অলস্পোর্ট ডেস্ক: রঞ্জি ট্রফি ২০২৪ ফাইনালের শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পটভূমি। দুই দলেই সব তাবড় ক্রিকেটাররা ততদিনে যোগ দিয়েছেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে মুম্বইয়ের পাল্লা ভাড়ি ছিল অনেকটাই বেশি। কে নেই এই মুম্বই দলে? পৃথ্বি শ, অজিঙ্ক রাহানে, শ্রেয়াস আইয়ার, শার্দূল ঠাকুরের মতো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলা নাম। অন্যদিকে নিজেদের প্রমান করতে সমানে সমানে লড়লেন মুশির খানের মতো নবাগতরা। সব মিলে শুরু থেকেই কিছুটা মানসিকভাবে এগিয়ে গিয়েছিল মুম্বই। কিন্তু পিছিয়ে ছিল না বিদর্ভও। তাদের দলেও করুণ নায়ার, উমেশ যাদবের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে সাফল্য পাওয়া ক্রিকেটাররা ছিলেন। এই অবস্থায় টস জিতে প্রথমে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিদর্ভ। কিন্তু শেষ হাসি হাসল মুম্বই। ৪২তম রঞ্জি ট্রফি তুলে নিল বিদর্ভকে ১৬৯ রানে হারিয়ে।
প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ২২৪ রানে শেষ হয়ে যায় মুম্বইয়ের ব্যাটিং। পৃথ্বি শ ৪৬, ভূপেন লালওয়ানি ৩৭, মুশির খান ৬, অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ৭, শ্রেয়াস আইয়ার ৭, হার্দিক তামোর ৫, শামস মুলানি ১৩, শার্দূল ঠাকুর ৭৫, তনুশ কোটিয়ান ৮, তুষার দেশপাণ্ডে ১৪ রান করে আউট হন। ব্যাট হাতে তেমনভাবে ভরসা দিতে পারেননি কেউই। একমাত্র কিছুটা লড়াই দেন শার্দূল। ৬৪.৩ ওভারই ব্যাট করতে পারে মুম্বই।
বিদর্ভের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন হর্ষ দুবে ও যশ ঠাকুর। দুই উইকেট নেন উমেশ যাদব। একটি উইকেট নেন আদিত্য ঠাকরে। জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আরও খারাপ অবস্থা হয় বিদর্ভের। মাত্র ১০৫ রানেই অলআউট হয়ে যায়। অথর্ভ তাইদে ২৩, ধ্রুব শোরে ০, অমন মোখাদে ৮, করুণ নায়ার ০, আদিত্য ঠাকরে ১৯, যশ রাঠৌর ২৭, অধিনায়ক অক্ষয় ওয়াদকর ৫, হর্ষ দুবে ১, যশ ঠাকুর ১৬, উমেশ যাদব ২ রান করে আউট হন।
মুম্বইয়ের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন ধবল কুলকার্নি, শামস মুলানি ও তনুশ কোটিয়ান। একটি উইকেট নেন শার্দূল ঠাকুর। ব্যাটে-বলে ভরসা দেন একমাত্র তিনি। প্রথম ইনিংসে মুম্বই ব্যাটিংয়ের খারাপ প্রদর্শনের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় দল। আসে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি। অপ্লের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন শ্রেয়াস। এর আগে চোটের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল শ্রেয়াসকে। খেলতে পারেননি ইংল্যান্ড সিরিজও। শেষ পর্যন্ত প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে প্রমান করার পথে হাঁটতেই হয়েছে তাঁকে।
দ্বিতীয় ইনিংসে মুম্বইয়ের হয়ে পৃথ্বী শ ১১, ভূপেন লালওয়ানি ১৮, মুশির খান ১৩৬, অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ৭৩, শ্রেয়াস আইয়ার ৯৫, হার্দিক তামোর ৫, শামস মুলানি অপরাজিত ৫০, শার্দূল ঠাকুর ০, তনুশ কোটিয়ান ১৩, তুষার দেশপাণ্ডে ২ ও ধবল কুলকার্নী ০ রানে আউট হন। ১৩০.২ ওবার ব্যাট করে ৪১৮ রান তোলে মুম্বই। বিদর্ভের হয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেনহর্ষ দুবে। তিন উইকেট নেন যশ ঠাকুর। একটি করে উইকেট নেন আদিত্য ঠাকরে ও অমন মোখাডে।
বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বিদর্ভ। হাতে ছিল অনেকটাই সময়। তৃতীয় দিন ১০ রানে কোনও উইকেট না হারিয়ে থেমেছিল বিদর্ভ। হাতে ছিল পুরো দুই দিন। ৫৩৭ রানের লক্ষ্যটাও নেহাৎই কম ছিল না। তবে লড়াই দেন বিদর্ভে ব্যাটাররা। অথর্ভ তাইদে ৩২, ধ্রুব শোরে ২৮, অমন মোখাদে ৩২, করুণ নায়ার ৭৪, যশ রাঠৌর ৭ রান করে আউট হন। এর পর বিদর্ভ ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন অক্ষয় ওয়াদকার। চতুর্থ দিনের শেষে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন হর্ষ দুবে।
২৫৮-৫ নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করে বিদর্ভ। জিততে হলে তখনও বাকি ২৯০ রান। আর হাতে রয়েছে পাঁচ উইকেট। ২২৩-৫ থেকে বিদর্ভের ষষ্ঠ উইকেট পড়ে ৩৫৩ রানে। ততক্ষণে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেলেছেন অধিনায়ক অক্ষয় ওয়াদকর। ১৯৯ বলে ১০২ রান করেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত হর্ষ দুবের। ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু এই দু’জন আউট হতেই ভেঙে পড়ে বিদর্ভের ব্যাটিং। আদিত্য সারওয়াতে ৩, যশ ঠাকুর ৬, উমেশ যাদব ৬ রান করে আউট হন। ৩৬৮ রানে অলআউট হয়ে যায় বিদর্ভ। মুম্বইয়ের হয়ে চার উইকেট নেন তনুশ কোটিয়ান। দুটো করে উইকেট নেন তুষার দেশপাণ্ডে ও মুশির খান। একটি করে উইকেট নেন শামস মুলানি ও ধবল কুলকার্নী।
ম্যাচের সেরা হয়েছেন মুশির খান ও সিরিজের সেরা হয়েছেন তনুশ কোটিয়ান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
