অলস্পোর্ট ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৩ সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে দেখা হবে লেবাননের ও অপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে চলেছে কুয়েতের।
বুধবার রাতে লিগ পর্বের শেষ দিনে লেবানন ১-০-য় মলদ্বীপকে হারায় এবং বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচে ৩-১-এ জেতে ভূটানের বিরুদ্ধে। ফলে ‘বি’ গ্রুপের সব ম্যাচ জিতে এক নম্বর হিসেবে শেষ চারে ওঠে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের রানার্স-আপ লেবানন ও তিনটির মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়ে দু’নম্বর দল হিসেবে শেষ চারে পা রাখে বাংলাদেশ।
সূচী অনুযায়ী দুই গ্রুপের এক ও দু’নম্বর দল সেমিফাইনালে খেলবে যথাক্রমে অপর গ্রুপের দুই ও এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে। ভারত যেহেতু ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল ও সেরা কুয়েত, তাই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের সামনে লেবানন, যাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পরপর দু’বার খেলা হয়ে গিয়েছে সুনীল ছেত্রীদের।
এর আগে ভুবনেশ্বরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের লিগ পর্বে ও ফাইনালে পরপর মুখোমুখি হয় ভারত ও লেবানন। প্রথমবার গোলশূন্য ড্র হলেও দ্বিতীয়বার ২-০-য় জিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। তৃতীয়বারের মুখোমুখিতে কী হবে, তা তো শনিবারই জানা যাবে। কিন্তু দুই দলের পারফরম্যান্স যে রকম, তার পরে ফের একটা হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের অপেক্ষায় থাকতে পারেন ফুটবলপ্রেমীরা।
টানা আট ম্যাচে ক্লিন শিট বজায় রাখার পর মঙ্গলবার কুয়েতের বিরুদ্ধে একটি গোল খেয়ে ১-১ ড্র করে সেমিফাইনালে ওঠে ভারত। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বাড়তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন তরুণ ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। একেবারেই অনিচ্ছাকৃত ভুল। কিন্তু ম্যাচের পরে ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর গলায় হতাশার সুর ছিল স্পষ্ট। যখন তিনি বলেন, “ড্র হলেও মনে হচ্ছে যেন হেরে গিয়েছি। কারণ, আজ ভাল খেলেছি আমরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারলাম না বলেই খুব খারাপ লাগছে”।
যদিও পরে সাংবাদিক বৈঠকে এসে তিনি বলেন, “ভুল আমাদের যে কোনও খেলোয়াড়েরই হতে পারে। আশা করি ছেলেটা (আনোয়ার) সে সব ভুলে যাবে। আমরা সবাই ওর পাশে আছি। ছোট ভুল সবারই হয়। আমরা সেগুলো সবসময়ই শোধরানোর চেষ্টা করি। আমিও ছোট্ট ভুলের জন্য গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছি। কেউ (নিজেদের বক্সে) ভুল করে কাউকে ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ করে বসলেও আমাদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেওয়া হতে পারে। ফুটবলে এ সব হতেই থাকে। এখন অতীত ভুলে আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে”।
কান্তিরাভা স্টেডিয়ামের দর্শকেরাও সে দিন ভারতীয় ফুটবলারদের বিন্দুমাত্র বিদ্রূপ না করে প্রিয় ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ান সমবেত ভাবে গান গেয়ে। এমনকী আনোয়ারের নাম করে অনেককে জয়ধ্বনি দিতেও শোনা যায়। এ সবই সামনের দিকে তাকিয়ে। যাতে পরের ম্যাচেও ভারতীয় দলের ফুটবলাররা সমান উৎসাহ নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।
এ বছর ঘরের মাঠে যে ন’টি ম্যাচ খেলেছে ভারত, এখন পর্যন্ত তার একটিতেও তারা হারেনি। ঘরের মাঠে ভারত শেষ হেরেছিল ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে, ওমানের কাছে গুয়াহাটিতে, ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। সেই নজির পরবর্তী দুটি ম্যাচেও বজায় রাখতে চায় ভারত।
সে জন্য অবশ্য সবাই তাকিয়ে সুনীল ছেত্রীর দিকে, যিনি মঙ্গলবার কুয়েতের বিরুদ্ধে তাঁর ৯২তম আন্তর্জাতিক গোলটি করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এটি তাঁর ২৩তম গোল, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ। মলদ্বীপের আলি আশফাকের সঙ্গে আপাতত এই শ্রেষ্ঠত্ব ভাগাভাগি করে নিলেও পরের ম্যাচেই তাঁকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারেন সুনীল এবং সেটাই চান সবাই।
ভারতীয় দলের সহকারী কোচ ও ভারতীয় দলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার মহেশ গাওলি যেমন বললেন, “এই কিংবদন্তির প্রশংসা আমাদের সবাইকেই করতে হবে। কত বছর ধরে সুনীল আমাদের দেশের ফুটবলে কিংবদন্তি হিসেবে খেলে যাচ্ছে! ৩৮ বছর বয়স ওর। কিন্তু মাঠে ওর দৌড় দেখে মনে হয় ছেলেটা ২১ বছরের”।
দেশের হয়ে এতগুলো গোল নিয়ে অবশ্য কোনও মাথাব্যথা নেই সুনীলের। বরং তাঁর মতে, “এগুলো নিয়ে এখন আমি মাথা ঘামাই না। একে ঔদ্ধত্য ভাববেন না। তবে গোলসংখ্যা নিয়ে আমি কখনও সে রকম সিরিয়াস ভাবে ভাবিনি। কয়েক বছর পরে যখন ফুটবল ছেড়ে দেব। কারও সঙ্গে বিয়ার আর বার্গার নিয়ে আড্ডা মারব, তখন এ সব নিয়ে আলোচনা করব হয়তো। এখন সারা দেশের মানুষের যে ভালবাসা পাই, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। বিশেষ করে এই শহরে (বেঙ্গালুরু), যা আমার হোমগ্রাউন্ড। মাঠে যতটুকু দেওয়ার আছে আমার, ততটাই দেওয়ার চেষ্টা করি”।
শনিবার সেমিফাইনালে লেবাননের বিরুদ্ধেও সুনীল ছেত্রীর কাছ থেকে নিশ্চয়ই ফের তা-ই চাইবে সারা দেশ।
(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েবসাইট)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
