ছবি: মোহনবাগান এসজি
অলস্পোর্ট ডেস্ক: কথাবার্তা আগেই সেরে রেখেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সোমবার সরকারি ভাবে সবুজ মেরুনের কোচ হিসেবে পানাজিওটিস দিমপেরিসের নাম ঘোষণা করল তারা। সের্জিও লোবেরার জায়গায় তাঁকে নিয়েছে ক্লাব, একবছরের চুক্তিতে। গত মরশুমের আইএসএলে পাঞ্জাব এফসি কোচের ভূমিকায় তাঁর দক্ষতার প্রমাণ পেয়ে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়েছিল ২০২৬-২৭ মরশুমের জন্য। জুনিয়ার ফুটবলারদের তুলে আনা, তাঁদের সুযোগ দেওয়া ও সিনিয়রদের সঙ্গে তাঁদের বোঝাপড়া বাড়ানোর মধ্যে সংগঠিত ভারসাম্যমূলক ফুটবল দর্শন উপহার দেওয়ার কারণে গ্রীক কোচ দিমপেরিস প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। মোহনবাগানের দায়িত্ব নিয়েই ডিমপেরিসের প্রথম টুর্নামেন্ট হবে ডুরান্ড কাপ। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রথম পরীক্ষা ২৫ জুলাই ডুরান্ড কাপ ডার্বি। সফল হলে ভাল, নইলে মরশুমের প্রথম ম্যাচ থেকেই চাপ বাড়বে তাঁর ওপর।
কেন মোহনবাগান এসজিকেই বাছলেন কোচিং করার জন্য? দিমমপেরিসের জবাব, ‘ মোহনবাগান শুধুমাত্র একটা ফুটবল ক্লাব নয়, ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি, এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য-সমর্থক।’ দিমপেরিস জানিয়েছেন, তিনি দল নিয়ে সন্তুষ্ট। মনে করি, একটা শক্তিশালী ও প্রতিভাবান দল হাতে পেয়েছি। এই দলে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার একটা চমৎকার ভারসাম্য আছে। প্রত্যেক কোচই সবসময় উন্নতির পথে খোঁজেন। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে, আমি যে দলকে কোচিং করাবো, তাদের সবাইকে সক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে। সাফল্য কখনও একক ব্যক্তিগত দক্ষতা থেকে আসে না, বরং সঠিক মানসিকতা, শৃঙ্খলা, ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলার মাধ্যমে আসে।’
মোহনবাগানে শুধু ম্যাচ জিতলেই হবে না, ট্রফিও জিততে হবে। প্রত্যাশার চাপ বিশাল। সেটা কীভাবে সামলাবেন? দিমপেরিস জানান, ‘ আমার কাছে চাপ একটা আশীর্বাদ। বিশ্বের সব বড় ক্লাবের সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের সেই আবেগই ক্লাবের অন্যতম প্রধান শক্তি। আমাদের দায়িত্ব হল কঠোর পরিশ্রম করে ভাল খেলে তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করা। যারা মাঠে লড়বে সমানে সামনে ক্লাবের সম্মান রক্ষার্থে।’
দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হবেন। এনিয়ে দিমপেরিসের প্রতিক্রিয়া, ‘ ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর। ভারতে আসার পর থেকে জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসির মাচগুলোর একটি। সমর্থক, খোলোয়াড়, কর্তাদের আবেগ ও প্রত্যাশা প্রবলভাবে জড়িত। তাই ডার্বির গুরুত্ব কতটা, সেটা জানি। এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সেরা উপায় শুধু আবেগ নয়, বরং শৃঙ্খলা মেনে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামার জন্য তৈরি থাকতে হবে। প্রতিপক্ষকে যেমন সম্মান করব, তেমন মোহনবাগান ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে ডার্বি জিততে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই ফুটবলারদের উজ্জীবিত করব।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
