মেক্সিকো দলের ছবি— ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইকনিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও অপ্রত্যাশিতভাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। আয়োজক দলের হয়ে জুলিয়ান কুইনোনস ও রাউল হিমেনেজ গোল করলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার দৃষ্টি ছিল মূলত বাঁশি হাতে থাকা সেই রেফারির ওপর।
সাম্পাইও-র পরা অত্যাধুনিক বা ফিউচারিস্টিক চেহারার কমিউনিকেশন হেডসেটটি বাড়তি মনোযোগ কেড়েছিল; এটি দেখে অনেকেই এক্সবক্স গেমিং গিয়ার থেকে শুরু করে ‘রোবোকপ’-এর মতো জিনিসের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন। খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া মিম-এ ভরে যায় এবং ম্যাচ শেষে অনেক ভক্তই রসিকতা করে বলতে থাকেন যে, এই ব্রাজিলিয়ান রেফারিই আসলে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।
৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে ২-০ গোলে হার মানে এবং মেক্সিকো খেলা শেষ করে দশজন খেলোয়াড় নিয়ে। ভিএআর পর্যালোচনার পর নেওয়া সিদ্ধান্তসহ সাম্পাইও-র বিভিন্ন সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টটিকে এক বিশৃঙ্খল অথচ স্মরণীয় সূচনা এনে দেয়।
কে এই উইলটন সাম্পাইও?
সাম্পাইও দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত মুখ।
১৯৮১ সালে ব্রাজিলের তেরেসিনা দে গোইয়াসে জন্মগ্রহণকারী ৪৪ বছর বয়সী এই রেফারি ২০০৯ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং দ্রুতই দেশের অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ‘ব্রাসিলেইরাও’ (ব্রাজিলিয়ান লিগ)-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং ২০১৩ সালে ফিফা ব্যাজ লাভ করেন।
এরপর থেকে সাম্পাইও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের এক ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তিনি কোপা লিবার্তাদোরেস, কোপা সুদামেরিকানা, কোপা আমেরিকা, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং একাধিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই ব্রাজিলিয়ান রেফারি ২০১৮ ও ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ফিফার ম্যাচ পরিচালনাকারী দলেরও অংশ ছিলেন। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার-ফাইনাল হারের পর তিনি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন; ম্যাচের পর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও ভক্ত তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ব্রাজিলে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পরিচিত সাম্পাইও ঘরোয়া ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় নিয়মিতভাবেই প্রচুর কার্ড দেখানোর জন্য পরিচিত। ম্যাচ কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তাঁর যে খ্যাতি রয়েছে, মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচেও তার প্রমাণ পাওয়া গেল।
শুরুতে সাম্পাইওকে নিয়ে যে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছিল, তার সঙ্গে অবশ্য লাল কার্ডের কোনও সম্পর্ক ছিল না। তবে পরে তা যুক্ত হয়।
শাকিরা ও বার্না বয়ের অংশগ্রহণে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দর্শকদের নজর কাড়ে রেফারির কানে থাকা বড় আকারের একটি যোগাযোগ যন্ত্র, যা তাঁর মাইক্রোফোন সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই যন্ত্রটি তাঁকে এক ধরণের ‘ভবিষ্যৎ-ধর্মী’ (ফিউচারিস্টিক) রূপ দিয়েছিল এবং মুহূর্তেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।
অনেক দর্শক এই যন্ত্রটিকে গেমিং হেডসেটের সঙ্গে তুলনা করেন; আবার কেউ কেউ রসিকতা করে বলেন, সাম্পাইওকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি সরাসরি ‘রোবোকপ’ সিনেমা থেকে উঠে এসেছেন। সারা রাত ধরেই তাঁকে নিয়ে নানা রকম ‘মিম’ তৈরি হতে থাকে, কারণ ম্যাচের মূল ঘটনাগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার তাঁকেই দেখা যাচ্ছিল। এর পর রেফারি যখন কার্ড দেখাতে শুরু করেন, তখন তাঁকে নিয়ে করা সেই রসিকতা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিশৃঙ্খল এক বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন সাম্পাইও। এই ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান রেফারি পরপর তিনটি লাল কার্ড দেখান। প্রথমার্ধের বিরতির পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোলেকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর রবার্তো আলভারাদোর মুখে আঘাত করার দায়ে ভিএআর-এর মাধ্যমে তাঁর সতীর্থ থেম্বা জোয়ানেকেও বহিষ্কার করা হয়। সবশেষে, স্টপেজ টাইমে খুলিসো মুদাউকে ফেলে দেওয়ার অপরাধে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্টেস তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
বিশ্বকাপের এমন বিতর্কীত শুরু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
