Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। দর্শনীয় গোল করে খেলায় সমতা ফেরান সবুজ মেরুনের গোল মেশিন জেমি ম্যাকলারেন। গোলের পরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর চোখের জল যুবভারতীতে উপস্থিত সমর্থক থেকে প্রচারমাধ্যম, সকলের নজের আসে। ম্যাকলারেন হাত তুলে আকাশের দিকে গোলটা যেন কাউকে উৎসর্গ করার ভঙ্গিও করেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ম্যাকলারেন জানালেন, ‘‌ শনিবার আমি মেলবোর্নে থাকা দিদিমা অ্যানি মাসকটকে হারিয়েছি। দিদিমার সঙ্গে আমার গভীর ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। তাই দিদিমার প্রয়াণের খবরে এতটাই মন খারাপ ছিল, পাঞ্জাব ম্যাচটা খেলার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না। তারপর ঠিক করি, দলের স্বার্থের কথা ভেবে ম্যাচটা খেলব। গোল করে দিদিমাকে উৎসর্গ করব। সেটাই করেছি। দিদিমা যেখানেই থাকুন, তিনি আমার গোলের জন্য নিশ্চয়ই আশীর্বাদ করছেন।’‌

মহমেডান ম্যাচের পর ৩ ম্যাচে গোল ছিল না। আবার গোলের মধ্যে ফিরতে কীভাবে নিজেকে মোটিভেট করছিলেন?‌ ম্যাকলারেনের উত্তর, ‘‌ আমি এর আগে অসংখ্য গোল করেছি। তার মানে এই নয়, সব ম্যাচে গোল পাব। আসলে স্ট্রাইকারদের জীবনে মাঝে মাঝে এমন সময় আসে, যখন গোল পেতে সমস্যা হয়। আমারও হয়েছে, গত ৩ ম্যাচে। বিশেষ করে জামশেদপুর ম্যাচে নিশ্চিত গোল মিস করায় খুব হতাশ ছিলাম। কী করলে আবার গোলের মাঝে তার জন্য বাড়তি প্র‌্যাকটিস করেছি। নিজের ফোকাস বাড়িয়েছি। শেষপর্যন্ত পাঞ্জাবের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোল আসায় ভাল লাগছে। তবে আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে পরের ম্যাচগুলোয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে থাকতে।’‌

ম্যাকলারেনের মুখে সাহাল ও কামিংসের গোলের প্রশংসা। বলেন, ‘‌ সাহাল ও কামিংসের গোল দুটো শুধু অসাধারনই নয়, মোক্ষম সময়ে এসেছে। পুরো ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছে। যদিও কামিংসের ফ্রিকিক গোল নিয়ে প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব দেখলাম অভিযোগ করছিল রেফারির কাছে গিয়ে ফাউলের দাবি জানিয়ে, তবে এইধরনের হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ জিততে ভাগ্যের সহায়তা কিছুটা দরকার হয়। যারা শেষপর্যন্ত লড়ে, ভাগ্য তাদের সঙ্গেই থাকে। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে জয়টা নিঃসন্দেহে গোটা দলকে উজ্জীবিত করছে।’‌

অন্যদিকে, ম্যাচের ফলে খুশি হলেও, খেলায় সন্তুষ্ট নন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ সের্জিও লোবেরা। ম্যাচ শেষে লোবেরা বলেন, ‘‌ গত ৩ ম্যাচ পর জয়ে ফেরা ও পুরো ৩ পয়েন্ট প্রাপ্তিতে ভাল লাগলেও, দলের পারফরমেন্সে মোটেই খুশি হতে পারি না। বেঙ্গালুরু বা জামশেদপুর ম্যাচ না জিতলেও দল ভাল খেলেছিল। জয় না পাওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্যের। সেখানে মুম্বই সিটির মতোই পাঞ্জাব ম্যাচটা প্রত্যাশার ধারেকাছে পারফর্ম করতে পারেনি ফুটবলাররা। পাঞ্জাব ম্যাচ কঠিন হবে জানতাম, কিন্তু তাই বলে আমাদের বিরুদ্ধে এতগুলো সুযোগ যে ওরা তৈরি করবে, এটা কাম্য ছিল না। এদিকটায় আমাকে নজর দিতে হবে। যেভাবে গোল খেয়েছে দল সেটাও। সব মিলিয়ে এটা বলব, আমাদের খেলায় অনেক উন্নতি জরুরি, কারণ আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’‌

মাঝমাঠে আপুইয়ার না থাকাটা কি সমস্যা তৈরি করেছিল?‌ লোবেরার জবাব, ‘‌ আপুইয়া নিঃসন্দেহে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। কিন্তু একজন ফুটবলার না থাকায়, দল খারাপ খেলবে এটা মানা যায় না। এমন অজুহাত আমি অন্তত দিতে পারব না। একজন কোচ হিসেবে হাতে অনেক ভাল ফুটবলার থাকতে, এমন কথা বলা ঠিক মনে করি না। বরং বাকি ম্যাচগুলোয় দলের পারফরমেন্স বাড়াতে যা যা করার, সেই উদ্যোগ নেব।’‌

সাহাল ও কামিংসের বদলি হিসেবে গোল করা নিয়ে লোবেরার মুখে ভূয়সী প্রশংসা। বলেন, এটা দলের আসল স্ট্রেংথ। হাতে সাহাল ও কামিংসের মতো এমন ফুটবলার আছে, যাঁরা পরে মাঠে নেমে গোল করে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *