অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্থের খেলোয়াড়ী দক্ষতার কথা সকলেরই জানা। ইংল্যান্ড সিরিজে চিড় ধরা পায়ে ম্যাচ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া কাহিনীও। কিন্তু ঋষভ পন্থের মানবিক দিকটার কথা ক’জনের জানা। তাঁদের অবগতির জন্য জানাই, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা কর্নাটকের এক মেয়ে জ্যোতি কানাবুর মঠের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন জারি রাখতে বিসিএ কোর্সে ভর্তির জন্য ফি বাবদ ৪০ হাজার টাকা কলেজে জমা করেছেন পন্থ।
বাগালকোট জেলা, বিলাগি তালুক, রাবাকভি গ্রামের নিম্মবিত্ত পরিবারের মেয়ে জ্যোতি ১২ ক্লাসের পরীক্ষায় ৮৩ পারসেন্ট নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তার স্বপ্ন ছিল কমপিউটার অ্যাপ্লিকেশন(বিসিএ) নিয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু জ্যোতির বাবা তীর্থায়া ও মা রূপার পক্ষে বিসিএ কোর্সে মেয়েকে ভর্তি করার মতো ফি দেওয়ার আর্থিক সামর্থ ছিল না। কারণ পরিবারের আয় যে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। স্থানীয় গালাগলি গ্রামে অবস্থিত নিউ ইংলিশ কলেজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে প্রিইউনিভার্সিটি শিক্ষা শেষ করে জ্যোতি বিসিএ কোর্সে পড়ার আগ্রহ দেখালে গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে কলেজ ভর্তির ফি ধার নেন বাবা। জামখন্ডির বিজাপুর লিঙ্গায়ত এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন আর্টস অ্যান্ড টিজিপি সায়েন্স কলেজে ফি জমাও করেন।
টাকা ধার নেওয়ার আগে জ্যোতির পরিবার তাঁদের এক শুভাকাঙ্খী ও ঠিকাদার অনিল হুনাসিমাত্তির কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রথমে অনিল যোগাযোগ করতে বলেছিলেন, ক্রিকেটার কেএল রাহুলের সঙ্গে। ভারতীয় দলের এই ক্রিকেটার ধারওয়াডে একজন শিক্ষার্থীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য অনিল নিজেই এমন একজনের সঙ্গে কথা বলেন, যাঁর সঙ্গে ঋষভ পন্থের ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তাঁর মুখে পন্থ শোনেন জ্যোতির সমস্যার কথা। তারপরই পন্থের ম্যানেজার জামখন্ডি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। আর জ্যোতির ভর্তির জন্য দরকার ৪০ হাজার টাকা পুরোটাই জমা করেন কলেজে। জ্যোতির পরিবার প্রথমে এটা জানত না। পরে যখন কলেজ কর্তা শ্রীকান্ত লাগালি জানান জ্যোতির পরিবারকে, তাঁরা একবার নয়, দু’বার মিলিয়ে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা জমা করেছে ভর্তি ফি বাবাদ, তখন জানা যায় ঋষভ পন্থ ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন জ্যোতির বাবাকে ধারের হাত থেকে বাঁচাতে।
ঋষভ পন্থের এই সাহায্যে অভিভূত জ্যোতি। বলেছে, আমার স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষার। বিসিএ করার। কিন্তু বাড়ির আর্থিক অনটনের কারণে সেই স্বপ্ন অধরা থেকে যেতে পারত। তাই আমি অনিল আন্নাক কাছে আমার অসহয়তার কথা বলেছিলাম। উনি বেঙ্গালুরুর এক বন্ধুর মারফত পন্থ স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কলেজ ভর্তির ফি জোগাড় করে দিয়েছেন। অনিল আন্না ও পন্থের স্যারের কাছে তার জন্য সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। বাবাকে ৪০ হাজার টাকা দেনা শোধ করার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আমি উচ্চশিক্ষিত হয়ে ওঁদের এই সাহায্য সার্থক করতে বদ্ধপরিকর।
কলেজ কর্তৃপক্ষও ঋষভ পন্থকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছে, আপনার মতো একজন তারকার ক্রিকেটারের এই উদার মানসিকতা একজন ছাত্রীর উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পথ সুগম করেছে। জ্যোতির প্রথম সেমিস্টারের টাকা জমা দিয়ে যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন, তা সত্যি সমাজের কাছে একটা দৃষ্টান্ত। জানি, আপনি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও এমনভাবে দাঁড়াবেন।
সত্যি তো সমাজের সর্বস্তরে ঋষভ পন্থের মতো প্রতিষ্ঠিত মানুষরা যদি এভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে জ্যোতির মতো এমন অনেকের উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার অধরা স্বপ্নপূরণ হবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
