অলস্পোর্ট ডেস্ক: বাংলার ফুটবলে এ যেন এক আশার আলো। ভবিষ্যত তো সময়ই বলবে কিন্তু তার উদ্যোগটাই যে নেওয়া হয়ে ওঠে না। তবে সেই না হওয়াকে বদলে দেওয়ার উদ্যোগটা নিয়েই ফেলল ভবানীপুর এফসি । লক্ষ্য তৃণমূল স্তর থেকে ফুটবল প্রতিভা তুলে আনা।
ভারতে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা তুলে আনতে উদ্যোগী হয়েছে লা লিগা। নিয়ে আসা হয়েছে ‘ফুটবল ডেভলপমেন্ট প্ল্যান’। যার মূল উদ্দেশ্য হল, এ দেশের তরুণ, সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের, নিজ-পদ্ধতিতে শেখানো, ট্রেনিং করানো। ঠিক যে পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্ব ফুটবলকে তারা অঢেল ফুটবল-প্রতিভার সন্ধান দিয়েছে। যে ফুটবলাররা পরবর্তী সময়ে দাঁপিয়ে বেরিয়েছেন বিশ্বমঞ্চে। আর পুরো প্রকল্পই লা লিগার ‘গ্লোবাল টেকনিক্যাল ডিরেক্টর’ ও তাঁর টিমের মস্তিষ্কপ্রসূত। যে টিম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। যে প্রকল্পের উদ্দেশ্যদ হল বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন প্রদেশের ফুটবল-সংস্কৃতির সঙ্গে স্পেনীয় ফুটবলের নৈপুণ্যর ও টেকনিকের সংমিশ্রন ঘটানো। এবং এই বিশেষজ্ঞদের টিমে রয়েছেন স্পেনের মিগুয়েল কাসাল, যিনি ভারতে লা লিগা অ্যাকাডেমি ফুটবল স্কুলের ডিরেক্টর।
ভবানীপুর এফসি প্রোইন্ডিয়া সেন্টার অফ এক্সেলেন্স তিনটে বিষয়ে মন দিচ্ছে—
এক) লা লিগা অ্যা কাডেমি প্রদত্ত ফুটবল-পাঠ্যরক্রম এএফসি ও লা লিগার অনুমোদিত কোচদের হাতে তুলে দেওয়া।
দুই) ‘স্টেপ আউট অ্যা নালিটিক্স’-কে নিযুক্ত করা। বেঙ্গালুরু-জাত যে সংস্থা আই লিগের বিভিন্ন পেশাদার টিমের দেখভাল করে, তাদের ম্যািনেজ করে। তৃণমূল স্তর থেকে যুব পর্যায় পর্যন্ত ফুটবল অ্যামনালিটিক্সের কাজ ইতিমধ্যে ই শুরু করে দিয়েছে এই সংস্থা। কোথায় কী করতে হবে, কী করা দরকার, ধাপে-ধাপে সমস্ত পর্যবেক্ষণ করে তা শেষ পর্যন্ত তারা তুলে দেবে কোচ আর স্কাউটদের হাতে। ভারতীয় ফুটবলের সার্বিক উন্নতিকে মাথায় রেখে।
তিন) পেশাদারি টেলিভিশন চ্যাবনেলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা। যারা কি না দেশজুড়ে অ্যাশকাডেমির ম্যা চ, এআইএফএফ ‘ব্লু কাবস’ ও প্র্যা কটিস সেশন সম্প্রচার করবে। উদীয়মান প্রতিভাদের কাছে যা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের একটা মঞ্চ হবে।
অনুষ্ঠানে লা লিগা অ্যাাকাডেমি ফুটবল স্কুলের ডিরেক্টর মিগুয়েল কাসাল বলেন, ‘‘লা লিগা অ্যা কাডেমি ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুশি। এই দেশে আমাদের প্রচুর প্রোগ্রাম রয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে টেকনিক্যা ল সাপোর্ট দিতে ইচ্ছুক। যেমন সেন্টারে-সেন্টারে যাওয়া, কোচদের তালিম দেওয়া। আমরা তৃণমূল স্তরে বেশি করে জোর দিচ্ছি। ভারতবর্ষের অন্য তম ফুটবলপ্রেমী শহরের নাম কলকাতা। তাই এই শহরকে নির্বাচন করতে আমাদের বিন্দুমাত্র সমস্যাশ হয়নি।’’
এই নিয়ে ভবানীপুর এফসি-র তরফে সৃঞ্জয় বোস বলেন, ‘‘বাংলা জুড়ে বিভিন্ন জেলার একাধিক স্কুলে প্লেয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টার গড়বে ভবানীপুর এফসি প্রোইন্ডিয়া। সেই সব সেন্টার থেকে এআইএফএফ স্কাউটরা নিজের হাতে প্রতিভা বেছে নিতে পারবেন। যাদের তারপর নিয়ে যাওয়া হবে আমাদের এলিট প্লেয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টারে এবং শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর এফসি প্রোইন্ডিয়া সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে।’’
ভবানীপুর এফসি প্রোইন্ডিয়া অ্যা্কাডেমির সিইও অপরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আইএসএলের অধিকাংশ প্রথম সারির টিমে এখন স্পেনীয় কোচরা কোচিং করান। যাঁরা নিজেদের ট্যাখকটিক্যাাল জ্ঞান ও অননুকরণীয় খেলার স্টাইল আমদানি করেছেন ভারতে। কিন্তু সেই প্রগতিকে যদি সঠিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, একেবারে তৃণমূল স্তরের রন্ধ্রে স্পেনীয় ফুটবলের দর্শনকে রোপন করা’’
সম্ভাবনাময়, প্রতিভাবান কিশোর ফুটবলারদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ট্রেনিং করানোই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
