Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: আইসিসিআর-এ ঢোকার পর থেকেই সব নজর কেড়ে নিয়েছিল সে। তখনও চেস ফর ইয়ুথ ২০২৪-এর উদ্বোধন শুরু হয়নি। এই মরসুমে ১৪ বছরে পা দিল চেস ফর ইয়ুথ। তার উদ্বোধনে হাজির হয়েছিলেন বাংলার দুই গ্র্যান্ডমাস্টার সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায় ও নীলোৎপল দাস। তাঁদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এক মিনিটও সময় নেয়নি এই ছোট্ট দাবাড়ু। বাংলার দাবার ‘ওয়ান্ডার বয়’ বলা যেতেই পারে তাঁকে। নাম অনীশ সরকার। বয়স সাড়ে তিন। এখনও কথা ফোটেনি ভাল করে। কিন্তু দাবার বোর্ড সামনে দেখলে সব ভুলে যায় ছোট্ট অনীশ। তার চারদিকে কী চলছে তা নিয়ে কোনও উৎসাহ নেই।

আইসিসিআর-এ তখনও সব প্রতিযোগীরা এসে পৌঁছয়নি। অনীশ তার মায়ের হাত ধরে কিছুটা আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। সেখানে ঢুকেই উদ্বোধনী মঞ্চে রাখা দাবা বোর্ডের সামনে চলে গিয়েছিল সে। তার পর টেবলের অন্যপ্রান্তে দাঁড়ানো তারই প্রশিক্ষকের সঙ্গে শুরু করে দেয় খেলা। টেবলের অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বোর্ডের সব প্রান্তে হাতও পৌঁছচ্ছিল না তার। কিছুক্ষণ প্রশিক্ষকের সঙ্গে খেলার পর এবার ছিল একাই পুরো বোর্ডের দখল নেওয়ার পালা। একবার সাদা তো একবার কালো ঘুঁটি, টেবলের দুই প্রান্তে ঘুরে ঘুরে চাল দিয়ে যাচ্ছিল অনীশ। সবার চোখ তখন অনীশের দিকে।

অনীশকে নিয়েই দাবার চাল দিয়ে ১৪তম চেস ফর ইয়ুথের উদ্বোধন করলেন বাংলার তিন গ্র্যান্ডমাস্টার সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়, নীলোৎপল দাস ও আয়োজক দিব্যেন্দু বড়ুয়া। তিন গ্র্যান্ডমাস্টারের মাঝে দাঁড়িয়েও দারুণ স্বচ্ছ্বন্দ অনীশ। অনীশের মা বলছিলে‌ন, ‘‘বাড়িতে যেমন সবাই দাবা খেলে তেমনই খেলতে গিয়ে দেখলাম ওর খুব আগ্রহ। তাই ভর্তি করে দিলাম অ্যাকাডেমিতে। ও উপভোগ করে খেলাটা।’’

তিন বছর বয়স হওয়ার আগেই যখন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়েছিল অনীশ তখন এ বি সি ডি-ও জানত না। কিন্তু গড় গড় করে পড়ে ফেলতে পারত দাবার বোর্ডে লেখা থাকত যা। এর পর এ থেকে এইচ পর্যন্ত এক দিনেই শিখে নিয়েছিল অনীশ। এর পর কে আর এস শিখে বলেছিল, ‘বাকিগুলো ইউসলেস’। কৈখালির অনীশ সরকারের কাছে ৬৪ ঘরের বাইরে সবই যেন ইউসলেস। পড়ে সেন্ট জেমস স্কুলের নার্সারিতে। তার কথায় বাড়িতে বাবা দাবা খেলে। প্রশ্ন করলে এক শব্দে উত্তর দেয় অনীশ। নিজের নামটা বলে সোচ্চারেই। ক্যামেরা, বুম দেখে কোনও জড়তা নেই বরং বুমটা নিয়ে খেলতে খেলতেই কথার উত্তর দেয় ছোট্ট অনীশ। ওর কাছে ওটা মাইক, তাই মাঝে মাঝে ‘হ্যালো’ বলে টেস্টও করে নেয় সে।  

চেস ফর ইয়ুথের মঞ্চ মেতে থাকল অনীশকে নিয়েই। হাসি হাসি মুখ করে কখনও খেলছে তো কখনও সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে খেলছে অনূর্ধ্ব-৬ বিভাগে। বাকিরা সবাই তার থেকে অনেকটাই বড়। সেই এই মরসুমের কনিষ্ঠতম প্রতিযোগী। কিন্তু তাতে কী? প্রথম রাউন্ডে দ্রুত জিতে বাংলার দাবার ‘ওয়ান্ডার বয়’ প্রমান করে দিয়েছে, আরও চমক দিতে প্রস্তুত সে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *