মুনাল চট্টোপাধ্যায়: রবিবাসরীয় ডুরান্ডের কোয়ার্টারফাইনাল ডার্বি জিতেও আশ্চর্যজনক স্বাভাবিক ইস্টবেঙ্গলের চিফ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতে যুবভারতীর লাল হলুদ গ্যালারিতে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে প্রিয় দলের জয়ে। অনেকদিনের অপেক্ষার পর জয়ে অনেকটা বৃষ্টি আসার পর চাতক পাখীর তৃষ্ণা মেটানোর আনন্দ। দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকোসের দু’গোলের সময় অস্কারও নিজের উল্লাস ধরে রাখতে পারেননি। এমনকি ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের সঙ্গে বিজয়োৎসবে শামিল হন। কিন্তু পরে প্রচারমাধ্যমের সামনে ম্যাচ জয়ের অনুভূতি তুলে ধরার সময় অস্কারের সব উচ্ছ্বাস উধাও। বরং খুব সংযত।
কেন এই মনোভাব, তার ব্যাখ্যা নিজেই দিলেন অস্কার। বললেন, ‘ এই জয়টা খুব দরকার ছিল। গত মরশুমে সমর্থকরা খুব মনঃকষ্টে কাটিয়েছে দল ভাল কিছু না করায়। এবার তাই ওদের আনন্দ দিতে কিছু করবই, এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগিয়েছি মরশুমের শুরু থেকে। আমার বিশ্বাস ছিল এই ডার্বি থেকেই সেই ঘুরে দাঁড়ানোটা শুরু হবে। মোহনবাগানের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারানো মোটেই সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও ফুটবলারদের সম্মিলিত লড়াইয়ে সেটা সম্ভব হয়েছে। ডার্বি জয়ের আনন্দ থাকবেই। কিন্তু আমাদের দ্রুত পরের লক্ষ্যপূরণে ফোকাস করতে হবে। ডার্বি জিতলেও এখনও ট্রফি জয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজটা বাকি। তাই সোমবার পুরো বিশ্রামের পর ডুরান্ড সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখে একইরকম পারফরমেন্স দেওয়ার প্রস্তুতিতে মন দিতে হবে মঙ্গলবার।’
জামশেদপুরকে তাদের মাঠে সাইরুতকিমার জোড়া গোলে হারিয়ে ডায়মন্ড হারবার এফসি সেমিফাইনালে উঠেছে। বুধবার যুবভারতীতে কিবু ভিকুনার প্রশিক্ষণে থাকা ডায়মন্ডের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ফাইনালে উঠতে। অস্কারের মতে, ডার্বি এখন অতীত। সেমিফাইনালে নতুন প্রতিপক্ষ। ভিন্ন লড়াই। ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে লড়াইটা সহজ হবে না। সামান্যতম ঢিলেমির কারণে ট্রফি জয়ের আশা শেষ হতে পারে।
ডুরান্ডের এই জয়ের পেছনে রসায়ণ কী? এই প্রশ্নে অস্কারের জবাব, ‘ দলগত লড়াই। জেতার খিদে। কৌশলের সঠিক রূপায়ণ। আমার লক্ষ্যই ছিল মোহনবাগানকে মাঝমাঠের দখল নিতে না দেওয়া। একইসঙ্গে দুটো উইংয়ে লিস্টন ও সাহালকে ব্লক করে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে সফল। ম্যাচে আগাগোড়া আমাদের আধিপত্য ছিল। মোহনবাগান যে সুযোগ পায়নি এমন নয়। তবে সেটা হাতে গোনা। সেখানে আমাদের গোল করার সুযোগের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যাবে না। পেনাল্টি থেকে দিমি গোল করে এগিয়ে দেওয়ার পর বিরতিতে ফুটবলারদের বলেছিলাম, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দ্বিতীয় গোল তুলে নিতে চেষ্টা কর। নইলে মোহনবাগান কিন্তু গোলের জন্য ঝাঁপিয়ে সমতা ফেরালে চাপ বাড়বে, ম্যাচটাও হাতছাড়া হতে পারে। দিমির অসাধারন দ্বিতীয় গোলটা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িযে দেয়। মোহনবাগান ১ গোল শোধ করলেও জয় পাওয়া আটকায়নি।’
রশিদের না থাকার অভাবটা কি মেটালেন মিগুয়েল, সলরা বাড়তি জোস নিয়ে খেলে? অস্কারের জবাব, ‘ মিগুয়েল, সলরা নিজেদের দায়িত্বটা সঠিক ভাবে পালন করেছে মাঝমাঠে। তবে ভাল খেলার জন্য আলাদা করে বলতে হবে এডমুন্ড ও বিপিনের কথা। ওরা মোহনবাগান ডিফেন্সকে সবসময় চাপে রেখে গিয়েছিল। তার সুফল মিলেছে।’ হামিদের জায়গায় নেমে দিমিত্রিয়স এমন একটা পারফরমেন্স দেবে, এটা কি ভেবেছিলেন? অস্কারের উত্তর, ‘ মাঝেমধ্যে ফুটবলারদের চাগাতে, সেরা বের করে আনতে কিছু কৌশল খাটাতে হয়। গ্রুপের শেষ ম্যাচে দিমিকে আমি খেলাইনি। হামিদকে শুরুতে নামিয়েছিলাম। পরে ওকে তুলে নিয়ে নামাই অন্য ফুটবলারকে। এতে দিমি যে ভেতরে ভেতরে জবাব দেওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করছিল, তা বুঝেছিলাম। হামিদ কুঁচকিতে চোট পেয়ে বসে যেতেই তাই দিমিকে নামাই। বাকিটা তো সকলেই দেখেছেন।’
ডুরান্ড কোয়ার্টারফাইনাল ডার্বি জয়টা পিতৃহারা রশিদকে উৎসর্গ করেছেন লাল হলুদের মিডফিল্ড জেনারেল সল ক্রেসপো। বলেন, ‘ ম্যাচটা রশিদের জন্যই জিততে চেয়েছিলাম। আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, একসাথে লড়ে রশিদের অভাবটা মিটিয়ে ম্যাচ জিতে নেব। সেটা করতে পারায় ভাল লাগছে। সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে সমর্থকদের জন্য, যাঁরা এমন একটা জয়ের জন্য দীর্ঘসময় ধরে আমাদের পাশে থেকেছেন। দুঃসময়েও সঙ্গ ছাড়েননি।’
অস্কারের মতো সলেরও ফোকাস এখন বুধবারের ডুরান্ড সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবার ম্যাচে। লাল হলুদ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আশার খবর। বুধবারের আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিতে কলকাতায় ফিরতে পারেন রশিদ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
