Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেললে কী হয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পেল লক্ষ্মীরতনের বাংলা ক্রিকেট দল। সেমিফাইনালে প্রথম ইনিংসে ২৬ রানের লিড নিয়ে যে ম্যাচটা অনায়াসে জিতে রনজি ট্রফি এলিটের ফাইনালে যেতে পারত বাংলা, সেই জয়টা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এল কল্যানীর মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে হারিকিরির মেজাজে ব্যাট করে ৯৯ রানে আউট হয়ে। জয়ের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১২৬ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩৪.‌৪ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট খুইয়ে সেই রান তুলে নিয়ে ৬ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় হাসিল করে রনজি ট্রফি এলিটের ফাইনালে গেল জন্মু ও কাশ্মীর।

প্রথম ইনিংসে বাংলার রান ছিল ৩২৮। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস ৩০২ রানে আটকে রাখতে সফল হয়েছিলেন বাংলার বোলাররা। মূলত মহম্মদ শামির ৮ উইকেটের সুবাদে। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে ব্যর্থ হল বাংলার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে অবিবেচকের মতো উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে। ৯৯ রানে অলআউট হয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে ফাইনালটা উপহার দিলেন লক্ষ্মীর ক্রিকেটাররা। কর্নাটকের বিরুদ্ধে ২৪-‌২৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে মুখোমুখি হবে জম্মু ও কাশ্মীর।

দু’‌বারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাকে হারিয়ে ৬৭ বছরে প্রথমবার ফাইনালে উঠল জম্মু ও কাশ্মীর। এর জন্য ম্যাচের সেরা বোলার আকিব নবির ৯ উইকেট নেওয়ার অবদান আছে। তেমন বাংলার ১২৬ রান তাড়া করতে নেমে গতদিনের শেষে ৪৩ রানে ২ উইকেট তুলেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। বুধবার সকালে শুভম পুন্ডিরকে(‌২৭)‌ মহম্মদ শামি(‌১-‌২৪)‌ ও পারস ডোগরাকে আকাশদীপ(‌৩-‌৪৬)‌ দ্রুত প্যাভিলিয়ানে ফিরিয়ে দিলে বাংলা শিবিরে আশার সঞ্চার হয়েছিল।

কিন্তু ভনসজ শর্মার সঙ্গে জুটি বেঁধে চতুর্থ উইকেটে ৫৫ রান যোগ করে মারমুখী মেজাজে বাংলার জেতার আশায় জল ঢেলে দেন আবদুল সামাদ। ভনসজ শর্মা অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে(‌ ৮৩ বল, ৪টি বাউন্ডারি)‌। সামাদ অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে(‌ ২৭ বল, ৩টি ওভারবাউন্ডারি, ১টি বাউন্ডারি)‌। আকাশদীপের ওভারে ১৮ রান নেওয়া ছাড়াও শাহবাজেপ বলেও ছক্কা মারতে দ্বিধা করেননি। মুকেশ কুমারের বলে ওভারবাউন্ডারি মেরে ভনসজ জয় এনে দিতেই জম্মু ও কাশ্মীর উল্লাসে ফেটে পড়ে।

জম্মু ও কাশ্মীরের ৪১ বছরের অধিনায়ক পারস ডোগরার কাছে এই জয় দলগত সংহতির ফসল। ২৪ বছরের ক্রিকেট জীবনে হিমাচল প্রদেশ, পন্ডিচেরির পর এখন জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে খেলে ওয়াসিম জাফরের পর তিনিই হলেন দ্বিতীয় ক্রিকেটার যিনি রনজি ম্যাচে ১০ হাজার রান করেছেন। বাংলার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে সামাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৪৩ রান যোগ করে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের মধ্যে হার না মানা মনোভাবটা বজায় রেখেছিলেন ডোগরা। এই জয় তারই পরিণতি। রনজি ফাইনালে ওঠাটা তাঁর জীবনের সেরা প্রাপ্তি মনে করেছেন তিনি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *