Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ একদিকে কারগিলের দিক থেকে ছুটে আসা কামানের গোলা। অন্যদিকে চীনা বন্দুকের চোখ রাঙানি। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ। তার মাঝে পাথরে ফোটা ফুলের মতো জেগে উঠে ভারতীয় ফুটবলে একটা নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে লাদাখ এফসি। তারা এখন পাহাড়ের প্রকৃতির কোল ছেড়ে সমতলে ডুরান্ড কাপে নামী দলগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে হাজির জামশেদপুরের মাঠে। শনিবার শুরু হচ্ছে তাদের ডুরান্ড কাপের অভিযান এক নতুন স্বপ্ন নিয়ে, নিজেদের ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রে তুলে ধরার লক্ষ্যে।

কথায় বলে অধিকাংশ পুরুষের সাফল্যের পিছনে একজন নারীর হাত থাকে। লাদাখ এফসি ফুটবল দলের উত্থান ও অগ্রগতির পিছনেও রয়েছে এক নারীর উদ্যোগ। তিনি লাদাখ ফুটবল সংস্থার সচিব ও লাদাখ এফসির কর্ণধার শেরিং আঙ্গমো। প্রাক্তন মার্শাল আর্ট অ্যাথলিট আঙ্গমো লাদাখ ফুটবল সংস্থার প্রথম মহিলা প্রশাসক হিসেবে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন। আর তাঁর হাত ধরেই হিমালয়ের কোলে বিশ্বের অন্যতম উঁচু জায়গা ১১ হাজার ফুটে তৈরি হয়েছে লাদাখ এফসির মতো ফুটবল ক্লাব। ওই উচ্চতায় অবস্থিত ছবির মতো সুন্দর স্পিটুক স্টেডিয়াম লাদাখের প্যাংগং লেকের তুলনায় কম গর্বের নয়। একবার লে লাদাখ ঘুরতে গেলে স্পিটুক স্টেডিয়াম ঘুরে না দেখলে, সফরটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

ওই স্পিটুক স্টেডিয়ামে সবরকম সমস্যা দূরে সরিয়ে রেখে প্রস্তুতি সেরে জামশেদপুর এসেছেন লাদাখ এফসির কোচ-‌ফুটবলাররা। আঙ্গমোর ভাষায়, অভিষেকে ডুরান্ড কাপ জিততে না পারলেও নিজেদের দক্ষতার ছাপ রাখতে কসুর করবেন না তাঁরা। পাহাড়ের ঠান্ডা থেকে সমতলের গরম আবহাওয়ার প্রতিকূলতা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে। তবে আঙ্গমোর দর্শন শুধু ফুটবল ক্লাব গড়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লক্ষ্য, লাদাখ এফসিকে ভারতের স্বচ্ছ ও সবুজ ক্লাব হিসেবে পরিচিত করা। জানালেন, ‘‌ হিমালয় অঞ্চলে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তার জেরে পাহাড়ে ধ্বস, বন্যা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের অঞ্চলের ঘর বাড়ি বিপন্ন। মাতৃভূমিকে তার হাত থেকে বাঁচতে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ফুটবল হল সেরা মাধ্যম। ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলার প্রসার ঘটিয়ে একটা বার্তা দিতে চাইছি সবাইকে। প্রভূত সাড়াও মিলেছে। গতবছর লাদাখে ‘‌ক্লাইমেট কাপ’‌ আয়োজন করেছিলাম সফল ভাবে। গোকুলাম এফসির মতো দল টুর্নামেন্ট অংশ নেওয়ায় স্টেডিয়ামে উপচে পড়েছিল দর্শক। ফুটবলাররা সকলের কাছে প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন ও বৃক্ষ রোপনের আবেদন রেখেছিল সেসময়। এখনও তা জারি আছে।’‌

আঙ্গমোর দলে লে, লাদাখ, কারগিল, কাশ্মীরের ফুটবলার আছে। আর কয়েকজন ভিন রাজ্যের ফুটবলার। এদের নিয়েই ডুরান্ড কাপে জামশেদপুর এফসি, আর্মি একাদশ ও নেপালের ত্রিভুবন আর্মি দলের সঙ্গে লড়তে তৈরি লাদাখ এফসির কোচ রজন মানি। বললেন, ‘‌ লাদাখে ফুটবল প্রোমোট করার জন্য ডুরান্ড কাপ খেলার থেকে ভাল মঞ্চ আর হয় না। পেশাদার পর্যায়ে খেলার এই সুযোগটা পুরোপুরি লাগাতে তৈরি আমার ছেলেরাও। ওরা সেরা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। প্রমাণ করতে প্রস্তুত লাদাখের ছেলেরাও ফুটবল খেলতে পারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতায়। কে বলতে পারে, ওদের ভাল খেলা ভারতের অন্যান্য বড় ক্লাবের কর্তাদের নজর কাড়বে না?‌ হয়ত অন্য কোনও বড় ক্লাবে খেলার জন্য ডাক আসতে পারে। পাহাড়ের উচ্চতা ও আবহাওয়ায় কাটানো ফুটবলারদের পক্ষে সমতলের গরম আবহাওয়ায় সবসময়ই মানানো কঠিন। কিন্তু সেটা মাথা থেকে সরিয়ে রেখে সেরা দিতে তৈরি থাকছে মাঠে। লাদাখের ফুটবলাররা খুব একনিষ্ঠ ও মেন্টালি স্ট্রং। টেকনিকালিও সাউন্ড। শুধু যেটা কম, সেটা হল বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা। আমার ছেলেদের হারানোর কিছু নেই। সবটাই প্রাপ্তির। ডুরান্ডে খেলার অমূল্য অভিজ্ঞতা ওদের এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’‌

বরফ ঢাকা পাহাড়ের কোল ছেড়ে ইস্পাত নগরী জামশেদুপর এফসিতেও লাদাখ এফসির ফুটবলাররা ডুরান্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষতার ছাপ রাখলেন। নেপালের ত্রিভুবন আর্মির বিরুদ্ধে শুরুতে ১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল লাদাখ ‌নজরকাড়া ফুটবল খেলে। পরে গোল খেয়ে যাওয়ায় ম্যাচটা ১-‌১ ড্র হয়।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *