অলস্পোর্ট ডেস্ক: সুপার কাপের জন্য ২৫ অক্টেবর থেকে ২২ নভেম্বর সময় বেছেছে এআইআইএফ। সুপার কাপ আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গোয়াই পছন্দ ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের। গোয়া ফুটবল সংস্থাকে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখে সম্মতি চেয়েছে তারা। সেই সম্মতি মিলতেও সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছে না। যা আভাস মিলেছে, তাতে মারগাঁওয়ের ফতোরদা নেহরু স্টেডিয়ামে আর ব্যাম্বোলিম অ্যাথেলেটিক স্টেডিয়ামের মাঠে সুপার কাপের খেলাগুলি হবে।
তবে ২২ নভেম্বর ফাইনাল হওয়া আদৌ কীভাবে সম্ভব? যেখানে ভারতীয় ফুটবল দলের এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের অ্যাওয়ে ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৮ নভেম্বর। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মাথায় বসে থাকা সভাপতি কল্যান চৌবে বা ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি এম সত্যনারায়ণরা কি সত্যি সত্যি ভারতীয় ফুটবল নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবেন? যদি ভাবতেন, তাহলে আইএসএল ঘিরে ঘরোয়া ফুটবলের বর্তমান অচলাবস্থা তৈরি হত না। আর সুপার কাপে জন্য সময় বাছার সময় নিজেদের বিবেচনা বুদ্ধিগুলোও কাজে লাগাতেন।
এই কথাগুলো লেখার পেছনে সঙ্গত কারণ আছে। আগেই বলেছি, ১৮ নভেম্বর ভারতীয় দলের ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশে। সুতরাং হয় ওই ম্যাচের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সুপার কাপ শেষ করতে হবে ২৫ অক্টোবর টুর্নামেন্ট শুরু করে, খালিদ জামিলকে ফুটবলারদের নিয়ে কয়েকটা দিন প্রস্তুতির সুযোগ দিতে। তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নি, খালিদকে কোনও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হল না বাংলাদেশ ম্যাচের আগে সুপার কাপ চলতে থাকায়। তাহলেও বাংলাদেশ ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে অন্তত ২ দিন তো দলের ফুটবলারদের এক জায়গায় হওয়া জরুরি। এর অর্থ হয় ১৫ নভেম্বরের আগে সুপার কাপ ফাইনাল সেরে ফেলতে হবে, নইলে ১৮ নভেম্বরের পর।
এখানেও একটা প্রশ্ন আছে। ১৮ নভেম্বরের পর ভারতীয় দলের ফুটবলাররা দেশে ফিরেই ক্লাবে যোগ দিয়ে সুপার কাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলে ফেলবে, এমনটা ভাবা বেশ কঠিন। একমাত্র যদি না সুপার কাপের সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো ১৫ নভেম্বরের আগে সেরে ফেলা যায়। আর শুধু ফাইনালটা না হয় ২২ নভেম্বরের জন্য রেখে দেওয়া হল। সেভাবে সূচী তৈরি হলে ভাল। নইলে ২২ নভেম্বরের পর ফাইনাল করতে হলে অপেক্ষা করতে হবে নভেম্বরের একবারে শেষদিকের তারিখ, অথবা ডিসেম্বরের শুরুর তারিখের জন্য।
কারণ এমনিতেই সুপার কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলার সময় ৪ নভেম্বর ঘরের মাঠে এসিএল টায়ার টু-তে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট-আল হুসেন ও ৫ নভেম্বর বাইরের মাঠে আল নাসেরর বিরুদ্ধে এফসি গোয়ার ম্যাচ থাকায় অন্তত ২ দিন আগে ও পরে একটা সাময়িক ব্রেক দিতে হবে। তারওপর ২৫ নভেম্বর এসিএল টায়ার টু-র ম্যাচে আহালের মাঠে গিয়ে খেলবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আর এফসি গোয়ার ম্যাচ রয়েছে আল জাওরার মাঠে ২৬ নভেম্বর।
অবশ্য ফেডারেশনের ‘দূরদর্শী, অতি বিচক্ষণ’ কর্তারা যদি আগেই বুঝে গিয়ে থাকেন সুপার কাপ শুরুর আগেই, মোহনবাগান বা এফসি গোয়া সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছবে না, তাহলে অন্য কথা। তাঁদের আর সুপার কাপের নকআউট পর্যায়ের সূচী নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে হবে না। ভারতের ঘরোয়া ফুটবলকে অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য ফিফা নির্বাসনের মুখে ঠেলে দেওয়া কল্যান চৌবে ও তাঁর হাত তোলা পার্টি সঙ্গীরা অবশ্য এই সূচী সংক্রান্ত জটিলতা আরও একটা কারণে এড়াতে পারেন, একাধিক ক্লাব শেষপর্যন্ত আইএসএল শুরুর দিন অস্বচ্ছতার কারণে সুপার কাপে অংশ না নিলে।
সত্যি সেলুকাস কী বিচিত্র এই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ও আর ক্ষমতার মসনদে বসে থাকা কর্তারা!
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
