Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়: বিশ্বকাপে নবাগত কেপ ভার্দেকে ৩-‌২ গোলে হারাতে‌ গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মিয়ামির মাঠে রীতিমতো কালঘাম ছুটেছে। একটা সময় এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ম্যাচ টাইব্রেকারে গেলে, সেটা আর্জেন্টিনার পক্ষে স্বস্তির নাও হতে পারে। তার বড় কারণ কেপ ভার্দের গোলের নীচে দাঁড়ানো ৪০ বছরের ভোজিনহা দুরন্ত ফর্ম। যদিও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ পরিত্রাতার ভূমিকায় বারবার উতরে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। এবার টাইব্রেকারে ম্যাচ গেলে কী হত বলা মুশকিল। শেষপর্যন্ত অবশ্য অঘটন কিছু ঘটেনি। অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে রাউন্ড অফ ৩২য়ের বাধা টপকেছে। শেষ ষোলোয় শনিবার তাদের প্রতিপক্ষ মিশর। যারা টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রিকোয়ার্টারে পৌঁছেছে।

কেপ ভার্দের এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মেসি ম্যাচ শেষে। নিজে গোল করে ও ম্যাচের অন্তিম লগ্নে অতিরিক্ত সময়ে গোল করিয়ে ম্যাচ জেতানো পর মেসি অকপটে জানিয়েছেন, কেপ ভার্দেকে হারানো যে সহজ হবে না, সেটা তিনি জানতেন। কারণ গ্রুপে হেভিওয়েট দুই দল স্পেন ও উরুগুয়ের পয়েন্ট কেড়েছিল তারা। সত্যি তো আর্জেন্টিনাকে ১১০ মিনিট উদ্বেগে রেখেছিল কেপ ভার্দে হার না মানা মনোভাব দিয়ে। দু’‌বার পিছিয়ে পড়েও সমতা ফিরিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল।

মেসি ২৯ মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের লব বাঁপায়ের নিখুঁত টাচে নিয়ন্ত্রণে এনে মেসি যেভাবে বলটা গোলে রাখেন, তাতে বলার অপেক্ষা রাখে না তিনি সর্বকালের সেরা গোলদাতা ও ফুটবলার। চলতি বিশ্বকাপে এটা তাঁর সপ্তম গোল, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০। তবে এই গোল হজমের পর হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিটের মাথায় ডেরয় দুরাতে গোল করে সমতা ফেরান। আর্জেন্টিনা ক্রমাগত চাপ বাড়ালেও কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ ও গোলকিপার ভোজিনহাকে হার মানাতে পারেনি নির্ধারিত সময়ে। মেসি নিজে বৈচিত্রে ভরা ফ্রিকিক নিলেও ভোজিনহা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সবগুলো রুখে দেন। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে জোরালো শট নিয়ে গোলকিপার ভোজিনহাকে পরাস্থ করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।

কিন্তু তখনও পিকচার বাকি ছিল। ১০৩ মিনিটে দূর থেকে বাঁকখাওয়ানো কোনাকুনি উঁচু শটে আর্জেন্টিনা গোলকিপার মার্টিনেজের বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন কেপ ভার্দের সিডনি লোপেজ কাবরাল। কিন্তু কথা আছে, ছোট দল প্রচন্ড লড়ে, কিন্তু শেষপর্যন্ত অভিজ্ঞতার জোরে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে জিতে যায় বড় দল। সেটাই হল। ১১১ মিনিটে মাস্টারস্ট্রোকটা দিলেন সেই মেসি। কর্নার থেকে তাঁর ভেসে আসা বল বক্সের মাঝে হেড করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বল গোলে চলে যায় গোলকিপার ভোজিনহার হাতের পাশ দিয়ে। যেবেচু পরে ভিডিও রিল্পেতে দেখা যায় বল গোলে ঢোকার আগে কেপ ভার্দে সেন্টার ব্যাক দিনে বর্জেসের হাত ছুঁয়ে গোলে যাওয়ায়, রেফারি এই গোলটাকে নিজ গোল দিয়েছেন।

ম্যাচ শেষে ভেঙে পড়া কেপ ভার্দে ফুটবলারদের ঘুরে ঘুরে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন মেসি। একজন বড় ফুটবলারের এটাই তো চরিত্র হওয়া উচিত। পরে মেসি বলেন, ‘‌ জানতাম ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। স্পেন বা উরুগুয়ের পয়েন্ট কাড়াটা মুখে কথা নয়। ফ্লুক ছিল না। কেপ ভার্দে খেলে সেই পয়েন্টগুলো অর্জন করেছিল। তাই ওদের বিরুদ্ধে প্রথম গোল পেতে কতক্ষণ লাগবে, সেটা নিয়ে ভাবনা ছিল। সেই গোলটা পাওয়ার পর ভেবেছিলাম, ম্যাচটা মুঠোয় এসে যাবে। কিন্তু হল উল্টো। আমরা খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাই। একটু বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম। তাতেই কেপ ভার্দে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পেয়ে যায়। নকআউট পর্যায়ে কোনওরকম আলগা ভাব দেখানো চলে না। অনেকেই মনে করেন অনামী প্রতিপক্ষ মানেই দুর্বল। তা কিন্তু নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চটা এমনই। এখানে সব দলই সমান। লড়াইটা সেয়ানে সেয়ানে হয়। শেষপর্যন্ত যার শেষ ভাল, তার সব ভাল। আমরা নিজদের গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচ জিততে পেরেছি। তবে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। যে ভুল ত্রুটিগুলো এই ম্যাচে হয়েছে , সেটা দ্রুত শুধরে নেওয়ার কাজ সারতে হবে পরের ম্যাচের আগে।’‌

মেসিরদের সামনে আরও একটা কঠিন লড়াই। মহম্মদ শালার মিশরের বিরুদ্ধে। মেসির মতো শালারও এটা শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। শালার দল চারবছর পর বিশ্বকাপে যদিও বা খেলার সুযোগ পায়, তিনি নিজে আর খেলার মতো অবস্থায় থাকবেন কিনা সন্দেহ। অতএব ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আর লুকা মদ্রিচের দ্বৈরথের মতো আরও একটা এপিক লড়াই অপেক্ষা করে আছে বিশ্ববাসীর জন্য।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *