ছবি— মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এক্স
সুচরিতা সেন চৌধুরী: পর পর আক্রমণে শুরু থেকেই মহমেডান রক্ষণে ঝড় তুলেছিল মোহনবাগান। ভাগ্যিস সাদা-কালো গোলের নিচে ছিলেন বঙ্গ গোলকিপার শুভজিৎ ভট্টাচার্য। যিনি আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে অনেক সমস্যার মধ্যে থাকা দলের শেষরক্ষণের ভূমিকায় খেলতে নামার আগে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, মোহনবাগানের কোনও একজন নয়, গোল আটকাতে লক্ষ্য রাখতে হবে সবার দিকেই। আর সেই লক্ষ্যেই খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে গোল করে এগিয়ে গেল মহমেডান। তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি মোহনবাগানও, ১০ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফিরে কিছুক্ষণের মধ্যে এগিয়েও যায় গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। যদিও ডার্বির আবহ যেন তৈরিই হল না এদিনের যুবভারতীতে। দুই কলকাতার দলের লড়াইয়ে গ্যালারিতে যতটা উত্তাপ আশা করা গিয়েছিল তেমনটা না থাকলেও দর্শক সংখ্যা ৩০ হাজারের গন্ডি পেরিয়ে গেল। শুভজিতের কথাই ফলে গেল, মোহনবাগানের সবাই সেরা যে কেউ গোল করতে পারে। হলও তাই, পাঁচ গোলে নাম লিখিয়ে ফেললেন চারজন।
এদিন মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা দলে মোট চারটি পরিবর্তন করেছিলেন। লিস্টন কোলাসো, দিমিত্রি পেত্রাতোস, শুভাশিস বোস ও মেহেতাব সিংকে বসিয়ে নামিয়ে দিয়েছিলেন অময় রানাওয়াডে, মনবীর সিং, দীপক টাংরি ও জেসন কামিন্সকে। প্রতিপক্ষ মহমেডান হওয়ায় হয়তো এই সুযোগে বেঞ্চকেও দেখে নিতে চেয়েছিলেন লোবেরা। তাতেও বাজিমাত, একটা অতর্কিতে গোলহজম শুধু এই ম্যাচের কাটা হয়ে থাকবে মোহনবাগানের পক্ষে। মহমেডানের জন্য এটাই প্রাপ্তি। এই মরসুমের আইএসএল-এ প্রথম গোল পেল সাদা-কালো ব্রিগেড।
১২ মিনিটে লালগাইশাকার কর্নার থেকে লালথানকিমার দুরন্ত হেডে পরাস্ত হন বিশাল কাইথ, চকিতে এই আক্রমণে থমকে যায় মোহনবাগান রক্ষণও। সেটাই শুরু, সেটাই শেষ। এর পর প্রথমার্ধেই এক গোল হজমের জবাব তিন গোলে দিয়ে দেয় মোহনবাগান। ১৮ মিনিটে রবসনের শট ক্রসপিসে লেগে বাইরে যাওয়ার পর ২২ মিনিটে সেই রবসনই সমতায় ফেরান কামিন্সের অসাধারণ পাস থেকে। দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি আসে ২৭ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে মনবীরের পাস ধরে রবসনের দুরন্ত ফিনিশেই ২-১ করে ফেলে মোহনবাগান।
তখনও প্রথমার্ধের বাকি ছিল ১৮, ১৯ মিনিট। তার আগেই অবশ্য ৩-১ করে দিলেন জেমি ম্যাকলারেন। ৩৫ মিনিটে যখন অময় রানাওয়াডের ক্রসে কামিন্সের গোলমুখি হেড ধরেও দখলে রাখতে পারেননি মহমেডান গোলকিপার। তাঁর হাত থেকে ছিটকে আসা বলেই ম্যাকলারেনের ছোট্ট টোকা গোল চিনতে ভুল করেনি। ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে মোহনবাগান। এখান থেকে মহমেডানের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন ছিল, যে পরিস্থিতিতে তারা আইএসএল খেলতে নেমেছে সেদিক থেকে দেখলে অসম্ভবই ছিল। হয়ওনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল হজম করে বসল কলকাতার তৃতীয় প্রধান।
৬২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ালেন মনবীর সিং। তাঁকে প্রথম দলে রাখার পুরস্কার দিলেন কোচকে। অভিষেক সিংয়ের দুরন্ত একটা ক্রস মহমেডান বক্সের মধ্যে থেকেই প্রায় শুয়ে পরে হেড করেছিলেন মনবীর। তাঁর অনবদ্য ডাইভিং হেড চলে যায় গোলে। যার সঙ্গে আইএসএল ২০২৫-২৬ মরসুমের প্রথম গোলটিও পেয়ে গেলেন মনবীর। এর পরও গোল পেতে পারতেন তিনি, তবে দক্ষতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন শুভজিৎ। ৭৬ মিনিটে পাঁচগোলের কোটা পূর্ণ করে দেন দিমিত্রি পেত্রাতোস অনবদ্য দূরপাল্লার শটে। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে উড়ে আসা বল হেড করে নামিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাকলারেন। সেই চলতি বলেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দিমির ডান পায়ের জোড়াল শট সঠিক দিকে লাফিয়েও বাঁচাতে পারেননি মহমেডান গোলকিপার, এতটাই গতি ছিল সেই বলে।
খেলা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ব্যবধান বাড়তে থাকল নিয়মিত ব্যবধানে। মহমেডান গোলের নিচে শুভজিৎ না থাকলে গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। তবে ৫-১ গোলে জিতে লিগ টপে পৌঁছে গেল মোহনবাগান। তবে এই ম্যাচে ৫ গোলের পাশাপাশি রবসন, টাংরিদের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তেও দেখা গেল।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, অময় রানাওয়াডে (সাহাল আব্দুল সামাদ), অভিষেক টেকচাম সিং, অালবার্টো রদ্রিগেজ, দীপক টাংরি (লিস্টন কোলাসো), অনিরুদ্ধ থাপা (কিয়ান নাসিরি), রবসন ডিসিলভা (দিমিত্রি পেত্রাতোস), মনবীর সিং, আপুইয়া, জেসন কামিন্স (টম আলড্রেড), জেমি ম্যাকলারেন
মহমেডান: শুভজিত ভট্টাচার্য, সাজাদ হুসেন, গৌরব বোরা, দীনেশ মিতেই, হিরা মণ্ডল, লালথানককিমা (ইজরায়েল দিওয়ান), অমরজিত সিং, মোহিতোষ রায়, লালনগাইশাকা, অ্যাডিসন সিং (মাখন চোটে), লালরেমসসাঙ্গা (ফারদিন আলিমোল্লা)
