বেঙ্গালুরুকে হারাল কলকাতা। ছবি সৌজন্যে ট্যুইটার
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ টানা চার ম্যাচে হারের পর জিতল কলকাতা। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে ২০০-৫ তোলে কলকাতা। জবাবে কলকাতার বোলারদের দাপটে ১৭৯-৮ শেষ আরসিবি। ব্যাটারদের ব্যর্থতাই ডোবাল আরসিবিকে। কোহলি বাদে বাকি ব্যাটাররা কেউই খেলতে পারলেন না।
এই মরসুমে আরসিবির মোট রানে প্রায় ৭৯ শতাংশ করেছেন তিন জন। তাঁরা হলেন ফাফ ডুপ্লেসি, কোহলি এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৯০০-রও বেশি। শুরুটাও ডুপ্লেসি এবং কোহলি সে রকমই করেছিলেন। বৈভব অরোরা প্রথম ওভারে খেলেন ১০ রান। উমেশ যাদবের পরের ওভারে উঠল ১৯। মনে হচ্ছিল ১৫ ওভারেই দুশো রান তাড়া করে নেবে আরসিবি।
খেলা ঘুরল তার পরেই। উপায় না দেখে তৃতীয় ওভারেই সুযশ শর্মাকে নিয়ে এলেন নীতীশ। দ্বিতীয় বলেই সুযশকে ছয় মারতে গিয়ে রিঙ্কু সিংহের হাতে ক্যাচ দিলেন ডুপ্লেসি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের জায়গায় শাহবাজ আহমেদকে নামিয়ে ফাটকা খেলতে চেয়েছিল আরসিবি। তা কাজে লাগল না। বলের মতো ব্যাটেও ব্যর্থ শাহবাজ (২)।
বড় ম্যাচে হতাশ করলেন ম্যাক্সওয়েল। তাঁকেও তুলে নিয়ে সুযশ। স্লো বল করেছিলেন। কভারে ক্যাচ নিলেন ডেভিড উইজা। একাই আরসিবির হয়ে রান তাড়া করছিলেন কোহলি। সঙ্গী পেয়েছিলেন মহিপাল লোমরোরকে। কেকেআরের স্পিনারদের আক্রমণ করে বেশ সাফল্য পাচ্ছিলেন মহিপাল। অন্য দিকে, কোহলিও খেলছিলেন ভালই। দু’টি উইকেটই গেল পর পর। বরুণের বলে সুইপ করে ছয় মারতে গিয়ে ফিরলেন মহিপাল। তার পরের ওভারেই কোহলিকে দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরালেন বেঙ্কটেশ। বেঙ্গালুরুর কাছে জেতার মতো আর কোনও রসদ ছিল না।
কেকেআরের ব্যাটিংও প্রথম দিকে খুব ভাল হয়নি। আগে ব্যাট করলে পাওয়ার প্লে-তে বড় রান তুলতে হবে, এটাই আইপিএলে যে কোনও দলের মূল কথা। বিশেষত যদি ম্যাচ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হয় তা হলে রানের পরিমাণ অনেকটাই বেশি হতে পারে। কিন্তু কলকাতা ৬৬ রানের বেশি তুলতে পারল না। তার পিছনে দায়ী ওপেনার নারায়ণ জগদীশন।
প্রথম তিন ওভারে কলকাতার খুব বেশি রান ওঠেনি। কিন্তু চতুর্থ ওভার থেকেই চালাতে শুরু করেন জেসন রয়। ডেভিড উইলির সেই ওভারে ওঠে ১৭ রান। ষষ্ঠ ওভারে শাহবাজ আহমেদকে চারটি ছয় এবং একটি চার মারেন জেসন। সেই ওভার থেকে পাওয়া যায় ২৫। হলে কী হবে, উল্টো দিকে নারায়ণ ব্যাটে-বলে করতেই পারছিলেন না।
পর পর দু’টি উইকেট চলে যাওয়ায় চাপে পড়েছিল কলকাতা। কিন্তু চাপ কাটিয়ে দিলেন বেঙ্কটেশ আয়ার এবং নীতীশ রানার জুটি। দু’জনের জুটি ৮০ রান উঠে গেল। কিন্তু রান তোলার গতি অনেকটাই কমে গেল। নীতীশ তবু একটু হাত খুলে খেলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বেঙ্কটেশ আদ্যোপান্ত ব্যাক ফুটের ক্রিকেটার। তাঁকে অন্য রকম বল দিলেই আর কিছু করতে পারেন না। ফলে কোনও ভাবেই রানের গতি উঠল না। কোনও রকমে খুচরো রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন নীতীশ-বেঙ্কটেশ জুটি। দু’জনের জুটি চলল ১৮তম ওভার পর্যন্ত। পরের দিকে নেমে রিঙ্কু সিংহ এবং ডেভিড উইজা আগ্রাসী ক্রিকেট খেললেন। তাঁরা যদি আরও কয়েকটা বল পেতেন, তা হলে নিঃসন্দেহে আরও বেশি রান উঠতে পারত।
