Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুনীল গাওস্করের সময় ক্রিকেট কোচেরা বলতেন তাঁর খেলা দেখে শিখতে। সচিন তেন্ডুলকরের সময় তাঁরা বলতেন মুম্বইকরের খেলা উপভোগ করতে। এখন কোচেরা বলেন বিরাট কোহলির খেলা দেখো আর হাততালি দাও, কারণ অন্য গ্রহের মানুষের খেলা কখনও অনুকরণ করা সম্ভব নয়। তবে কি বিরাটই ভারতের সর্বকালের সেরা ভারতীয় ক্রিকেটার? ভারতের মাটিতে সব থেকে বেশি শতরানের মালিক হতেই বিরাটকে নিয়ে এই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সচিনকে টপকে গিয়েছেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটে সব মিলিয়ে সচিনের ৪৯টি শতরানের রেকর্ডও ভেঙে দিতে পারেন বিরাট। তা হলে এগিয়ে কে?

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৬৬ রান করেন বিরাট। ঘরের মাঠে এক দিনের ক্রিকেটে ২১টি শতরান হয়ে গেল তাঁর। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মোট ৪৬টি আন্তর্জাতিক শতরান করে ফেললেন বিরাট। সচিনের রয়েছে ৪৯টি শতরান। টেস্টে যদিও ফারাকটা অনেক। ৫১টি শতরান রয়েছে সচিনের। বিরাট এখনও পর্যন্ত ২৭টি শতরান করেছেন লাল বলের ক্রিকেটে। সচিনের ১০০টি শতরানের রেকর্ড ছুঁতে বিরাটের এখনও ২৬টি শতরান প্রয়োজন। যদিও সচিনের থেকে অনেক কম ইনিংস খেলেছেন বিরাট।

এক দিনের ক্রিকেটে ৪৬টি শতরান করতে সচিন নিয়েছিলেন ৪৩১টি ইনিংস। বিরাট সেই মাইলফলক ছুঁয়েছেন ২৫৯টি ইনিংসে। প্রথম ১০টি শতরান করতে সচিন নিয়েছিলেন ১৩১টি ইনিংস। কিন্তু বিরাটের প্রথম ১০ শতরান এসেছিল ৮০টি ইনিংসে। অর্থাৎ শুরু থেকেই শতরান করার গতিতে সচিনের থেকে অনেক এগিয়ে বিরাট। কোহলির খেলা ২৫৯টি এক দিনের ইনিংসের মধ্যে ১৫৭টি ম্যাচে ভারত জিতেছে। সচিনের খেলা ৪৫২টি ইনিংসের মধ্যে ভারত জিতেছে ২৩১টি ম্যাচ। এই জয়ী ম্যাচগুলির মধ্যে বিরাটের শতরান এসেছে ৩৮টি ইনিংসে। ভারতের জেতা ম্যাচগুলির মধ্যে সচিনের ৩৩টি শতরান রয়েছে। অর্থাৎ, এই পরিসংখ্যানে ইতিমধ্যেই সচিনকে টপকে গিয়েছেন বিরাট।

বিরাট সচিনকে টপকে যাবেন? এই প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বিরাটের শতরানের পর গাওস্কর বলেন, “বিরাট দারুণ ছন্দে রয়েছেন। নিউ জ়িল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি করে ম্যাচ রয়েছে। এক দিনের ক্রিকেটে সচিনের ৪৯টি শতরান ছুঁতে বিরাটের আর তিনটি শতরান প্রয়োজন। আইপিএলের আগে ৬টি ইনিংস পাবে বিরাট। ও এটা করতে পারবে না ভাবার কোনও কারণ নেই।”

সচিন এবং বিরাটের আগে গাওস্করের ব্যাটিং ছিল চর্চার বিষয়। ১২৫টি টেস্টে ৩৪টি শতরান রয়েছে তাঁর। এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন ১০৮টি। সেখানে যদিও শতরান একটিই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩৩টি ম্যাচ খেলে তাঁর সংগ্রহ ১৩,২১৪ রান। ক্যারিবিয়ান পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে হেলমেটহীন মাথায় খেলে গিয়েছেন বছরের পর বছর। তাঁর ব্যাটিং শিল্প অবাক করে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। সেই সময়ের ক্রিকেটের সঙ্গে এখন অনেকটাই তফাত। গাওস্করের রান এক সময় টপকানো অসম্ভব মনে করা হত। সচিন সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৬৪টি ম্যাচ খেলে করেছেন ৩৪,৩৫৭ রান। কিন্তু তাঁদের মধ্যে তফাত অনেকটাই। গাওস্করের অভিষেক হয় ১৯৭১ সালে, সেই সময় জন্মই হয়নি সচিনের।

সচিন যে সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন, বিরাটের তখন এক বছর বয়স। ২০০৮ সালে বিরাটের অভিষেকের সময় সচিন ১৯ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেছেন। গাওস্কর, সচিন এবং বিরাটের কেরিয়ারের মধ্যে তফাত অনেক। পরিস্থিতি, ক্রিকেটের নিয়ম, আধুনিক সুযোগসুবিধা— তফাত সবেতেই। বিরাট আগের দিন দলের তিন জন থ্রো ডাউন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৫ জনের একটা ভারতীয় দলে এখন প্রায় সমসংখ্যক সাপোর্ট স্টাফ থাকেন। দলে যেমন থ্রো ডাউন দেওয়ার লোক রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন ভিডিয়ো বিশ্লেষক। যিনি প্রতিটি ব্যাটারের কোথায় কী ভুল হচ্ছে, তা দেখিয়ে দিতে পারেন। তাঁর কাছে বিপক্ষের বোলারদের সম্পর্কেও তথ্য থাকে। সেই বোলারদের বল করার ধরন ভিডিয়ো দেখে আগে থেকেই আন্দাজ করে নিতে পারেন বিরাটরা। এই ধরনের সুবিধা গাওস্করের কাছে ছিল না। সচিন নিজের কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময় এই ধরনের কোনও সুবিধা পাননি।

বদলে গিয়েছে ক্রিকেটের বেশ কিছু নিয়মও। চাইলে গাওস্করকে ওভারের ছ’টি বলই বাউন্সার করতে পারতেন পেসাররা। সেই আক্রমণ সামলাতে হয়েছে প্রাক্তন ওপেনারকে। যে নিয়ম এখন পাল্টে গিয়েছে। ১৯৯১ সালে ক্রিকেটের নিয়ম বদলে প্রতি ওভারে একটি বাউন্সার দেওয়ার নিয়ম হয়। তত দিনে গাওস্কর অবসর নিয়ে নিয়েছেন। বোলাররা যদিও ওভারে একটি বাউন্সারের নিয়ম মেনে নিতে পারেননি। অনেকেই এর বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে নিয়ম হয় ওভারে দু’টি বাউন্সার দেওয়া যাবে। তার আগে সচিন পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেছেন। সেই সময়ের মধ্যে সচিন টেস্টে মাত্র পাঁচটি শতরান করেছিলেন। এক দিনের ক্রিকেটে কোনও শতরান ওই সময়ের মধ্যে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *