মুনাল চট্টোপাধ্যায়:বাংলা ভাষার প্রতি অপমানের আর এফএসডিএল ও এআইএফএফ বিতর্কে আইএসএলের অনিশ্চয়তা ঘিরে গ্যাল্যারিতে যখন টিফো নিয়ে সবুজ মেরুন সমর্থকদের তীব্র প্রতিবাদ, তখন যুবভারতীর সবুজ ঘাসে ডায়মন্ড হারবারের যাবতীয় আস্ফালন থামাতে আগুন ঝরানো পারফরমেন্স মোহনবাগান ফুটবলারদের। মাত্র অল্প কয়েকদিনের অনুশীলনে যেভাবে ডুরান্ড কাপে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে ডায়মন্ড হারবারকে ৫-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারফাইনালে গেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, তাতে নকআউটের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের বুক এখন থেকেই কাঁপছে।
তবে এতবড় ব্যবধানে জয়ের পরও ফুটবলারদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চিফ কোচ হোসে মোলিনা পরবর্তী ম্যাচের কঠিন লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে। কে বলতে পারে, টুর্নামেন্ট কমিটির নিয়মে কোয়ার্টারফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হবে না মোলিনা ব্রিগেড। মুখে না বললেও, তার জন্য মানসিক প্রস্ততি রাখছেন সবুজ মেরুন ফুটবলাররা।
গত মরশুমে চোট সারিয়ে প্রথমবার মাঠে নেমেই মহমেডানের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন ম্যাকলারেন। অস্ট্রেলিয়া ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও বিশ্বকাপার জেমি ম্যাকলারেন এবার মাত্র ২ দিন আগে শহরে পা দিয়েই ডায়মন্ড ম্যাচে গোল করে বুঝিয়ে দিলেন গোল করার বুটটা সঙ্গেই আছে, অস্ট্রেলিয়ায় ফেলে আসেননি। হয়ত আরও গোল পেতেন ফিটনেস ভাল জায়গায় থাকলে, আর কোচ মোলিনা বিরতির পর তাঁকে তুলে জেসন কামিংসকে না নামালে। এটাই মোলিনা ব্রিগেডের আসল স্ট্রেংথ। সকলেই সমান দক্ষ। যে নামে সেই ভাল খেলে, বা গোল পায়। যেমন ম্যাকলারেনের জায়গায় নেমে গোল পেলেন কামিংস। কথায় বলে মর্নিং শোজ দ্য ডে। তাই বলতে দ্বিধা নেই, আধা ফিট ফুটবলাররাই যদি এমন পারফর্ম করেন, তাহলে পুরো ফিট হওয়ার পর তাহলে পারফরমেন্স কোন লেভেলে পৌঁছবে।
গোল পেয়ে খুশি ম্যাকলারেন। তার থেকেও বেশি ভাল লাগছে তাঁর বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টারফাইনালে যাওয়ায়। ম্যাচ শেষে প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘ এই গোল ও জয় সমর্থকদের উপহার। বড় ব্যবধানে ডায়মন্ড হারবারকে হারালেও আবেগে ভেসে যাওয়ার বা আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। কারণ নকআউটে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করে আছে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, মোকাবিলায় তৈরি। মূল লক্ষ্য ডুরান্ড কাপ জেতা। গত মরশুমে ডুরান্ড ফাইনালে হারের আক্ষেপটা রয়ে গেছে। এবার কাপ জিতে সেটা ঘোচাতে চাই।’
মোহনবাগানের হেড স্যার মোলিনার গলাতেও খুশির ভাব দলের জয়ে। তবে মনে করেন, দলে এখনও ফিটনেসের অভাব আছে। সেটা প্র্যাকটিস করতে করতে আর খেলতে খেলতে মিটে যাবে। বড় ব্যবধানে জিতলেও ডায়মন্ড হারবারের লড়াইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেন না মোলিনা। বরং বলেন, ‘ওরা নিজেদের ক্ষমতা মতোই লড়েছে। আমরা ভাল খেলে ওদের টেক্কা দিয়েছি।’ গত মরশুমের দলটা ধরে রাখাতেই কি এত ভাল ফুটবল খেলা সম্ভব হচ্ছে মরশুমের শুরু থেকে? মোলিনার জবাব, ‘ এবার দলে কিয়ান, অভিষেক, রোশনের মতো বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। তাতে দলের খেলায় পুরোন ছন্দটা রয়েছে, এরা নতুন হলেও আমার খেলানোর কৌশলটা দ্রুত রপ্ত করে ফেলায়।’
ডায়মন্ড হারবার কোচ কিবু ভিকুনা ও কর্তাদের দাবি, রেফারি তাঁদের লঘু পাপে গুরুদন্ড দিয়েছেন। সফট টাচে মোহনবাগানকে পেনাল্টি পাইয়ে দেন রেফারি। সঙ্গে লাল কার্ড দেখিয়ে ১০ জন করে দিয়ে লড়াই থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন ডায়মন্ডকে। মোলিনাকে এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা রেফারির সিদ্ধান্ত। রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে তাঁর পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না পেনাল্টি ঘটনার সময় ঠিক কী কী হয়েছিল।
পেনাল্টি ইনসিডেন্ট বাদ দিয়ে ডায়মন্ড হারবার কোচ কিবু ভিকুনা মেনেই নেন, মোহনবাগানের মতো ওজনদার দলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সত্যি খুব কঠিন। মোহনবাগান স্কোয়াডে একঝাঁক জাতীয় দলের ফুটবলার। আক্রমণে দুই অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার। রক্ষণে দেশি ও বিদেশি নামী ফুটবলার। তাই তাঁর দলের সঙ্গে কোয়ালিটির ফারাকটা তো থাকবেই। তবে রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে তাঁদের ১০ জন করে না দিলে, হারের মার্জিনটা এত বড় হত না।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
