ গোল করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক নয়। গোলের সুযোগ তৈরি করছেন বটে, কিন্তু গোল করতে পারছেন না। নন্দই কিছুটা ভাল অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু তিনিও ছিটকে গিয়েছেন। তাঁর জায়গায় কেউ জ্বলে উঠতে পারেন কি না বা ক্লেটন, মহেশদের সাহায্য করতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।
পরিসংখ্যান বলছে
ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে পারলে আইএসএলে প্রথম একই মরশুমে একই দলকে দু’বার হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করবে ব্লাস্টার্স। কিন্তু গোল খাওয়ার দিক থেকে তারা ইদানীং বেশ ধারাবাহিক। গত সাতটি ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল হজম করেছে কেরালা ব্লাস্টার্স। এর আগে ২০১৫-১৬-য় টানা আটটি ম্যাচে তারা গোল খেয়েছিল। গত হোম ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে ৩-৪-এ হারে তারা। বুধবারও হারলে এই প্রথম ঘরের মাঠে টানা দু’টি ম্যাচে হারবে তারা।
চলতি লিগে ৪৬ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে মোট সাতটি গোল করেছে তারা। এই সময়ের মধ্যে আর কোনও দল এত গোল করতে পারেনি। শেষ দুই হোম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন ব্লাস্টার্সের বিদেশী ফরোয়ার্ড দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকস। সুতরাং তাঁকে কড়া পাহাড়ায় রাখতে হবে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডারদের।
গত তিনটি ম্যাচেই হারের মুখ দেখেছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। এর আগে ২০২৩-এর জানুয়ারিতে টানা চারটি ম্যাচে হেরেছিল তারা। চলতি লিগে হেড ক্লিয়ারেন্সে তারা দ্বিতীয় স্থানে। ন’টি ম্যাচে ৯১টি ক্লিয়ারেন্স তারা হেডে করেছে, গড়ে প্রতি ম্যাচে ১০.১। এক নম্বরে রয়েছে পাঞ্জাব এফসি (১১.৭)। চলতি লিগে ইস্টবেঙ্গলের ব্রাজিলীয় তারকা ক্লেটন সিলভার ক্রসিং অ্যাকিউরেসি দ্বিতীয় সেরা, ৪৭.৫%। ৪০টির মধ্যে ১৯টি ক্রসই নিখুঁত করেছেন তিনি।
দ্বৈরথের ইতিহাস
হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে সাতবার। তিনবার জিতেছে ব্লাস্টার্স ও একবার জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। তিনবার ড্র হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র জয় আসে গত মরশুমে ঘরের মাঠে। সেই ম্যাচে ১-০-য় জেতে কলকাতার দল। তার আগে ব্লাস্টার্স হোম ম্যাচে জেতে ৩-১-এ। দুই দলের প্রথম তিন সাক্ষাৎই ড্র হয়। ২০২০-২১-এ দু’বার ও ২১-২২-এর প্রথম ম্যাচ। সে মরশুমের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্লাস্টার্স প্রথম জেতে ১-০-য়। গত মরশুমের ফল তো আগেই জানানো হয়েছে। আর এই মরশুমের প্রথম মুখোমুখিতে কেরালার দল জেতে ২-১-এ।
ম্যাচ- কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি বনাম ইস্টবেঙ্গল এফসি
ভেনু- জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, কোচি
কিক অফ- ৩ এপ্রিল, ২০২৪, সন্ধ্যা ৭.৩০
সরাসরি সম্প্রচার ও স্ট্রিমিং
টিভি চ্যানেল: ডিডি বাংলা ও কালার্স বাংলা সিনেমা- বাংলা, স্পোর্টস ১৮ খেল- হিন্দি, স্পোর্টস ১৮ ১ এসডি ও এইচডি- ইংলিশ, ভিএইচ ১ এসডি ও এইচডি- ইংলিশ
অ্যাপ: জিও সিনেমা ও ওয়ানফুটবল
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
