অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএল শুরু নিয়ে অচলাবস্থা কাটতে মরশুমের অর্ধেক বেশি সময় চলে গেছে। একটা সময় মনে হয়েছিল ২০২৫-২৬ মরশুমে আইএসএল বুঝি আর হবে না। তবে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যর হস্তক্ষেপে আইএসএল শুরু হতে চলেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্রডকাস্টিং পার্টনার ঠিক হয়নি আইএসএলের ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য। তার থেকেও বড় কথা, আইএসএলে অংশ নিতে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি দল এখনও তৈরি নয়। ওড়িশা তো একসময় খেলতেই চায়নি। পরে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণে খেলতে রাজি হয়েছে।
সেখানে মহমেডান স্পোর্টিং শুরু থেকে খেলার আগ্রহ দেখালেও, আইএসএলের হেভিওয়েট দলের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য এতটুকু তৈরি ছিল না। আইএসএল শুরু হতে ১৪দিন আগেও তারা যে খুব একটা ভাল জায়গায় আছে এমন নয়। বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে যদি আইএসএলে ২০২৫-২৬ মরশুমেই অবনমন চালু হয়, তাহলে বিদেশিহীন মহমেডান অবনমনের আওতায় পড়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর সেটা বুঝে কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। শনিবার থেকে মহমেডান মাঠে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেছেন তিনি ঘরের ছেলেদের নিয়ে। এর মাঝে প্রস্তুতি কতটা ভাল হল বুঝতে ৮ ও ১১ ফেব্রুয়ারি ইস্টবেঙ্গল ও ডায়মন্ড হারবার এফসির সঙ্গে দুটো ম্যাচ খেলবেন মেগরাজ।
এদিকে, ট্রান্সফার ব্যান না ওঠায় কোনও বিদেশি ফুটবলার নেওয়ার সুযোগ নেই মহমেডানের। তাই অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে লড়াইয়ে নামতে হবে কোচ মেহরাজকে, ভাল ফল করা দূরে থাক, অবনমন বাঁচানোই হবে প্রধান লক্ষ্য। অবশ্য আইএসএল ক্লাব জোটের আবেদনে সাড়া দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যদি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত টুর্নামেন্টের কথা ভেবে এবারের মতো অবনমন স্থগিত রাখে, তাহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে, মহমেডান সহ বেশ কিছু ক্লাব।
এতদিন শুধু অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছেন মেহরাজ আইএসএলের খেলা কবে শুরু হবে তা নিয়ে। তারপর যখন জানলেন আইএসএলের খেলার দিন ও সূচী ঘোষিত হয়েছে, তখন তড়িঘড়ি প্রস্তুতিতে হাত লাগিয়েছেন তিনি। ফুটবলাররা অনেকেই ছুটিতে ভিন রাজ্যে ছিলেন। মহমেডান কর্তাদের সহযোগিতায় তাঁদের ভিনরাজ্য থেকে আনিয়ে অনুশীলনে নামার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তাছাড়া বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলারকে প্রথম ট্রান্সফার ব্যানের কারণে মরশুমের শুরুতে সই করানো যায়নি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আর্থিক সহয়তায় সেই ব্যান সাময়িক তোলা সম্ভব হয়েছিল। তখনই একঝাঁক ঘরের ফুটবলারের নাম নথিভুক্ত করান মহমেডান কর্তারা। কিন্তু বিদেশি ফুটবলার ফ্রাঙ্কার দেওয়া চিঠিতে ফিফার দ্বিতীয় ব্যানের খাঁড়া নেমে আসে। যেটা এখনও তোলা যায়নি।
তবে এখানেই সমস্যার শেষ নয়। আইএলএলে খেলতে গেলে যেমন ব্যান তুলতে আগের কোচ ও ফুটবলারদের বকেয়া মেটাতে অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল, তেমন এখন অনুশীলন চালাতে, এবং মরশুমের বাকি সময় ঘরের মাঠে ম্যাচের আয়োজন করতে, অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে ও বর্তমান কোচ-ফুটবলারের মাইনে দিতে অনেক টাকার প্রয়োজন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নতুন ইনভেস্টার ঠিক করার উদ্যোগ নিলেও, সেটা এখনও পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি। তবে মহমেডান কর্তারা আশাবাদী, আরও কিছু টাকা আসবে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে। সেই আশায় এখনও বেঁচে আছে মহমেডান।
এমনকি মহমেডানের দৈণ্যদশা এতটাই, তারা আইএসএল কমিটির কাছে সূচী তৈরির সময় জানিয়েছিল, তারা কলকাতায় কোনও হোম ম্যাচ খেলতেই চায় না। তাদের সব ম্যাচ যেন বাইরে দেওয়া হয়। কারণ যুবভারতীতে তো বটেই, কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও হোম ম্যাচ খেলতে গেলে যে স্টেডিয়াম ভাড়া বাবদ যে টাকা দিতে হবে, তা তাদের সাধ্যের বাইরে। সেইমতো মহমেডান হোম ম্যাচ কলকাতায় নেই বললেই চলে। হাতেগোনা ম্যাচ রয়েছে। আর ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সঙ্গে মহমেডান মিনি ডার্বির হোম ম্যাচও সূচীতে কলকাতার পরিবর্তে দেখানো হয়েছে জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্টেডিয়ামের নাম উল্লেখ করে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে বিনা খরচে কিশোরভারতী স্টেডিয়াম পাওয়ার প্রতিশ্রুতি মেলার পর মহমেডান কর্তাদের সুরপ বদলেছে। তাঁরা এখন সূচীতে বদল চাইছেন। নতুন করে কলকাতার মাঠে হোম ম্যাচ খেলায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আইএসএল সূচী তৈরির দায়িত্বে থাকা কমিটির কাছে। তবে সেটা এই সেষমুহূর্তে কতটা মানা সম্ভব হবে, সেটা কিছুদেনের মধ্যেই বোঝা যাবে।
ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সঙ্গে আইএসএলের মিডি ডার্বি, যা জামশেদপুরে হওয়ার কথা, সেটা এখন কলকাতায় খেলার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভিন্ন ভাবে। কিশোরভারতীতে এই দুটো ম্যাচ নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ আয়োজনের অনুমতি দেবে বলে মনে হয় না। তাই কলকাতায় এই মিনি ডার্বির আয়োজন একমাত্র যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই হতে পারে। কিন্তু সেখানে ম্যাচ আয়োজনের যা বিপুল খরচ, তা দেওয়ার ক্ষমতা নেই মহমেডানের। তাই তারা একটা বিশেষ প্রস্তাব রেখেছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের কাছে। সেটা হল, ম্যাচ দুটো আয়োজনের দায়িত্ব ও খরচ বহন করুক ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান, মহমেডান শুধু ম্যাচটা খেলবে। হোম ম্যাচের টিকিট বিক্রির টাকা মহমেডান দাবি করবে না। ওটা চলে যাবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের কাছে। তাহলে তাদের কাউকেই জামশেদপুর যেতে হবে না ম্যাচ খেলতে। তবে এমন প্রস্তাবে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। দেখা যাক, আইএসএল শুরু হলে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সূচী বা ম্যাচের কেন্দ্রে বদল ঘটে কিনা?
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
