Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
কার্লেস কুয়াদ্রাত

অলস্পোর্ট ডেস্ক: রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভলপমেন্ট লিগের প্রশংসা করলেন ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত । এই মুহূর্তে ভারতের সেরা ও বৃহত্তম যুব ফুটবল লিগ যে ভাবে দেশের উঠতি ফুটবলারদের আরও বেশি খেলার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে সাহায্য করছে, তার প্রশংসা করেছেন কুয়াদ্রাত। তাঁর মতে এই ডেভলপমেন্ট লিগ আইএসএলে খেলা ক্লাবগুলির রিজার্ভ দল ও সিনিয়র দলের মধ্যে সেতু তৈরির কাজটা করছে।

একাধিক মরসুম ধরে আইএসএলের সঙ্গে যুক্ত থাকা স্প্যানিশ কোচ কুয়াদ্রাত আইএসএলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটকে বলেন, “এই লিগের ফলে উঠতি ফুটবলাররা অনেক বেশি সময় ধরে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ভারতে যা এতদিন কঠিন ছিল। খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে এটা খুবই জরুরি। বেঙ্গালুরু এফসি-র সঙ্গে থাকার সময় বেঙ্গালুরুর বি টিমের একাধিক ম্যাচ দেখেছি, যেখানে তারা ৬-০, ৮-০-য় জিতেছে। কিন্তু এ রকম ম্যাচ খেলোয়াড়দের কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে না। এই ধরনের সহজ ম্যাচ খেলার পরে যখন তারা আইএসএলে নামে, তখন তা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে ওঠে। তাই আরএফডিএল এই সব উঠতি খেলোয়াড়দের সমবয়স্কদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে। আমি কয়েকটা ম্যাচ দেখেছি। ২-০, ১-০-র মতো ক্লোজ রেজাল্ট হয়েছে। মানে এই ম্যাচগুলো বেশ পরিশ্রম করে জিততে হচ্ছে। তার মানে এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্ট”।

যুব লিগ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “এই লিগে খেলোয়াড়দের নিজেদের উজাড় করে দিতে হচ্ছে। তারা অনেক কিছু শিখতে পারছে। কিছু খেলোয়াড় তো প্রথম দলের হয়েও খেলে। তবে তাদের পক্ষে যুব লিগে অনেক বেশি সময় খেলার সুযোগ পাওয়া বেশি প্রয়োজন। যেমন আমাদের সায়ন ঘোষ, আরএফডিএলে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলত। ও এখন প্রথম দলের হয়েও খেলে। এই সুযোগটা ওদের মতো খেলোয়াড়দের দিচ্ছে আরএফডিএল-ই”।

কুয়াদ্রাত মনে করেন, দলের যুব ফুটবলারদের পক্ষে সিনিয়র দলের হয়ে আইএসএল ম্যাচের শেষের দিকে কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য নামার চেয়ে যুব লিগে ৯০ মিনিট পুরো খেলা অনেক বেশি উপকারী। এর ফলে তাঁর মতো কোচেদেরও নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করে আনতে অনেক সুবিধা হয়।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই লিগের ম্যাচগুলিতে যুব খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স চাক্ষুষ দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের সিনিয়র দলে আনা যায়নি তাদের। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়লে ওরা কী করতে পারে, তা দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এ মরশুমে আমরা অনেককেই সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ দিয়েছি। ওরা অনেকেই প্রথম আইএসএলে নেমেছে। কিন্তু ওদের ৯০ মিনিট খেলাটা একেবারে অন্য রকম ব্যাপার। আরএফডিএলে সেটাই হচ্ছে। ওরা অনেকক্ষণ খেলতে পারছে এবং আমরাও ওদের ভাল ভাবে দেখে নিতে পারছি”।

এ বছর ইস্টবেঙ্গল আরএফডিএলে এখন পর্যন্ত বেশ ভাল ফল করেছে এবং পূর্বাঞ্চলের সেরা দল হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছে। সায়ন ব্যানার্জি, শ্যামল বেসরা, মহীতোষ রায়, আমন সিকে, জেসিন টিকে, পিভি বিষ্ণুর মতো কয়েকজন ফুটবলারকে রিজার্ভ দল থেকে সিনিয়র দলে নিয়ে আসা হয়েছে।

ডেভলপমেন্ট লিগ থেকে এ পর্যন্ত ৪৫ জনেরও বেশি ফুটবলার ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। চলতি মরশুমে যেমন মহম্মদ আইমেন, মহম্মদ আজহার, ভিবিন মোহনান, নিতেশ দরজি, নিখিল বারলা ও নিখিল প্রভু বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলছেন।

এ মরসুমে ২০০৩-এর ১ জানুয়ারি বা তার পরে যাদের জন্ম, তারা রিলায়্যান্স যুব লিগে খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিচ্ছে। লিগের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের দিন প্রতি দলে সর্বোচ্চ পাঁচজন এমন খেলোয়াড় থাকতে পারে, যাদের জন্ম ২০০১-এর ১ জানুয়ারি। তবে তাদের মধ্যে তিনজনের বেশি একসঙ্গে মাঠে থাকতে পারবে না।

আটটি অঞ্চলের বাছাই পর্বের গণ্ডী পেরিয়ে মোট ২০টি দল আরএফডিএলের জাতীয় পর্যায়ে খেলবে। তাদের মধ্যে থেকে চারটি সেরা দল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে। উত্তর থেকে পাঞ্জাব এফসি ও দিল্লি এফসি, দক্ষিণ থেকে বেঙ্গালুরু এফসি, চেন্নাইন এফসি ও রুটস এফসি, গোয়া অঞ্চল থেকে থেকে এফসি গোয়া, ডেম্পো এসসি ও প্যাক্স অফ নাগা এসসি, মেঘালয়-অসম অঞ্চল থেকে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি, পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্টবেঙ্গল এফসি, মোহনবাগান এসজি, অ্যাডামাস ইউনাইটেড এসএ এবং কেরালা অঞ্চল থেকে মুথুট এফএ, কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি ও পারাপ্পুর এফসি জাতীয় পর্যায়ের গ্রুপলিগে অংশ নেবে। মিজোরাম, মুম্বই ও কেরালা অঞ্চল থেকে আরও কয়েকটি দল যোগ্যতা অর্জন করবে।

(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *