অলস্পোর্ট ডেস্ক: এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট যুদ্ধের সময় যত এগিয়ে আসছে, তত টেনশন বাড়ছে দু’দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। ভারতীয়দের একাংশ পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ খেলা নিয়ে একেবারেই খুশি নয়। বিভিন্ন মহল থেকে ম্যাচ বয়কটের ডাক দেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকারের তরফে বহু জাতিক দেশের অংশগ্রহণের সম্মতি থাকলেও, সেটা পাকিস্তানের মাটিতে কখনও নয়। স্বাভাবিকভাবেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হচ্ছে রবিবার, দুবাইতে। এতে আবার মানে লেগেছে পাকিস্তানের। তারা পাল্টা বহু জাতিক দেশের টুর্নামেন্ট হলেও রাজগিরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকিতে অংশ নেয়নি। সবমিলিয়ে দু’দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও একটা চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রেকর্ড খুব খারাপ। বিশেষ করে এসিসি ও আইসিসি ইভেন্টে। গত ৫০ বছরে একবারই মাত্র ভারতের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর মাঠে। কেন ভারতের কাছে পাকিস্তান বারবার হারে? তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, ‘ ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সময় আবেগ ও উত্তেজনা বেশি দেখিয়ে ফেলে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ম্যাচের শুরু থেকেই। এর ফলে পারফরমেন্সের ভারসাম্যটাই নষ্ট করে ফেলে আমাদের খেলোয়াড়রা। সেখানে ভারতীয় ক্রিকেটাররা পিচ ও ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলে আর ম্যাচ জেতে।’
লতিফ মনে করেন ভারতের সঙ্গে তিনবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেটাররা সফল হতে গেলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। সঙ্গে মাঠে নেমেই বাড়তি কিছু করে দেখানোর জোসটা। জোস দেখাতে গিয়ে হোস বা হুঁশ খোয়ালে চলবে না। ভুললে চলবে না, ভারতীয় ক্রিকেটারদের এই ধরনের লড়াই জেতার অভিজ্ঞতা আছে বারবার। তাই ওরা স্নায়ুচাপে ভোগে না। সঙ্গে রয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার মতো ফিনিশার। ভারসাম্য জোগানোর জন্য সূর্যকুমার যাদব, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনের মতো ক্রিকেটার। আর যশপ্রীত বুমরার নিখুঁত স্ট্রাইক বোলার।
লতিফের ভাষায়, ‘ হার্দিককে ভারতীয় দলের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ বলা হয়। কারণ একবার দুবার নয়, একাধিকবার পরের দিকে ব্যাট করতে নেমে দলকে জিততে সাহায্য করেছে। বুমরা ভারতীয় দলের বোলিং অ্যাসেট। ম্যাচ উইনার বললে ভুল হবে না। টি২০ ক্রিকেটে নিখুঁত বোলিং করে উইকেট তুলে নেওয়াটা একটা আর্ট। বুমরার সেটা আছে। আর পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল গত ৩০ বছর ধরে ভাল দল নিয়েও ভারতের বিরুদ্ধে একবার ছাড়া না জেতার আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। এই মানসিকতা ছেড়ে বেরোতে না পারলে জেতা খুব মুশকিল।’
ভারতীয় দলে তাহলে দুর্বলতা বলে কি কিছুই নেই? লতিফ জানিয়েছেন, ‘ সম্প্রতি বেশি টি২০ ম্যাচ না খেলার একটা ঘাটতি ভারতীয় দলের মধ্যে রয়েছে। ভারত প্রস্তুতি ম্যাচ বা নেট প্র্যাকটিসে মন দিলেও, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেনি। এটা একটা ডিসঅ্যাডভান্টেশ হতে পারে ভারতীয়দের জন্য। সেখানে পাকিস্তান একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে এসেছে ঝামেলার স্পিনিং পিচে। আর আমাদের দলে নতুন মুখ খুব কম। তিনজন নতুন ক্রিকেটার। অধিনায়ক সলমন আলি আগা, সেলিম আয়ুব, আর হাসান নওয়াজ। বাকিরা ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২১ সালের দলের সঙ্গে ছিল। সাহিবজাদা ফারহান পাকিস্তানের চমক হতে পারে। গত তিন চারবছর ধরে টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান রয়েছে ওর ব্যাটে। একবার যদি উইকেটে টিঁকে যায়, তাহলে ওর ব্যাটে বড় রান আসবে। আর নবীন হাসান নওয়াজের ব্যাট ভারতের বিরুদ্ধে ঝলসে উঠতে পারে। ডাকাবুকো ব্যাটার। খারাপ বলের জন্য অপেক্ষা করে না। ভাল বলকেও অ্যাটাক করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
