অলস্পোর্ট ডেস্ক: কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা ও চাহিদামতো ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কাছে নিজেদের উদ্যোগে লিগ আয়োজনের প্রস্তাব লিখিত আকারে পাঠাল আইএসএল ক্লাবগুলো। ইস্টবেঙ্গল ছাড়া বাকি সব আইএসএল ক্লাবই নিজেরা লিগ আয়োজনে আগ্রহী। তবে আইএসএলের বাকি ক্লাবগুলোর উদ্যোগের সরাসরি কোনও বিরোধিতা তারা করছে না। ব্যাপারটা এরকমই, বাকিরা লিগটা আয়োজন করুক অন্যরা মিলে, বানিজ্যিক সহযোগী খুঁজে বের করে হোক, বা নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করে, ইস্টবেঙ্গল এত ঝুট ঝামেলায় যেতে রাজি নয়, তারা আইএসএল হলে খেলবে।
তবে আইএসএলের বাকি ক্লাবগুলো ইস্টবেঙ্গল কী করল বা ভাবছে, তা নিয়ে চিন্তিত নয়। তারা ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটাতে মরিয়া হয়ে নিজেরাই যেন তেন প্রকারেণ আইএসএল ফেবরুয়ারি মাসের মধ্যে শুরু করতে চাইছে। আর সেটা মাথায় রেখে লিগ চালু করতে যা যা করণীয় বা শর্ত, তা প্রস্তাব আকারে এআইএফএফ ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে তারা শুক্রবার অনুমোদনের আশায়।
আইএসএল ক্লাবগুলোর দেওয়া প্রস্তাবের শুরুতেই বলা হয়েছে, ফিফা, এএফসি , এআইএফএফের গাইডলাইন মেনে দেশের সর্বোচ্চ লিগ (আইএসএল) পরিচালনা, বানিজ্যিক স্বত্ত্বের পুরো অধিকার ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ছেড়ে দিক একটি ‘লিগ কোম্পানির’ ওপর। এই লিগ কোম্পানির বেশি অংশের অংশীদার হবে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলো। ফেডারেশনের শুধুমাত্র নামমাত্র শেয়ার থাকবে এই কোম্পানিতে। ক্লাবের হাতেই থাকবে নতুন বানিজ্যিক সহযোগী ও স্ট্র্যাটেজিক সহযোগীকে যুক্ত করার লিগের স্বার্থে, তাতে ফেডারেশনের কোনও ভূমিকা থাকবে না। লিগ কোম্পানির বোর্ডে এআইএফএফ একজন ‘এআইএফএফ অনুমোদিত ডিরেক্টার’ রাখতে পারবে।
প্রস্তাবে এআইএফএফের ভূমিকা ও দায়িত্ব কী সেটাই পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম, শৃঙ্খলারক্ষা সংক্রান্ত বিষয়, ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্ত, প্রশিক্ষণ, ম্যানেজমেন্ট, রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগের ভার থাকবে এআইএফএফের হাতে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিগের সূচী স্থির করার কথা মাথায় রাখতে হবে ফেডারেশনকে। লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ফেডারেশনের কোনও বানিজ্যিক দায়ভার নিতে হবে তাদের। ক্লাবের হাতেই থাকবে দৈনন্দিন লিগ পরিচালনা , মিডিয়া, স্পনসরশিপ, লাইসেন্সিং, বানিজ্যিক স্বত্ত্বের অধিকার। স্পোর্টিং ও ব্রডকাস্টিং স্বত্ত্বের অধিকারও থাকবে ক্লাবের হাতে। লিগ চালুর স্বার্থে ক্লাব পরিচালনা ও বানিজ্যিক দায়ভার নেবে।
প্রস্তাবে যে জায়গাটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠতে পারে শনিবারের ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারন সভায়, সেটা হল ২০২৫-২৬ মরশুমে লিগের স্বত্ত্ব হাতে পাওয়ার মূল্য হিসেবে ফেডারেশনকে কোনও টাকা দিতে পারবে না, এটা প্রস্তাবে রাখায়। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ক্লাবগুলো মিলিতভাবে ভেবে দেখবে, ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে এআইএফএফকে ১০ কোটি দেওয়া সম্ভব কিনা। তবে লিগ অংশ নেওয়া রেফারি, ম্যাচ অফিসিয়ালদের ফি, থাকাখাওয়া, যাতায়াতের খরচ বহন করবে ক্লাবজোট।
দ্রুত লিগ চালুর স্বার্থে এআইএফএফের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের কাছেও জট ছাড়ানোর জন্য আবেদন রাখা রয়েছে তাতে। একসাথে হাতমিলিয়ে লিগ পরিচালনার বিষয়ে সকলে একমত হলে ৪৫ দিনের সময়ে লিগ চালুর চেষ্টা হবে। কিন্তু শুক্রবার ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারন সভায় সব সদস্যরা কি মেনে নেবেন এমন প্রস্তাব, যেখানে লিগ পরিচালনায় এআইএফএফের ভূমিকা থাকবে খুবই সামান্য। সবটাই ক্লাবগুলোর হাতে চলে যাবে। এতে তো ফেডারেশনের অস্তিত্ব লোপ পেয়ে যাবে। তবে ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে এখন এমন কোনঠাসা, যে শেষপর্যন্ত ক্লাবগুলোর প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। নইলে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ও সুপ্রিম কোর্ট লিগ চালুর স্বার্থে জোর করে ক্লাবের দেওয়া প্রস্তাবমতো লিগ শুরুর উদ্যোগ নিতে পারে। যদি সেটা না হয, তাহলে এবারের মতো লিগ আয়োজন ভুলে য়েতে হবে। সেটা হলে খুব অবাক হওয়ার কিছু নেই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
