Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: কাতার ২০২২‌ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অধিনায়ক ও মেগাস্টার লিওনেল মেসিকে পেতে সৌদি আরবের ক্লাব আল ইত্তিহাদ কত টাকা দিতে চেয়েছেন জানেন?‌ টাকার অঙ্কটা শুনলে ভিরমি খেতে পারেন। ১.‌৪ বিলিয়ন ইউরো। ভারতীয় মুদ্রায় টাকার অঙ্কটা এত বেশি মাথা ঘুরে যেতে বাধ্য। কিন্তু জানলে অবাক হবেন আল ইত্তিহাদ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আনমার আল হাইলির অফার করা ওই বিশাল পরিমান অর্থ, এমনকি ব্ল্যাঙ্ক চেক হেলায় ফিরিয়ে দিয়েছেন মেসি। এমনকি আল হিলালের প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি মেসি। বরং সৌদি আরবের ক্লাব নয়, আমেরিকার ফ্লোরিডায় ইন্টার মিয়ামি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করেন পিএসজি ছাড়ার পর।

পর্তুগালের মেগাস্টার বিশ্বকাপার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে আল নাসের নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের অন্য ক্লাবগুলির মধ্যে মেসিকে নেওয়ার একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গেই অর্থের ঝুলি নিয়ে মেসিকে পেতে ঝাঁপিয়েছিল আল হিলাল, পরে আল ইত্তিহাদ। তবে তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। ইন্টার মিয়ামিতে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন ফুটবলের রাজপুত্র। এমনকি ২০২৫য়ের পর ৩৮ বছরের মেসি তাদের সঙ্গে চুক্তি ২০২৮ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন।

তাতেও অবশ্য হাল ছাড়ছেন না আল ইত্তিহাদের কর্তা আনমার আল হাইলি। জানিয়েছেন, ‘‌ মেসি আমার চোখে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ওকে পেতে আমি যেকোনও মূল্য দিতে রাজি। মেসির জন্য আমার ব্ল্যাঙ্ক চেক রেডি। টাকার সংখ্যাটা মেসি নিজেই বসিয়ে নেবেন খুশিমতো। যতদিন পর্যন্ত ক্লাবে থাকতে চাইবেন, থাকতে পারবেন। যা চাইবেন, তাই পাবেন।’‌

মেসিকে পেতে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছেন আনমার, সেটা স্বীকার করেছেন। বলেন,‘‌ বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে নিজের দলে খেলাতে কে না চায়?‌ পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম ২০২৩ সালে। মেসিকে ১.‌৪ বিলিয়ন ইউরো অফার করেছিলাম। মেসি তা ফিরিয়ে দেন পরিবারের কথা তুলে। মেসি জানিয়েছিলেন, তাঁর পরিবার ফ্লোরিডায় যেতে বেশি আগ্রহী। তাই সৌদি আরবের ক্লাবে খেলা সম্ভব নয়। আমি মেসির সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। মেসি শুধু একজন বিরাট মাপের ফুটবলার নন, বড় মনের মানুষ, যিনি তাঁর পরিবারের কথাকে অর্থের থেকেও বেশি মূল্য দেন। তবে মেসির জন্য আমার ক্লাবের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।’‌

আনমারের কথায়, ‘‌ সৌদি আরবে মেসিকে আমার ক্লাবে খেলাতে পারাটাই বিরাট প্রাপ্তি। সেখানে টাকার অঙ্কটা গৌন। এমনকি আমার দলের জার্সি গায়ে লিগের ম্যাচ খেলার আগে মেসির দলে অন্তর্ভুক্তিতে যে বিশাল উৎসব হবে, তা তাকিয়ে দেখবে সারা বিশ্ব। গর্বের সঙ্গে বলতে পারব, বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসি আমার দলে।’‌

আল ইত্তিহাদের কর্তার মেসিকে খেলানোর স্বপ্নপূরণ কবে হবে বলা কঠিন। আপাতত মেসি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেতাব ধরে রাখতে আবার মাঠে নামবেন কিনা, সে নিয়ে খোলসা করে কিছু বলেননি। দেশের জার্সিতে কবে খেলা ছাড়বেন,এমন কোনও ইঙ্গিতও দেননি। তবে ক্লাবের হয়ে ম্যাচ খেলা চালিয়ে যাবেন বলেই মনে হয় আরও বেশ কয়েকবছর চোট বা ফিটনেস সমস্যা দেখা না দিলে। ২০২৮ পর্যন্ত ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। তবে সেই চুক্তি শেষ করার আগে বা পরেও সৌদি আরবে খেলতে আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মেসির তো মিয়ামির হয়ে এমএলএস জেতা হয়েই গেছে, ক্লাবের প্রতি তাঁর কর্তব্য পালন করা। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তাঁর ইন্টার মিয়ামিতে খেলতে আসার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। সেটা শুধু পরিবারকে খুশি করতে নয়। আমেরিকা,কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে ইন্টার মিয়ামিতে খেলাটা আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার অন্যতম স্ট্র‌্যটেজি হওয়া অসম্ভব নয়। আর আমেরিকা ও ফিফা মেসিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের মুখ হিসেবে প্রচার করার সুযোগ পেয়েছে বেশি করে।

২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসবে সৌদি আরবে। মেসি যদি ২০২৮ সালের পর খেলার মতো অবস্থায় থাকেন, তাহলে ইন্টার মিয়ামি ছেড়ে সৌদি আরবের ক্লাবের খেলার জন্য রাজি হতেও পারেন, সেদেশের বিশ্বকাপের সেরা ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হিসেবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *