অলস্পোর্ট ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৩-এর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল ভারত। শনিবার বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ৬১ ও ৭০ মিনিটের মাথায় দু’টি গোল করেন সুনীল ছেত্রী ও নাওরেম মহেশ সিং।
গতবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ে জিতলেও অবশ্য ভারতের পারফরম্যান্স এ দিন প্রত্যাশার স্তর ছুঁতে পারেনি। ম্যাচের ৬০ মিনিট পর্যন্ত তারা নেপালের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি। উপরন্তু নেপালের একাধিক আক্রমণ আটকাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় ভারতীয় রক্ষণকে। ম্যাচের পরে সে কথা স্বীকারও করে নেন ভারত অধিনায়ক সুনীল। বলেন, “ম্যাচের শেষে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারার জন্য সন্তুষ্ট। তবে প্রথমার্ধে বেশি আক্রমণে উঠতে পারিনি আমরা। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ভাল খেলেছি। যার ফলে দুটো গোল পাই আমরা”।
ফের কোনও গোল না খেয়ে ম্যাচ জিতল ভারত। এই নিয়ে চলতি বছরে টানা আটটি ম্যাচে ক্লিন শিট বজায় রাখতে পারল তারা। এই নিয়ে টানা ন’টি ম্যাচে অপরাজিত রইল তারা।
লিগ পর্বের এক রাউন্ড বাকি থাকতেই গ্রুপ ‘এ’ থেকে সেমিফাইনালে উঠে পড়ল ভারত ও কুয়েত। এ দিন ভারত ও নেপাল মুখোমুখি হওয়ার আগে কুয়েত ৪-০-য় পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা পাকা করে নেয়।মঙ্গলবার এই দুই দল মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচেই বোঝা যাবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোন দল সেমিফাইনালে উঠবে।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে এগারোজনকে শুরু থেকে নামিয়েছিল ভারত, তাঁদের মধ্যে শুধু সুনীল ছেত্রী, অনিরুদ্ধ থাপা ও সাহাল আব্দুল সামাদ এ দিন শুরু থেকে খেলেন। বাকিদের বিশ্রাম দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত বেঞ্চ থেকে জিকসন সিং ও লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেকে নামানো হয়। অন্য দিনের মতো এ দিন তাদের ৪-৩-৩-এ খেলতেও দেখা যায়নি। বরং ৪-২-৩-১-এ শুরু করে ভারত। ছক বদলে খেলার ফলেই সম্ভবত ভারতকে এ দিন চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি।
শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে নেপাল। আক্রমণের দিক থেকে ভারত বেশি তৎপর হলেও নেপালের রক্ষণ তাদের বারেবারে আটকে দেয়। নেপালও মাঝে মাঝে প্রতি আক্রমণে ওঠে। তবে তারাও প্রথমার্ধে তেমন ভাল সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে ১৭ মিনিটের মাথায় কর্নারের পরে বক্সের মাথা থেকে সোজা গোলে যে শটটি নেন অরিক বিস্তা, তা গোলকিপার গুরপ্রীত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে আটকে দেন। তার হাত থেকে বল ছিটকে আসে, যা সাহাল আব্দুল সামাদ ক্লিয়ার করে দেন।
ভারতের মতো নেপালও এ দিন প্রথমার্ধে আক্রমণের জন্য দুই উইং ব্যবহার করে, যার ফলে দুই দলেরই রক্ষণকে কড়া পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। প্রথম ম্যাচে কুয়েতের কাছে তারা হারার ফলে এই ম্যাচে তাদের কাছে জয় ছিল অপরিহার্য্য। শুরু থেকে সেই চেষ্টাই শুরু করে তারা। কিন্তু ছন্দে থাকা ভারতকে হারানো যে বেশ কঠিন, তা শুরু থেকেই বুঝতে পারেন অঞ্জন বিস্তা, অনন্ত তামাং-রা।
৩০ মিনিটের মাথায় আক্রমণে ওঠে সাহালকে বক্সের বাঁ দিকে ঠিক বাইরে ঠেলে ফেলে দেওয়ায় ভারত যে ফ্রি কিক পায়, তা সুনীল ছেত্রী ঠিক গোলের সামনে রাখলেও নেপালের এক ডিফেন্ডার অসাধারণ ভাবে তা ক্লিয়ার করে দেওয়ায় ভারত এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগটিও হাতছাড়া করে।
এ দিন প্রথমার্ধে ভারতকে আটকে রাখার জন্য অবশ্যই কৃতিত্ব দিতেই হবে নেপালকে। তাদের খেলায় এ দিন বেশ মরিয়া ভাব দেখা যায়, যা ভারতের পক্ষে সমস্যা হয়ে ওঠে। ভারতের দুই উইংকেই ব্লক করে দেয় নেপাল। যার ফলে বক্সের মধ্যে গোলের বল সাপ্লাই করা মহেশ, থাপাদের কাছে কঠিন হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ভারতই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। কিন্তু নেপালের রক্ষণে চিড় ধরাতে ব্যর্থ হয় তারা। এই কাজটা করতে তাদের লেগে যায় আরও ১৬ মিনিট। ৬১ মিনিটের মাথায় বাঁ দিক দিয়ে উঠে মহেশ বক্সের মধ্যে মাপা ক্রস দেন কার্যত অরক্ষিত সুনীল ছেত্রীকে। মুক্ত সুনীল জালে বল জড়াতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি (১-০)।
গোলের পরই ব্যবধান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জিকসন সিং ও লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেকে নামান ভারতের সহকারী কোচ মহেশ গাওলি। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় এই ম্যাচে মাঠে থাকতে পারেননি ভারতীয় হেড কোচ ইগর স্টিমাচ। তাঁর জায়গায় ডাগ আউট থেকে দলকে নির্দেশ দেন গাওলিই।
আক্রমণে তরতাজা ভাব আনায় ভারতীয় দলও তরতাজা হয়ে ওঠে এবং ৭০ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে তারা। প্রতি আক্রমণে ওঠার পর সাহাল প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে সুনীলকে সোজা পাস বাড়ান। সুনীল বক্সে ঢুকে গোলে শট নিলেও তা নেপালের গোলকিপারের হাতে লেগে বারে গিয়ে ধাক্কা খায়। বার থেকে ফিরে আসা বল অনুসরণ করে তা জালে জড়িয়ে দেন মহেশ (২-০)।
আরও একটি গোলের দুর্দান্ত সুযোগ ভারত পায় ৭৫ মিনিটের মাথায়, যখনসহালের পাস পেয়ে ছাঙতে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলে কোণাকুনি শট নিলেও তা গোলকিপারের হাতে লেগে গোললাইনের বাইরে চলে যায়। থাপার কর্নারে গোল লক্ষ্য করে হেড করেন জিকসন, যা সোজা গোলকিপার কিরণ লিম্বুর হাতে জমা হয়ে যায়।
লিগ টেবলে গোলের ব্যবধানে কুয়েতের চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য ভারতের আরও একটি গোল প্রয়োজন ছিল। হয়তো সেই উদ্দেশ্যেই শেষ দশ মিনিটের জন্য রহিম আলিকে নামানো হয় সহালের জায়গায়। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি তাদের। ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে উঠতে গেলে লিগের শেষ ম্যাচে কুয়েতকে হারানো ছাড়া কোনও উপায় নেই ভারতের।
ভারতীয় দল: গুরপ্রীত সিং সান্ধু(গোল), রাহুল ভেকে, আকাশ মিশ্র, মেহতাব সিং, নিখিল পূজারি (প্রীতম কোটাল), অনিরুদ্ধ থাপা, নাওরেম মহেশ সিং, রোহিত কুমার (জিকসন সিং), সাহাল আব্দুল সামাদ (রহিম আলি), উদান্ত সিং (লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে), সুনীল ছেত্রী।
(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
