মোহনবাগান ০ ইন্টার কাশী ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: আইএসএলের অ্যাওয়ে ম্যাচে এফসি গোয়ার সঙ্গে ড্র করার পর মঙ্গলবার ঘরের মাঠে যুবভারতীতে ইন্টার কাশীর কাছেও আটকে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ছন্নছাড়া উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেলে সমস্যাজর্জরিত ইন্টার কাশীর সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট পেয়ে ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের ওপর চাপ বাড়িয়ে ফেলল। ইস্টবেঙ্গলের সমসংখক ম্যাচে সমসংখক পয়েন্ট থাকলেও , তারা গোল পার্থক্যে অনেকটা এগিয়ে, তাতেই লিগ টেবিলের এক নম্বরে। মোহনবাগান রইল দ্বিতীয় স্থানে। তারকাখচিত মোহনবাগানের পয়েন্ট কাড়ার জন্য কৃতিত্ব দিতেই হবে হাবাসের অনুপস্থিতিতে কাশীর কোচের দায়িত্ব পালন করা অভিজিত মন্ডলকে।
খেতাব দৌড়ে থাকতে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জিততেই হবে, এই অঙ্কটা মাথায় রেখেই খেলা শুরু করেছিল সুবজ মেরুন ব্রিগেড। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ড্র করাতে মঙ্গলবার ইন্টার কাশী ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়াটা জরুরি ছিল তাদের, ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের(১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট) মুখোমুখি হওয়ার আগে। গোয়া ম্যাচে চোট সমস্যার কারণে আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা ও সাহাল পুরো সময় খেলতে পারেননি। সেই সমস্যা না মেটায় আপুইয়াকে কাশীর বিরুদ্ধে টিম লিস্টেই রাখেননি মোহনবাগানের হেড স্যার সের্জিও লোবেরা। থাপার জায়গা হয়নি প্রথম একাদশে। তবে আক্রমণের সাবলীল ভাব অক্ষুন্ন রাখতে দিমিত্রিয়স ও কামিংসের সঙ্গে সাহালকে রাখেন তিনি। রাইট উইং হাফে মনবীর ও লেফট উইংয়ে রবসনকে খেলিয়ে লোবেরা চেয়েছিলেন কাশীর জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে লোবেরা বলেইছিলেন, ইন্টার কাশী দলে যতই সমস্যা থাকুক, কোচের ভূমিকায় হাবাস না থাকুন, ওরা লড়বে, রক্ষণ সংগঠন সংঘবদ্ধ রেখে। বাগান কোচের অনুমান যে সঠিক ছিল,সেটা দেখা গেছে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অভিজিত মন্ডলের নির্দেশ মেনে খেলা কাশীর ফুটবলারদের নাছোড়বান্দা মনোভাবে। পকেট ফাঁকা মাইনে না পাওয়ায়, তবু কাশীর ফুটবলারদের ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে কোনও কার্পণ্য দেখা যায়নি। আর সেকারণে প্রথম ৪৫ মিনিটে কাশীর রক্ষণে একবারও ফাটল ধরাতে পারেনি। গোল লক্ষ্য করে কোনও শট নিতে পারেনি। জেমি ম্যাকলারেনের মতো গোলমেশিনের অভাবটা প্রবলভাবেই ধরা পড়ে বাগানের খেলায়। লিস্টনের না থাকাটাও সুযোগ তৈরি না হওয়ার অন্যতম কারণ।
বরং বলতে হবে, ছোট ছোট পাসে নিজেদের মধ্যে দেওয়া নেওয়া করে প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলার মাধ্যমে বাগান রক্ষণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ছাড়েনি ইন্টার কাশী। শুভাশিস বসুকে বসিয়ে লেফট ব্যাকে অভিষেককে রেখে রাইটে অময় রানওয়াডেকে ব্যবহারের পথে হেঁটেছিলেন বাগান কোচ লোবেরা। সম্ভবত এতে প্রাথমিকভাবে রক্ষণের বাঁধুনিতে খানিকটা আলগা ভাব এসে থাকতে পারে। সেসুযোগে খেলার গতির বিরুদ্ধে আচমকাই মোহনবাগান রক্ষণের অগোছালো ভাবের সুযোগে ৯ মিনিটে ম্যাচের সহজতম গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইন্টার কাশী।
আলফ্রেড প্লানাস মোয়া বাগান বক্সের বাইরে বল পেয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পায়ের জাদুতে ড্রিবল করে ঢুকে পড়ে নরিস পেতকেভিসিয়াসের সঙ্গে ওয়াল খেলে, ডানদিকে পাস বাড়ান একবারে অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়ানো মহম্মদ আসিফের পায়ে। সামনে ফাঁকা গোল। বাগান গোলকিপার বিশালও হোল বাঁচানোর জায়গায় ছিল না। শুধু বলটা জালের ভেতর ঠেললেই গোল। অথচ সেই বলটাই অবিশ্বাস্য ভাবে বাইরে মেরে ইন্টার কাশীকে এগিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বঞ্চিত করলেন আসিফ। ক্ষমার অযোগ্য মিস।
গোল পেতে মরিয়া মোহনবাগান কোচ লোবেরা দ্বিতীর্য়ার্ধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বদল আনেন। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকা কামিংসের জায়গায় বিরতির পর ম্যাকলারেন ও রবসনের বদলি হিসেবে লিস্টনকে নামান গোলের মুখ খুলতে। ৫১ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলের সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের। অভিষেকের মাইনাস থেকে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা দিমিত্রির নেওয়া শট সোজা চলে যায় কাশী গোলকিপার শুভম দাসের হাতে।
লোবেরা বিলক্ষণ বুঝেছিলেন, অময় রানাওয়াডেকে যে দায়িত্ব তিনি দিয়েছিলেন, সেটা পূরণ করে উঠতে পারছেন না। তাই আর দেরি না করে ৫৮ মিনিটে অভিষেককে তাঁর নিজস্ব পজিশন রাইট ব্যাকে পাঠিয়ে অময়ের জায়গায় লেফট ব্যাকে অভিজ্ঞকে শুভাশিসকে নামান। উদ্দেশ্য ছিল শুভাশিসের ওভারল্যাপ দৌড়কে কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ানো। অতীতে অনেক ম্যাচেই শুভাশিস আক্রমণে বাড়তি সাহায্য করেছেন তাই নয়, গোল করে দলকে জয়ও এনে দিয়েছেন।
৬০ মিনিটের মাথা থেকে মোহনবাগানের মধ্যে গোল পাওয়ার একটা বাড়তি তাগিদ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। দিমিত্রিয়সের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বক্সের মাঝে সুবিধাজনক অবস্থায় বল পেয়েও সাহাল শট নিতে দেরি করায়, কাশীর ডিফেন্ডাররা সেই বল ক্লিয়ার করে দেন। ৮৫ মিনিটে দিমিত্রির পাস থেকে বক্সের মাঝে বল পেয়ে ম্যাকলারেন শট নিলে ইন্টার কাশী গোলকিপার শুভম তা রুখে দিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান। উল্টে ৯২ মিনিটে গোল খেয়ে যাচ্ছিল মোহনবাগান। ইন্টার কাশীর রোহিত দানুর শট গোলকিপার বিশাল কায়েতের গায়ে লেগে ফিরলে হার বাঁচে মোহনবাগানের।
মোহনবাগান: বিশাল, অময়, মেহতাব, টম, অভিষেক, মনবীর(অনিরুদ্ধ), টাংরি, সাহাল, রবসন(লিস্টন), দিমিত্রিয়স(কিয়ান), কামিংস(ম্যাকলারেন)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
