অলস্পোর্ট ডেস্ক: অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ঝকঝকে শতরানের সৌজন্যে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড এক ম্যাচ বাকি থাকতে। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পকেটে পুরে। পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেট খুইয়ে ১৬৪ রান তোলে। ইংল্যান্ড ৫ বল বাকি থাকতে ১৯.১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করে ম্যাচ জেতে।
বৃষ্টির জন্য নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে সুপার আটের ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় দু’দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগ হয়ে গিয়েছিল। ফলে পাকিস্তানের কাছে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সুপার আটের দ্বিতীয় ম্যাচটা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। জিততেই হত সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুপার আটের শেষ ম্যাচে জিতলেই শুধু হবে না, পাকিস্তানকে অপেক্ষায় থাকতে অন্য ম্যাচের ফল ও নেট রান রেটের ওপর নির্ভর করতে হবে।
পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আগা টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পাকিস্তান ব্যাটারদের মধ্যে শাহিবজাদা ফরহান (৬৩ রান, ৪৫ বল), বাবর আজম ( ২৫ রান, ২৪ বল), ফকর জামান(২৫ রান, ১৬ বল), শাদাব খান(২৩ রান, ১১ বল) ছাড়া আর কেউ ২ অঙ্কের স্কোরে পৌঁছতে পারেননি। বাবর ও ফরহানের জুটি উইকেটে থাকার সময় মনে হয়েছিল, পাকিস্তান বড় রানের টার্গেট খাড়া করতে পারে। অন্তত ১৭৫ থেকে ১৮০। কিন্তু সেটা হয়নি নিয়মিত উইকেট খোয়ানোয়। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৪ রানে থেমে যায় পাকিস্তান। লিয়াম ডসন ২৪ রানে ৩, জো আর্চার ৩২ রানে ২, ও ওভার্টন ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে রান তাড়া করার তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য দেন।
তবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি। ইংল্যান্ড ইনিংসে আঘাত হানেন পাকিস্তানের পেসার শাহিন আফ্রিদি। তিনি প্রথম বলেই শূণ্য রানে ফিল সল্টকে প্যাভিলিয়ানে ফিরিয়ে দেন। জোস বাটলারের সঙ্গে জুটি বাঁধতে তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের থিংক ট্যাঙ্কের নেওয়া। ব্রুক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করলেও, উল্টোদিকে ইংল্যান্ডের অন্য দুই ব্যাটার জোস বাটলার(২) ও বেঠেলকে(৮) রানে ফিরিয়ে দিয়ে শাহিন আফ্রিদি পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। ৪.৫ ওভারে ৩৫ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ইংল্যান্ড তখন বেশ চাপে। ৭.১ ওভারের মাথায় ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ব্যান্টনকে(২) আউট করেন স্পিনার উসমান তারিক।
এতে মনে হয়েছিল ম্যাচ ক্রমশ পাকিস্তানের কব্জায় এসে যাচ্ছে। কিন্তু অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ছিলেন অন্য মেজাজে। অকুতভয় মনোভাবে ব্যাট করে পাকিস্তান বোলারদের অনায়াস ভঙ্গিতে খেলে রান বাড়িয়ে নেওয়ার কাজটা করে যান পঞ্চম উইকেটে স্যাম কারেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে। তবে অবিবেচকের মতো উসমান তারিকের বলে শট মেরে মহম্মদ নওয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কারেন(১৬)। ইংল্যান্ডের রান তখন ১০৩-৫। জ্যাকস ব্যাট করতে আসেন। ব্রুক ও জ্যাকস দু’জনে মিলে বুদ্ধিদীপ্ত অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাট করে ইংল্যান্ডকে জয়ের দোড়গোড়ায় নিয়ে যান।
৫০ রানে ১০০ রানের গন্ডি ছুঁয়ে ফেলেন ব্রুক ১০ টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে। শাহিন আফ্রিদির চতুর্থ ও শেষ ওভারে ৯০ থেকে ১০০য় পৌঁছন ব্রুক একটি চার ও ছক্কা মেরে। শাহিনের ওভারের শেষ বলে ইয়র্কারে ধোঁকা খেয়ে ব্রুক যখন আউট হন, তখন ইংল্যান্ডের রান ১৭ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান। শাহিনের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪-৩০।
উইকেটে তখনও ছিলেন জ্যাকস। জেতার জন্য ইংল্যান্ডের তখন আর দরকার ছিল ১৮ বলে ১০ রান। কিন্তু সেই সহজ কাজটা হঠাৎই কঠিন করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। ১৯ তম ওভারে স্পিনার নওয়াজের বোলিংয়ে দ্রুত জয় তোলার আশায় ব্যাট চালাতে গিয়ে প্রথমে জ্যাকস(২৮ রান, ২৩ বল) ও শূণ্য রানে ওভার্টন আউট হওয়ায়। ১৮.৫ ওভারে ইংল্যান্ডের রান দাঁড়ায় ১৬১-৮। জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪ রান। নওয়াজের ওভারের শেষ বলে জো আর্চার ১ রান নেন। ২০ তম ওভারে মিরজার করা প্রথম বলটাই বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয় এনে দিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি ও উল্লাস এনে দেন আর্চার। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাহিন ছাড়া ২টি করে উইকেট পান উসমান তারিক ও মহম্মদ নওয়াজ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
