Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ এশিয়া কাপে দুবাইয়ের মাঠে সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জাকের আলি। ভারতের হয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিল। শেষপর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান তোলে ভারত। সেই রান তাড়া করে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে ১৯.‌৩ ওভারে। ম্যাচটা ৪১ রানে জিতে এশিয়া কাপের ফাইনালে চলে গেল ভারত। রবিবার ভারতের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ভর করছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ম্যাচে কে জেতে তার ওপর।

প্রথম ৬ ওভারে ৭২ রান তোলেন অভিষেক ও শুভমান আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে। রিশাদ হোসেনের বলে বাউন্ডারি লাইনের ধারে তানজিম হাসান শাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৯ রান করে প্যাভিলিয়ানে ফেরেন শুভমান গিল। তখন ভারতের রান ছিল ৬.‌২ ওভারে ৭৭/‌১। ক্রিজে আসেন শিবম দুবে।

অভিষেক শর্মার ব্যাট থেকে রান আসা চলতেই থেকে। তিনি অর্ধশতরানে পৌঁছে যান ২৫ বলে। তখন ৭.‌৩ ওভারে ভারতের রান ৮২/‌১। কিন্তু খানিকটা চমক হিসেবে ওপরে ব্যাট করতে পাঠানো শিবম দুবে ২ রানে রিশাদ হোসেনের গুগলিতে বোকা বনে আউট হয়ে ফিরে যান তওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ভারতের রান তখন ৮৪/‌২।

তারপরও অভিষেক ব্যাট ঝলসানো থামেনি। ভারত ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান তুলে বড় রানের ইনিংস গড়ার দিকেই এগোচ্ছিল সূর্যকুমার যাদবকে পিচে আসার পর। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে। অভিষেক শর্মা ৩৭ বলে ৭৫ রান করার পর রিশাদ হোসেনের ছোঁড়া বল ধরে বাংলাদেশ বোলার মুস্তাফিজুর উইকেট ভেঙে গেলে রান আউট হয়ে ফিরে যান।

এরপরই দ্রুত আউট হয়ে প্যাভিয়ানে ফেরেন সূর্যকুমার যাদব মাত্র ৫ রান করে। বাংলাদেশ অধিনায়ক উইকেটকিপার জাকের আলি কট বিহাইন্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। জাকের ডিআরএসের সাহায্য নিলে তাতে সূর্যকুমারের আউটের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন আম্পায়ার। ১২ ওভারে ১১৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ওঠার গতি কিছুটা হলেও কমে।

ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক বর্মার ওপর। কিন্তু মাত্র ৫ রান করে তানজিম শাকিব হাসানের বলে আউট হয়ে ফিরে যান তিলক বর্মা। ভারতের রান তখন ১৪.‌৩ ওভারে ১২৯। ক্রিজে আসেন অক্ষর প্যাটেল। দেখেশুনে খেলে দু’‌জনে ভারতের রান ১৫০য়ে নিয়ে যান ১৭.‌৪ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে। হার্দিক ও অক্ষরের ব্যাটিংয়ের জোরে ভারত পৌঁছে যায় ১৫৫/‌৫ রানে ১৮ ওভারে। ১৯ ওভারে ভারতের রান ১৬৪/‌৫।

বাংলাদেশের বোলার সইফুদ্দিনের দুরন্ত বোলিংয়ের কারণে ২০তম ওভারে ভারত মাত্র ৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। সইফুদ্দিনের ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন হার্দিক ২৯ বলে ৩৮ রান করে। অক্ষর অপরাজিত থাকেন ১০ রানে। ভারত শেষ করে ১৬৮ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৬৯ রানের লক্ষ্যটা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল না। বরং ভারতকে জিততে হলে বোলারদের ভাল বল করতে হত। ভারতীয বোলাররা সেটাি করেন, বাংলাদেশ ব্যাটাররা নিজেরাও উইকেট থ্রো করে ভারতের জয়ের কাজটা সহজ করে দেন।

পাকিস্তানকে সুপার ফোরের ম্যাচে হারিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দল ফাইনালে ওঠার পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছিল। জানত বাংলাদেশকে হারালেই সেটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সেখানে বাংলাদেশের কাছেও এটা ছিল মরণ বাঁচন ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে। তারা সুপার ফোরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারতকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি ছিল। বোলিংয়ে ও ফিল্ডিংয়ে সেটাই ধরা পড়েছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে শোচনীভাবে ব্যর্থ।

১৬৯ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে যশপ্রীত বুমরার প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে শিবম দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে তানজিদ হাসান প্যাভিলিয়ানে ফিরতে বাংলাদেশ শুরুতে কিছুটা চাপ পড়ে যায়। স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান তখন মাত্র ৪/‌১। ক্রিজে সইফ হাসানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ইমন। যশপ্রীত বুমরার আগুনে বোলিং সামলে বাংলাদেশের দুই ব্যাটার স্পিনার বরুণ চক্রবর্থীকে টার্গেট করেন রান তুলতে। বরুণের ওভারে ১৩ রান নিয়ে রান ৫ ওভারে রান পৌঁছে দেন ৩৫/‌১।

ভারতকে দ্বিতীয় ব্রেকথ্রুটা দেন স্পিনার কুলদীপ যাদব। তাঁর বোলিংয়ের জাদুতে মিস হিট করে অভিষেকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ইমন ২১ রান করে। ৬.‌২ ওভারে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৪৬/‌২। হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে রান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চালাতে থাকেন সইফ। তবে অক্ষর প্যাটেলের বলে অভিষেকের হাতে ক্যাচ দিয়ে হৃদয় (‌৭)‌ ফিরতে ১০ ওভারের শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৬৫/‌৩। শূণ্য রানে বরুণ চক্রবর্তীর বলে ধোঁকা খেয়ে বোল্ড আউট হন শামিম হোসেন। ১০.‌৪ ওভারে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ ফেরে।

ক্রিজে আসেন অধিনায়ক জাকের আলি। কিন্তু চাপের মুখে রান আউট হন জাকের (‌৪)‌ সূর্যকুমারের ছোঁড়া থ্রোয়ে। বাংলাদেশের রান ১২.‌৩ ওভারে ৮৭/‌৫। চাপ বাড়ছে বুঝেই সইফ তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং জারি রাখেন। ১৪ ওভারের শেষে বাংলাদেশের রান পৌঁছে যায় ১০২/‌৫। সইফ ৬৩ রানে অপরাজিত।

বরুণ চক্রবর্তীর চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে সইফের ক্যাচ ফেলেন শিবম দুবে। তবে দ্বিতীয় বলে সইফুদ্দিনকে(‌৪)‌ ফেরান বরুণ। এবার তিলক বর্মা ক্যাচ ধরতে কোনও ভুল করেননি। এই ওভারে সইফের ক্যাচ ফসকান এবার উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসন। ম্যাচে ৪০, ৬৫ ও ৬৭ রানে প্রাণ পান সইফ ক্যাচ পড়ায়। অবশ্য অন্যদিকে উইকেট পড়তেই থাকে। কুলদীপের বলে তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রিশাদ হোসেন। শাকিব(‌০)‌ ক্রিজে এলেন আর গেলেন কুলদীপের বলে বোল্ড হয়ে। বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ১১২/‌৮।

ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে এদিন ক্যাচ ফেলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল কিনা কে জানে। নাসুম আমেদের ক্যাচ ফেলার পালা এবার অভিষেকের। উল্টোদিকে উইকেট পড়তে দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সইফ। বুমরাকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ধরা পড়েন সইফ(‌ ৬৯ রান‌)‌। তাঁর ৫১ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ৫টি চার। ১১৬ রানে ৯ উইকেট খুইয়ে বাংলাদেশের নিজেদের হারের লিখন পড়তেই পেরেছিল। তবে তিলক বর্মার বলে কুলদীপ ক্যাচ ফেলে ভারতের জয়টা কয়েকবল পিছিয়ে দেন। শেষপর্যন্ত তিলকের বলে মুস্তাফিজুরের (‌৬)‌ ক্যাচ অক্ষর ধরলে বংলাদেশ অলআউট হয় ১২৭ রানে(‌১৯.‌৩ ওভার)‌। নাসুম অপরাজিত থাকেন ৪ রানে। কুলদীপ ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলিংয়ে।

দুবাইয়ের মাঠে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলে ছিলেন অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল, সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, সঞ্জু স্যামসন, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, যশপ্রীত বুমরা, বরুণ চক্রবর্থী। প্র‌্যাকটিসে চোট পাওয়ায় বাংলাদেশ দলে ছিলেন না লিটন দাস।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *