Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ভারত ম্যাচ বয়কটের বিতর্কের মাঝে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কলম্বোর এসএসসি স্টেডিয়ামের মাঠে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটের রূদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিল পাকিস্তান। হারা ম্যাচ লড়ে নিজের অনুকূলে এনে যারা জেতে, তাদেরই বাজিগর বলে। ২ ওভার বাকি থাকতে পাকিস্তান সেই হারের জায়গাতেই ছিল। কিন্তু হল্যান্ড বোলারদের অনভিজ্ঞতা, শেষদিকের চাপ নিতে না পারার অক্ষমতা ও ফাহিম আসরাফের দুরন্ত ব্যাটিং(‌১১ বলে অপারজিত ২৯ রান)‌ পাকিস্তানকে জয় এনে দিল। প্রথমে ব্যাট করে ১৯.‌৫ ওভারের হল্যান্ড করেছিল ১৪৭ রান। ফাহিমের ব্যাটে ভর করে সেই রান তাড়া করে জেতে পাকিস্তান।

১৮ ওভারের শেষে পাকিস্তানের রান ছিল ১১৯-‌৭। অর্থাৎ জয়ের জন্য তখনও দরকার ২৯ রান। ২৮ রান করলে ম্যাচ যেত সুপার ওভারে। ফাহিমের সঙ্গে তখন ক্রিজে শাহিন আফ্রিদি। ১৯তম ওভারে ম্যাচটা পাকিস্তানের অনুকূলে পুরো ঘুরিয়ে দিলেন ফাহিম আসরাফ ব্যাটে সুনামি এনে। লোগান ভ্যান বিকের ওভারে তিনটি ছক্কা, একটি বাউন্ডারি ও ২ রান করার সুবাদে ২৪ রান তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দেন ফাহিম।

শেষওভারে, অর্থাৎ ২০তম ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৫ রান। পেশিতে টান ধরায় কাইল ক্লেইন মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়ায় শেষ ওভারে বল করতে আসেন বাস ডি লিডে। ২০ তম ওভারের প্রথম বলে শাহিন আফ্রিদি ১ রান নিয়ে ফাহিমকে স্ট্রাইক নেওয়ার সুযোহ করে দেন। ফাহিম দ্বিতীয় বলে হুক করে রান নিতে গিয়ে ফসকান। কিন্তু তৃতীয় বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ফাহিম জয়ের প্রয়োজনীয় ১৪৮ রান তুলে নেন ৭ উইকেট খুইয়ে ৩ বল বাকি থাকতে। এমন একটা জয়ে পরের ম্যাচ খেলতে নামার আগে পাকিস্তান শিবির যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেল, সেটা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে শেষপর্যন্ত অনড় থাকলে বাকি ম্যাচগুলো থেকে পুরো পয়েন্ট পেতেই হবে পাকিস্তানকে সুপার এইটে যেতে।

পাকিস্তান অধিনায়ক সলমান আলি আঘা টসে জিতে হল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন। একটা সময় মনে হয়েছিল হল্যান্ড ১৬০ রানের টার্গেট রাখতে পারবে পকিস্তানের সামনে। কিন্তু অনভিজ্ঞতার কারণে ২০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে হল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৪৭ রানে। হল্যান্ডের অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের ব্যাটে সর্বাধিক ৩৭ রান আসে ২৯ বলে। মাইকেল লেভিট (‌২৪)‌, বাস ডি লিডে (‌৩০)‌, ও অ্যাকারম্যান (‌২০)‌ ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য রান পাননি। পাকিস্তানের বোলার সলমান মিরজা(‌৩-‌২৪)‌ , মহম্মদ নওয়াজ(‌২-‌৩৮)‌ ও আব্রার আহমেদ(‌২-‌২৩)‌ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রেখে দেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা দারুন করেছিল। শাহিবজাদা ফরহান(‌৪৭)‌ ও সাইম আয়ুব(‌ ২৪)‌ রান তুলে পাকিস্তানের ইনিংসের ভিত শক্ত মাটিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ফায়দা তুলতে ব্যর্থ হন মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। বাবর আজম(‌১৫)‌, সলমান আলি(‌ ১২)‌, উসমান খান(‌০)‌, শাদাব খান(‌ ৮)‌, ও নওয়াজ(‌৬)‌ আউট হতে ১১৪ রানে ৭ উইকেট খোয়ানো পাকিস্তানকে জেতানোর দায়িত্ব এসে পড়ে ফাহিম ও শাহিনের ওপর। যা তাঁরা দারুনভাবে পালন করেছেন। হল্যান্ডের আরিয়ান দত(‌২-‌৩৩) ও পল ভ্যান মিকরানের (‌২-‌২০)‌‌ বোলিং শেষপর্যন্ত ম্যাচ জেতাতে পারেনি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *