অলস্পোর্ট ডেস্ক: রবিবার দুবাইতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির লড়াইয়ে দেখা যাবে বিশ্ব ক্রিকেটের সব থেকে বড় লড়াই। সে লড়াই যতটা মাঠের তাঁর থেকে অনেকবেশি মাঠের বাইরের। যার প্রভাবও ভীষণভাবে দেখা যায় খেলার মধ্যে। আর সে কারণেই ভারত বনাম পাকিস্তান মানেই পুরো ক্রিকেট বিশ্বের নজর থাকবে সেদিকে। এই ম্যাচে জয় সেমিফাইনালকে প্রায় নিশ্চিত করে দেবে ভারতের । অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য টিকে থাকার লড়াই এই ম্যাচ। তবে নিশ্চিত যে দুই দলের কেউই এই হিসেবনিকেশের কথা ভাবছেন না। বরং এই শত্রুতার গভীরতা এতটা যে টুর্নামেন্টের যাই হিসেব থাক না কেন সেই সব এখন ব্যাকসিটে। এখন একটাই লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে জয় তুলে নেওয়া।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছয় উইকেটে জিতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে ভারত, যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ৬০ রানে হারের পরই ভারতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাবরদের। সেদিক থেকে দেখতে গেলে অ্যাডভান্টেজ ভারত। তবে এই ম্যাচ এই সবের ঊর্ধ্বে। যার আগাম ধারণা করাটা অসম্ভব।
উপমহাদেশীয় দুইপ্রতিদ্বন্দ্বীর শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির লড়াই ছিল ২০১৭ সালের ফাইনাল, যেখানে পাকিস্তান ভারতকে হারিয়ে ট্রফি নিয়ে গিয়েছিল। রিজওয়ান অ্যান্ড কোং লন্ডনের সেই জয় থেকে অনুপ্রেরণা নিতে চাইবে ঠিকই কিন্তু প্রতিটি বিভাগে তাদের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করতে হবে, সেটা তারাও জানেন।
এই মুহূর্তে দুই শিবিরের যে শান্ত পরিবেশ তা হয়তো ঝড়ের আগের পূর্বাভাস। যদিও দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রুপ এ-এর এই লড়াইয়ের সাক্ষী থাকার জন্য রাতারাতি টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম কয়েকটি ম্যাচের ফাঁকা গ্যালারির হতাশা কাটানোর জন্য এই ম্যাচ যে যথেষ্ট হবে, তা আগাম বলে দেওয়া যায়।
ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় দক্ষতার লড়াইয়ের পাশাপাশি অনেকবেশি স্নায়ুর লড়াই তো বটেই এবং রবিবার বিকেলে ভারত খাতায় কলমে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে। একদিকে শুভমান গিলের বিধ্বংসী ফর্ম আর অন্যদিকে মহম্মদ শামির নায়কোচিত প্রত্যাবর্তন, ভারতকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবেন। সঙ্গে হর্ষিত রানা হোক বা কেএল রাহুলের অনবদ্য সহযোগিতাও ভারতের জন্য সদর্থক দিক। সেদিক থেকে দেখতে গেলে টিম ম্যানেজমেন্ট উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার কথা ভাববে না। তবে ভারতকে চিন্তায় রাখবে বিরাটের ফর্ম।
বিপরীতে, পাকিস্তান তাদের সবচেয়ে বড় তারকা বাবর আজমের ফর্ম এবং পদ্ধতি নিয়ে খুব স্বস্তিতে নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২০ রান তাড়া করতে গিয়ে ৯০ বলে তাঁর ৬৪ রানের ইনিংস জয়ের জন্য খুবই মন্থর প্রচেষ্টা ছিল। যা ভীষণভাবে সমালোচিত হচ্ছে সর্বত্র। যার ফলে ভারতের বিরুদ্ধে তিনি যে চাপের মধ্যে থাকবেন তার নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এই পরিস্থিতিতে তাদের জন্য সব থেকে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দেখা দিয়েছে ওপেনার ফখর জামানের চোট। রানের ভিত তৈরি করার দায়িত্ব যে তিনি দারুণভাবে সামলান তার নিয়ে কোনও সংশয় নেই। এই পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবর্তে দলে যোগ দেওয়া ইমাম উল হকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সেই লক্ষ্যে নিজেকে প্রমাণ করা। তবে টুর্নামেন্ট-ওপেনারে মিডল অর্ডার ব্যাটার খুশদিল শাহের পাল্টা আক্রমণে ৬৯ রান ইতিবাচক।
পাকিস্তানের সামনে আরও একটি বিষয় প্রমাণ করার লক্ষ্য থাকবে। কারণ ভারত পাকিস্তানে খেলতে যায়নি। ভারতের জন্যেই এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাইব্রিড মডেলে করতে বাধ্য হয় আইসিসি। যা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় আয়োজকরা। তারও জবাব মাঠেই দিতে চাইবে তারা। ছেড়ে দেবে না ভারতও। তবে শাহীন আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে সমীহ করতেই হবে ভারতকে কারণ রোজ শুভমান সেঞ্চুরি করবে না আর শামি পাঁচ উইকেট নেবে না। তার উপর যশপ্রীত বুমরাহের অনুপস্থিতি। যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেটা বুঝতে দেয়নি ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণ। সে কারণে একই বোলিং কম্বিনেশন নিয়েই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দল সাজাবে ভারত।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
